Logo
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

জামাইয়ের স্বীকারোক্তিতে মেয়ের লাশ পেলেন বাবা

প্রকাশের সময়: ৩:২৯ অপরাহ্ণ - বুধবার | সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

স্বামীর বাড়ি থেকে নিখোঁজের প্রায় দুই মাস পর আবাদি জমির মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়েছে হোসনা বেগম (২৪) নামে এক গৃহবধূর লাশ। মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের সন্তোষপুর আকন্দপাড়া থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ সময় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হোসনার স্বামী আনারুল উপস্থিত ছিলেন। বুধবার হোসনা বেগমের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এর আগে গত ২৮ আগস্ট মিঠাপুকুর থানায় হোসনার স্বামী আনারুল হক ও তার মা আনোয়ারা বেগমের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন হোসনার বাবা হাসমত আলী। হোসনার বাবার বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নে।

গত ২৮ জুলাই বাবার বাড়ি থেকে হোসনা স্বামীর বাড়িতে গিয়ে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে পুলিশ এ নিয়ে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে। অবশেষে কালো কাপড় দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতের পরিবারের দাবি, পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে আনারুল হক পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী হোসনাকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ মাটিচাপা দেয়।

পরিবার ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বদরগঞ্জ উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের হাসমত আলীর মেয়ে হোসনা বেগম। প্রায় দেড় বছর আগে মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়া মাসিমপুর গ্রামের আকমল হোসেনের ছেলে আনারুলের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় তার। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই হোসনার ওপর নেমে আসে নানা অত্যাচার। কথায় কথায় মারধর করতো আনারুল। গত ছয় মাস আগে হোসনা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে কিলঘুষিতে হোসনার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়।

গত ২৮ জুলাই বাবার বাড়ি থেকে হোসনা স্বামীর বাড়িতে যান। এর পর থেকে হোসনার সঙ্গে বাবার বাড়ির লোকজন যোগাযোগ করতে পারছিল না। গত ২৬ আগস্ট বদরগঞ্জ থেকে মেয়ের খোঁজে জামাইয়ের বাড়িতে যান হোসনার বাবা হাসমত আলী। বাড়িতে গিয়ে দেখেন গোটা বাড়িতে তালা মারা। কোথাও বাড়ির লোকজন নেই। জামাই আনারুলের মোবাইল ফোনও ছিল বন্ধ। পরে পাশের বাড়িতে আনারুলের মা আনোয়ারা বেগমের খোঁজ মেলে।

হোসনা কোথায় জানতে চাইলে সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি আনোয়ারা। পরে সন্দেহ হলে আশপাশের লোকজনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন কিছুদিন আগে হোসনাকে বেদম মারপিট করা হলে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর থেকে আর তাকে ওই বাড়িতে দেখা যায়নি।

এতে হাসমত আলীর সন্দেহ হয়। মেয়ের সন্ধান পেতে হাসমত আলী ওই এলাকার ইউপি মেম্বার সাজু মিয়ার মাধ্যমে সেখানে সালিশ বৈঠক ডাকেন। কিন্তু ওই সালিশ বৈঠকে আনারুল ও তার মা আনোয়ারা বেগম হাজির হননি। এ ঘটনায় ২৬ আগস্ট মিঠাপুকুর থানায় জামাই ও তার মায়ের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন হাসমত আলী।

হাসমত আলী বলেন, ‘মেয়ের সুখের জন্য বিয়েতে প্রায় ৮০ হাজার টাকা যৌতুক দিই। এরপরও মেয়েটাকে তাড়ানোর জন্য আনারুল অত্যাচার-নির্যাতন শুরু করে। এখন মেয়ের মাটিচাপা লাশ পেলাম। আমি ঘাতক জামাই ও তার মায়ের ফাঁসি চাই।’

ওই এলাকার ইউপি সদস্য সাজু মিয়া লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আনারুলের বাড়ি সংলগ্ন কবরস্থানের পাশে আবাদি জমির গর্ত থেকে হোসনার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।’

মিঠাপুকুর থানার উপপরিদর্শক তদন্তকারী কর্মকর্তা আজাদ মিয়া বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত শুরু করা হয়। কিন্তু ঘাতক আনারুল এতদিন পলাতক ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাশের নবাবগঞ্জ উপজেলায় আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মধ্যরাতে আবাদি জমির গর্ত খুঁড়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

মিঠাপুকুর থানার ওসি আমিরুজ্জামান জানান, ঘাতক আনারুলকে গ্রেফতার করার পর তার উপস্থিতিতে লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রংপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরো কেউ জড়িত থাকলে তাদের গ্রেফতার করা হবে।

 

Read previous post:
অগ্নিকান্ড নিবারণে নান্দাইলে ফায়ার সার্ভিসের মহড়া প্রদর্শন

তৃতীয় মাত্রা মো: আমিনুল ইসলাম আশিক: নান্দাইল (ময়মনসিংহ)  প্রতিনিধি :ময়মনসিংহ নান্দাইলে অগ্নিকান্ড নিবারণে জনগনের মাঝে গণসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কৌশলের...

Close

উপরে