Logo
মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১ | ৩০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শ্রীপুরে ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশের অস্ত্র-গুলি ছিনতাই, দুই পুলিশসহ আহত-৮

প্রকাশের সময়: ৫:১২ অপরাহ্ণ - শনিবার | সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০
তৃতীয় মাত্রা
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের নোয়াপাড়া এলাকায় শুক্রবার রাতে এক আদম ব্যবসায়িকে উদ্ধার করতে গিয়ে জনতার হামলায় দুই পুলিশ ও এক আনসার সদস্য ছাড়াও আদম ব্যবসায়িসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। এসময় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের শর্টগান ও গুলি ছিনিয়ের নেয়ারও অভিযোগ করেছে পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে পাঁচ হামলাকারীকে আটক এবং অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন, শেরপুর জেলার কালিগঞ্জের দমদমা গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের মেয়ে রুশমি আরা, শ্রীপুর উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের নাজমুল হোসেন রকির স্ত্রী মনিশা মনি, একই উপজেলার দিঘিপাড়া নয়নপুর গ্রামের আফসার উদ্দিনের ছেলে ফরহাদ, নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার লাফুয়া গ্রামের জাফর মোল্ল্যার ছেলে তাজুল ইসলাম মোল্ল্যা ও ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ গ্রামের সোলাইমানের ছেলে আব্দুর রহমান।
হামলার শিকার কুমিল্লার দেবীদ্বার থানার নবিয়া গ্রামের আবুল হোসেন জানান, তিনি ঢাকার পুরানো পল্টন এলাকার ’রাখা ইন্টারন্যাশনাল’এর মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। লাইসেন্সধারী এ প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন দেশে বৈধভাবে লোক পাঠানো হয়। এবছরের ফেব্রয়ারিতে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি নোয়াপাড়া এলাকার ইসমাইল হোসেন ও শাহদত হোসেন নামের দুইজনকে দুবাই পাঠানো জন্য তাদের কাছ থেকে দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা নেয়া হয়। তাদের কাগজপত্র প্রক্রিয়া করতে গিয়ে করোনাকালীণ লকডাউনে পড়ে যান তারা। এতে করে তাদের আর বিদেশ পাঠানো সম্ভব হয়নি। এমতাবস্থায় ইসমাইল হোসেন তাদের জমা দেয়া টাকা ফেরত দিতে বলেন। পরে এপ্রিলে ইসমাইলকে ৫০হাজার টাকা বিকাশ করে ফেরত পাঠানো হয়। পরে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ফোন করে ইসমাইল আমাকে তার গ্রামের বাড়িতে দাওয়াত দেন এবং আরো লোকজনকে বিদেশ পাঠানোর জন্য আলোচনা করার প্রস্তাব দেন। দাওয়াত পেয়ে বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে তিনি (আবুল হোসেন) ও তার অপর বন্ধু মো: ফয়সাল আহমেদকে নিয়ে শ্রীপুরের নোয়াপাড়া ইসমাইলের বাসায় যাই। পরে ইসমাইল তার ঘরের ভেতর আমাদের খাওয়া-দাওয়া সেরে দরজা আটকে দিয়ে তার স্ত্রী শারমিন আক্তার রিমা, ও শ্বশুর-শাশুড়িসহ কয়েকজন নানা ভয়-ভীতি দেখিয়ে একটি সাদা স্টাম্পে আমাকে ৩০০টাকা মূল্যের স্বাক্ষর নেয় এবং তারা আমার সঙ্গে থাকা দুইটি মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে যায়। পরে ওই স্ট্যাম্পে ইসমাইল আমার কাছে ৫ লাখ টাকা পাবেন বলে লিখে এনে আমাকে ওইদিনই পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধ করার জন্য চাপ দেয়। বিষয়টি জানিয়ে আমার সহকর্মী মো: ফয়সালকে খবর দিলে পরদিন শুক্রবার রাত ৮টায় ফয়সাল, তার বন্ধু ওমর বেপারী, মো: কালাম ও মাসুমকে সঙ্গে নিয়ে ইসমাইলের বাড়িতে পৌঁছান। মাসুম ছাড়া অন্যরা ওই ঘরে ঢুকেন। তারপর ঘরের দরজা আটকে স্ট্যাম্প দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করে ইসমাইল ও তার লোকজন। একপর্যায়ে টাকা না পেয়ে তাদের উপর হামলা করে। মাসুম বাইরে থেকে টের পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানায়।
শ্রীপুর থানার ওসি খন্দোকার ইমাম হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে শ্রীপুর থানার টহল পুলিশের এসআই মো: রফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল খোরশেদ আলম ও এক অনসার সদস্য ইসমাইলের বাড়িতে যান। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে ইসমাইল ও তার লোকজন অতর্কিতে পুলিশের উপরও হামলা চালায় এবং পুলিশের সঙ্গে থাকা শর্টগান ও পিস্তলের গুলিভর্তি ম্যাগজিন ছিনিয়ে নেয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দুই মহিলাসহ ৫ জনকে আটক এবং অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করা হয়। আহত পুলিশকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানায় মারামারি ও অস্ত্র আইনে দুইটি মামলা হয়েছে। মামলায় ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।  মূল হামলাকারী ইসমাইলসহ অন্যরা পলাতক রয়েছে। ফলে তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
Read previous post:
সৈয়দপুরে স্বেচ্ছা সেবক লীগের মানববন্ধন

তৃতীয় মাত্রা আমিরুল হক, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: নীলফামারীর সৈয়দপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ উপজেলা কমিটির একাংশ মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে। বিএনপি...

Close

উপরে