Logo
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই ২৯% নারী পোশাক কর্মীর

প্রকাশের সময়: ২:১২ অপরাহ্ণ - বুধবার | সেপ্টেম্বর ৯, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

দেশের সবচেয়ে শ্রমঘন পোশাক খাত। এ খাতে এখনো নারী কর্মীর আধিক্যই বেশি। যদিও গত এক দশকে খাতটিতে নারীর আনুপাতিক অংশগ্রহণ কমেছে। আবার পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকায় এসব নারী কর্মীর অনেকেরই পেশাগত উন্নয়ন হচ্ছে না। সম্প্রতি আইএলও এবং ইউএন উইমেন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২৯ শতাংশ নারী পোশাক কর্মী প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় ছিলেন না।

‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং দ্য জেন্ডার কম্পোজিশন অ্যান্ড এক্সপেরিয়েন্স অব রেডিমেড গার্মেন্ট (আরএমজি) ওয়ার্কার্স ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সমীক্ষাটি কানাডা সরকার, যুক্তরাজ্য সরকারের দাতা সংস্থা ডিএফআইডি ও নেদারল্যান্ডস সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় করা হয়েছে। সমীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল সময়ে পোশাক খাতে নারী কর্মীদের অংশগ্রহণ কমেছে। নারী-পুরুষ মিলিয়ে ৭০ শতাংশের বেশি পোশাক কর্মী তরুণ, যাদের সর্বোচ্চ ২৯ বছর বয়সের। এ কর্মীদের অর্ধেকের কোনো শিক্ষাগত অর্জন নেই বা কম। বেশির ভাগ কর্মী বিশেষ নারীদের প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান পোশাক খাতে। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারী বিবাহিত, আবার পুরুষদের মধ্যে অর্ধেকের কিছু বেশি কর্মী বিবাহিত।

সমীক্ষা অনুযায়ী, পোশাক খাতের নারী কর্মীরা মূলত নিম্নআয়ের গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত। পোশাক কারখানায় ব্যবস্থাপনা এবং নেতৃত্ব স্থানীয় পদগুলোতে নারী অংশগ্রহণ পরিস্থিতি উন্নত হয়নি। কারখানার উচ্চ পদগুলোতে নারী কর্মীদের শিক্ষার হার পুরুষদের চেয়ে ভালো। প্রতি দুজন পোশাক কর্মীর একজন তাদের কাজের সুরক্ষা নিয়েছে গোষ্ঠী, সামাজিক এবং পারিবারিক নেটওয়ার্কের সহযোগিতায়। কাজে নিযুক্ত হওয়ার সময় পুরুষ শ্রমিকদের চেয়ে নারী শ্রমিকরা বেশি বাধার সম্মুখীন হন।

কর্মঘণ্টার ক্ষেত্রেও নারী ও পুরুষের বৈপরীত্য উঠে এসেছে সমীক্ষায়। দেখা গেছে কারখানা ও গৃহস্থালি মিলিয়ে পুরুষের চেয়ে নারী কর্মীর কর্মঘণ্টা বেশি। সমীক্ষার ফল অনুযায়ী বেশির ভাগ পোশাক কর্মী তাদের বর্তমান নিয়োগদাতা ও কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট। এক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়ে নারী কর্মীর সন্তুষ্টির মাত্রা বেশি।

নারী ও পুরুষ কর্মী উভয়েই অপমান, চিত্কারের মতো হয়রানির শিকার হন পোশাক খাতে। কিন্তু এর মধ্যে যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে শুধু নারীর। কারখানার কাজ ছেড়ে দেয়ার কারণ হিসেবে নারী-পুরুষ উভয়ই সহিংসতা ও হয়রানির কথা উল্লেখ করেছেন সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পোশাক কর্মীরা। এছাড়া অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কারণে নারী ও অতিরিক্ত চাপের কারণে পুরুষদের কাজ ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন তারা।

