Logo
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

থামছেনা স্বজনদের আহাজারি, দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি

প্রকাশের সময়: ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ - সোমবার | সেপ্টেম্বর ৭, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

এ এক হৃদয়ভেদী দৃশ্য। ভেতরে চলছে দগ্ধদের চিকিৎসা। বাইরে স্বজনদের উদ্বেগাকুল অপেক্ষা। সময় যত যায়, তাদের বুকের কাঁপন ততই বাড়ে অজানা আশঙ্কায়। এই বুঝি ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো কেউ, জানিয়ে দিল কারও নাম। যে নামটি যোগ হলো মৃত্যুর তালিকায়। নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে গত শুক্রবার রাতে বিস্ফোরণের পর আহত ৩৭ মুসল্লিকে ভর্তি করা হয় রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে। গতকাল রাতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাদের মধ্যে একে একে ২৫ জনই মারা গেছেন। সময় যত যাচ্ছে, ততই দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। অবশিষ্ট যে ১২ জন চিকিৎসাধীন, তাদের সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক। তাদের প্রাণ বাঁচাতে চলছে চিকিৎসকদের প্রাণপণ লড়াই। সৃষ্টিকর্তার কাছে ফরিয়াদ করছেন আহতদের স্বজনেরা; দেশজুড়ে অসংখ্য মানুষের প্রার্থনাও যোগ হয়েছে এর সঙ্গে।

এ দিকে স্বাধীনতার পর একসঙ্গে এতো মানুষ হতাহত হওয়ার ঘটনা তল্লায় এবারই প্রথম। শোকাচ্ছন্ন এ এলাকায় গত দুদিন ধরে গ্যাসও নেই। অন্যদিকে বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিম্ফোরণের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। গত শনিবার রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় এ মামলা রেকর্ড করা হয়। অবহেলাজনিত কারণে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানার এসআই হুমায়ন কবির বাদী হয়ে এ মামলা (নম্বর-১০) দায়ের করেন। এতে বিবাদী করা হয়েছে মসজিদ কমিটি, বিদ্যুৎ ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে মসজিদ কমিটি, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ভবন নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অবহেলার কারণে এই আগুনের সূত্রপাত এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। দ-বিধির ৩০৪ (ক) ধারায় রেকর্ড করা এই মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। মসজিদে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না কেউ। স্থানীয়দের

অভিযোগ, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে মসজিদের নিচের গ্যাসের পাইপলাইনে সমস্যা থাকার বিষয়টি জানানোর পরও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা হয়েছে। তিতাস, বিদ্যুৎ বা মসজিদ কমিটিÑ যাদের অবহেলাতেই এ ঘটনা ঘটে থাকুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে পৃথক চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিদ্যুৎ বিভাগ, তিতাস গ্যাস এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটির এক সদস্য জানান, মসজিদের ছয়টি এসির মধ্যে একটিও বিস্ফোরিত হয়নি। লিকেজ থেকে বের হওয়া গ্যাস এবং বিদ্যুৎ-স্ফুলিঙ্গের আগুনে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ছয়টি এসির প্রতিটির ক্যাচিং পুড়েছে কিন্তু ভেতরের সব ঠিক আছে। সিআইডিও এ ঘটনার ছায়া তদন্ত করছে। এ তদন্তের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তাও ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর অভিন্ন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ থেকেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ছয়টি এসির একটিও বিস্ফোরিত হয়নি, হওয়ার কথাও নয়।

গতকাল বার্ন ইনস্টিটিউটে দগ্ধদের দেখতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, বিস্ফোরণে দগ্ধ ৩৭ জনের মধ্যে যে ১২ জন এখনো চিকিৎসাধীন, তাদের কারও অবস্থাই ভালো না। সবার শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। তাদের বাঁচাতে চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই ঘটনায় অবহেলাজনিত কারণ দেখিয়ে মামলা হয়েছে। তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কারও সংশ্লিষ্টতা থাকলে (তার বা তাদের বিরুদ্ধে) ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান জানান, হতাহতদের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে আমরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক হতাহতদের খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে নিহতদের দাফন বা সৎকারের জন্য বিশ হাজার টাকা করে এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য দশ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য ওষুধপত্রসহ সব বিষয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে বলেও জানান ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী।

