Logo
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শুভ ৯০তম জন্মদিন, ওয়ারেন!

প্রকাশের সময়: ১২:৩৫ অপরাহ্ণ - সোমবার | সেপ্টেম্বর ৭, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

যুক্তরাষ্ট্রের বার্কশায়ার হ্যাথওয়ে কোম্পানির সিইও ওয়ারেন বাফেট আর মাইক্রোসফযুক্তরাষ্ট্রের বার্কশায়ার হ্যাথওয়ে কোম্পানির সিইও ওয়ারেন বাফেট আর মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস দীর্ঘদিনের বন্ধু। দাতব্য কার্যক্রমেও তাঁরা অংশীদার। গত ৩০ আগস্ট সোমবার ছিল বিনিয়োগ গুরুখ্যাত বাফেটের ৯০তম জন্মদিন। তাঁকে শুভকামনা জানিয়ে নিজস্ব ওয়েবসাইট গেটসনোটস ডট কম-এ একটি পোস্ট দেন বিল গেটস। এতে বাফেটের জীবনের মজার কিছু তথ্য তুলে ধরেন। বাফেটের সম্মানে বিল নিজ হাতে একটি বিশেষ কেকও তৈরি করেন। কেকে ফুটিয়ে তোলেন বাফেটের ছবি। এর ওপর ৬০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছাড়েন বিল।

ওয়ারেন আজও যেন এক তরতাজা যুবক। তারুণ্যদীপ্ত আচরণ, ব্যবহারে বেমালুম ভুলিয়ে দেন একদা তিনি যুবক ছিলেন। মনে হয় তিনি কেবলই কোনো যুবকের মতো ক্যারিয়ার শুরু করতে চলেছেন।

প্রথম সাক্ষাতে উভয়েই উপলব্ধি করলাম যে আমাদের দুজনেরই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অঙ্ক আর সংখ্যা। তাই সেদিনের কথা ভেবে আজ ওয়ারেনের জন্মদিন উপলক্ষে আমি কিছু সংখ্যা তুলে ধরছি।

ওয়ারেন আর আমি পরস্পরকে নিজেদের শখ-আগ্রহ নিয়ে যত কথা বলেছি, তার সব এখন বলা বা মনে করা সম্ভব নয়। তবে অনেক স্মৃতি এখনো তরতাজা। যেমন প্রথম সাক্ষাতে উভয়েই উপলব্ধি করলাম যে আমাদের দুজনেরই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অঙ্ক আর সংখ্যা। তাই সেদিনের কথা ভেবে আজ ওয়ারেনের জন্মদিন উপলক্ষে আমি কিছু সংখ্যা তুলে ধরছি। ওয়ারেনের ৯০তম জন্মদিন আর আমাদের বন্ধুত্বকে ঘিরেই এসব সংখ্যা উল্লেখ করব।

— ৩০: ওয়ারেন বাফেট প্রতি রাতে আট ঘণ্টা করে ঘুমান। তাই বলা যায়, সারা জীবনে তিনি এক–তৃতীয়াংশ সময় অর্থাৎ ৩০ বছরই কাটিয়েছেন ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে।
— ১০ হাজার ৬৪৯: আমাদের বন্ধুত্বের বয়স ১০ হাজার ৬৪৯ দিন।
— যা গণনা বা হিসাব করা যায় না: ওয়ারেন তাঁর সব সম্পদ সমাজকে দান করার যে ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন, তাতে বিশ্বে কতটা প্রভাব পড়বে, সেটি কোনো সংখ্যা দিয়ে নির্ণয় করা যাবে না।

ওয়ারেনের সবচেয়ে প্রশংসনীয় গুণগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো, তিনি খুব সহজেই কোনটা সঠিক আর কোনটা ভুল, তা বুঝতে পারেন। এই গুণটা সম্ভবত তিনি তাঁর বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন।

ওয়ারেনের সবচেয়ে প্রশংসনীয় গুণগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো, তিনি খুব সহজেই কোনটা সঠিক আর কোনটা ভুল, তা বুঝতে পারেন। এই গুণটা সম্ভবত তিনি তাঁর বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন। তাঁর বাবা হাওয়ার্ড ছিলেন একজন স্টকব্রোকার বা শেয়ার ব্যবসায়ী এবং নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তম শহর ওমাহা থেকে তিনবার কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি প্রথমবার যখন নির্বাচিত হন, তখন মার্কিন কংগ্রেসে সদস্যদের বেতন বাড়ানো হলে তা নিতে তিনি অসম্মতি জানান এবং আগের বেতনটাই নেন। ওয়ারেনও ঠিক তাঁর বাবার মতো প্রখর নীতি-নৈতিকতা মেনে চলা এক মানুষ।