সমীক্ষাটি পরিচালনাকারী গবেষকরা জানিয়েছেন, নারী-পুরুষ উভয় ক্ষেত্রেই আনুষ্ঠানিক কাজের শুরু পোশাক খাতেই। কিন্তু এখানে নারীদের ক্ষেত্রে বাকি যে সামাজিক সুযোগ-সুবিধা পরিবহন বাসস্থান এগুলো যদি ভালো হতো, তাহলে নারীরা তাদের কর্মক্ষেত্র নিয়ে আরো স্বস্তিতে থাকতেন। দীর্ঘক্ষণ পায়ে হেঁটে বা বাসে এসে কাজে আসতে হয়, এর আগে ও পরে গৃহস্থালি কাজেও নিয়োজিত থাকতে হয়। ফলে কাজের স্বস্তির সুযোগ নারীর ক্ষেত্রে অনেক কম। এর প্রভাব হিসেবে নারীরা দীর্ঘ সময় পোশাক কারখানায় কাজ করতে পারেন না, কয়েক বছর গেলে তারা কাজ ছেড়ে দেন। সার্বিকভাবে দীর্ঘমেয়াদে কাজ করে ধীরে ধীরে উচ্চ পদে যাওয়া নারীর ক্ষেত্রে হয়ে ওঠে না।

কারখানার অভ্যন্তরে আগের চেয়ে কাজের অধিকার সুরক্ষিত হয়েছে কিন্তু দিনে দিনে কাজের চাপ বেড়েই চলেছে এমন তথ্য উল্লেখ করে গবেষকরা বলেছেন, বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কাজের চাপও বেড়েছে। কর্মীরা বলেছেন আমাদের কাজে এখন টাকা-পয়সার নিশ্চয়তা পাচ্ছি কিন্তু কর্মক্ষেত্রে গালাগাল ধমকের মতো মৌখিক হয়রানি না থাকলে কাজ আরো স্বস্তির হতো। তবে সবাই মনে করে পোশাক কারখানায় চাকরি তাদের আয়ের নিরাপত্তা দিয়েছে, নারীরা মনে করে এটা তাদের বড় অর্জন। গত ৮ থেকে ১০ বছরে পোশাক কারখানা জেন্ডার কম্পোজিশন মূল্যায়নে দেখা গেছে পোশাক খাতে কর্মীদের মধ্যে নারীদের আনুপাতিক অংশগ্রহণ কমেছে।

সমীক্ষার গবেষণায় নেতৃত্বে দিয়েছেন এমন একজন গবেষক বিআইডিএস সিনিয়র গবেষণা পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ। সমীক্ষা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাতে ইচ্ছাকৃতভাবে বৈষম্য করা হয় না। কিন্তু ইন বিল্ট বৈষম্য আছে। যেহেতু নারীকে ঘরে-বাইরে উভয় ক্ষেত্রে কাজ করতে হয়, যেমন নারীরা ওভারটাইম কাজে বেশি থাকতে চান না। যা না করলে এমনিতেই বেতন কমে যায়। এক্ষেত্রে তৈরি পোশাক কারখানা মালিকদের করণীয় কম কিন্তু তারা বাসস্থান, পরিবহন এ সুবিধাগুলো নিশ্চিত করতে পারেন। আয়ের কোনো বৈষম্য আমরা পাইনি, তবে যখনই মজুরি বৃদ্ধি পায়, তখনই লক্ষ্য নির্দিষ্ট করে কাজের চাপ বাড়িয়ে দেয়া হয়। শ্রমিকরা বলেছেন, তৈরি পোশাক খাতে আগের চেয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে।

সমীক্ষার পদ্ধতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে প্রাপ্য তথ্যের ডেস্ক রিভিউ, পোশাক খাতের কর্মীদের সাক্ষাত্কার, কারখানার ওপর কোয়ান্টিটেটিভ জরিপ, ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশনের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। ২০১৮ সালের মে ও জুনে এ সমীক্ষা পরিচালিত হয়। প্রশ্নমালা ব্যবহার করে ২৬০ কারখানায় জরিপ করা হয়েছে। জরিপের আওতায় ছিল ৫৫৩ জন পোশাক কর্মী, যার মধ্যে ২৬৮ পুরুষ ও ২৮৫ জন নারী। ৮০ জন সাবেক পোশাক কর্মীও ছিলেন জরিপের আওতায়।

 

Read previous post:
ভোলার মির্জাকালুতে অসহায় পরিবারের মাঝে নৌবাহিনীর খাদ্য সহায়তা সামগ্রী বিতরণ

তৃতীয় মাত্রা হাসনাইন আহমেদ হাওলাদার: দ্বীপ জেলা ভোলার বোরহানউদ্দিনে মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে বেড়িবাঁধের বাহিরের এলাকা পরিদর্শন ও ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় হয়ে...

Close

উপরে