জহুরি যেমন অনায়াসেই খাঁটি সোনা চেনেন তেমনি ওয়ারেনও অতি সহজেই মেধাবীদের চিনে ফেলেন। এভাবে তিনি সব মেধাবীকে নিয়েই গড়ে তুলেছেন তাঁর কর্মী বাহিনী, যাঁদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছেন তিনি। এসব মেধাবী ম্যানেজার বা ব্যবস্থাপকের বেশির ভাগই দীর্ঘকাল ধরে, এমনকি অবসর নেওয়া পর্যন্ত ওয়ারেনের বার্কশায়ার হ্যাথওয়ে কোম্পানিতে কাজ করেন। কেউ ভুল করলে তাঁকে ছুড়ে ফেলে দেন না ওয়ারেন বরং আগলে রাখেন, সুযোগ দেন।
বছরের পর বছর ধরে ওয়ারেনকে আমি ব্যবসায়ী রোজ ব্লুমকিনের অন্তর্দৃষ্টি বা তীক্ষ্ণ বিচারবুদ্ধির প্রশংসা করতে দেখেছি। কারণ, ১৯৩৭ সালে রোজ ব্লুমকিনের প্রতিষ্ঠিত নেব্রাসকা ফার্নিচার মার্ট পরবর্তীকালে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ফার্নিচার বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল। অবশ্য ওয়ারেন ১৯৮৩ সালে মিসেস ব্লুমকিনের কাছ থেকে ওই প্রতিষ্ঠান কিনে নেন। এরপর মিসেস ব্লুমকিন নেব্রাসকা ফার্নিচার মার্টের প্রতিদ্বন্দ্বী আরেকটি প্রতিষ্ঠান খোলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সেটিও ওয়ারেনের কাছে বিক্রি করে দেন।

খুব বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, তাঁর কোম্পানি বার্কশায়ার হ্যাথওয়ে তরতর করে সফলতার শিখরে উঠলেও তাঁর মধ্যে তেমন পরিবর্তন দেখিনি। তিনি এক রকমই থেকে গেছেন।

 যখন থেকে আমি ওয়ারেনকে চিনি তখন থেকে আজ পর্যন্ত তাঁকে একই রকম কর্মচঞ্চল ও গতিশীল জীবনযাপন করতেই দেখছি। খুব বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, তাঁর কোম্পানি বার্কশায়ার হ্যাথওয়ে তরতর করে সফলতার শিখরে উঠলেও তাঁর মধ্যে তেমন পরিবর্তন দেখিনি। তিনি এক রকমই থেকে গেছেন। যুগ যুগ ধরে তিনি কোম্পানির সভায় গভীর মনোযোগসহকারে শেয়ারধারীদের প্রশ্ন শুনে আসছেন এবং উত্তর দিচ্ছেন।
ব্যক্তিগতভাবে ওয়ারেন বাফেট কঠোর পরিশ্রম করেন, যা অবিশ্বাস্য। তাঁর চরিত্রের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি ব্যবসায়ের বাইরে বেসবল খেলাসহ নানা ধরনের কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়িত রাখেন এবং প্রচুর সময় ব্যয় করেন।

ওয়ারেনের কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। এর মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বন্ধুতা। এ রকম একটি ঘটনার কথা বলব এখানে। কয়েক বছর আগে আমরা দুজনে একবার একদল কলেজশিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলছিলাম। তখন ওয়ারেন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী চলবে, যাদের সহযোগী হিসেবে তোমরা কাজ করবে। তাই এমন লোকদের সাহচর্যেই যাবে তোমরা, যাদের নিজেদের চেয়ে বেশি ভালো মানুষ মনে হবে। তোমাদের বন্ধুরা যেমন হবে ঠিক তোমাদের জীবনও সে রকমই গড়ে উঠবে। ভালো কিছু বন্ধু বাছাই করে নাও, আর বাকি জীবনের জন্য তাদের রেখে দাও। তাদেরই বন্ধু বানাও, যাদের তুমি পছন্দ ও প্রশংসা করতে পারো।’

সে আলোকে আজ আমিও বলছি, ওয়ারেন এমন এক মানুষ, যাঁকে আমি পছন্দ করি এবং যাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকি। শুভ জন্মদিন, বন্ধু আমার।

—লেখাটি অনুবাদ করেছেন এ টি এম ইসহাক

সূত্র: প্রথম আলো

Read previous post:
ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে করোনা সংক্রমণে ২ নম্বরে ভারত

তৃতীয় মাত্রা গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে নতুন করে ৯০ হাজার ৮০২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশটিতে করোনা শনাক্ত...

Close

উপরে