এ দুর্ঘটনায় হতাহতদের প্রায় সবাই তরুণ আর নিম্নআয়ের মানুষ। যাদের অনেকেই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাই স্বজনকে ফিরে পাওয়ার প্রার্থনার মধ্যেও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের চিন্তারেখা ফুটে উঠেছে অনেকের কপালে। বার্ন ইউনিটের ভেতরে বাঁচার আকুতি নিয়ে আর্তনাদ করছেন দগ্ধরা। আর বাইরে আহাজারি করছেন তাদের স্বজনরা। লবিতে নির্ঘুম রাতের ক্লান্তি নিয়ে অপেক্ষা করছেন স্বজনরা। এ ঘটনার দুইদিন পেরিয়ে গেলেও কষ্ট কমেনি এতটুকু। গতকাল রবিবার শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এবং ঢামেক মর্গ এলাকা ঘুরে এসব দৃশ্য দেখা গেছে।

ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানিয়েছেন, চিকিৎসাধীন প্রত্যেকের শরীরের ৯৫ ভাগ পর্যন্ত পুড়ে গেছে। প্রত্যেক রোগীরই শ্বাসনালি পুড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন। তাদের সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের যা যা সুযোগ-সুবিধা আছে, এ সবের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে আমরা চেষ্টা করছি; বাকিটা ওপরওয়ালার ইচ্ছা। সবাইকে বলব, আহতদের জন্য দোয়া করবেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তাদের চিকিৎসা চলছে, যোগ করেন তিনি।

বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১২ জনের মধ্যে আমজাদ (৩৭), আ. আজিজ (৪০), মো. কেনান (২৪), মনির ফরাজী (৩০) ও শেখ ফরিদ (২১) আইসিইউতে আছেন। এছাড়া চিকিৎসাধীন ইমরান (৩০), মামুন (২৩), আ. সাত্তার (৪০), হান্নান (৫০), রিফাত (১৮), মো. ফরিদ (৫৫) ও নজরুল ইসলামের (৫০) অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

জানা গেছে, বিস্ফোরণে হতাহত সবাই ওই মসজিদের আশপাশের বাসিন্দা। তাদের স্বজনদের আহাজারিতে পুরো তল্লা এলাকায় এখন নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ঘরে ঘরে বইছে শোকের মাতম আর কান্নার রোল। কে কাকে সান্ত¡না দেবেন সেই ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন।

বিস্ফোরণে দগ্ধ কবীরের স্ত্রী মর্জিনা বেগম শনিবার দুই হাত তুলে চিৎকার করে বলেছিলেন, ?‘জানের বদলা জান দিমু; আল্লাহ তারে ভিক্ষা দাও।’ সৃষ্টিকর্তার কাছে এভাবেই নিজের স্বামীর প্রাণ ভিক্ষা চাইতে দেখা গেছে তাকে। কিন্তু বিধাতা মর্জিনা বেগমের ডাক শোনেন-নি। গতকাল কবির চলে চলে গেছেন সবাইকে ছেড়ে; সব কিছুর ঊর্ধ্বে। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি স্বামী কবীরকে হারিয়ে দুই সন্তান নিয়ে মর্জিনা বেগমের ছোট সাজানো গোছানো সংসার এখন তছনছ।

বিস্ফোরণে দগ্ধ শিক্ষক মোহাম্মদ আলীর মৃত্যু হয়েছে গতকাল সকাল আটটায়। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করায় তাকে সবাই চেনেন ‘আলী মাস্টার’ হিসেবে। বার্ন ইনস্টিটিউটের লবিতে মামাতো ভাই রিয়াদের কাঁধে মাথা রেখে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন আলী মাস্টারের মেঝ ছেলে রাসেল।

তিনি বলেন, আমাদের বাসার পাশেই মসজিদ। আব্বা এখানেই প্রতিদিন নামাজ পড়তেন। শুক্রবাররাতে অগ্নিকা-ের পর ঝলসানো শরীর নিয়ে হেঁটে হেঁটে বাসায় ফিরে তিনি বারবার বলছিলেন, ‘আমার গায়ে মলম দাও, জ্বলে যাচ্ছে পুরো শরীর।’ বাঁচার অনেক আকুতি জানিয়েছেন, কিন্তু পারেননি। রোববার সকালে আমাদের সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেছেন আব্বা। তাকে হারানোর এই শোক সহ্য করতে পারছি না।

রাসেলকে সান্ত¡না দিতে দিতে রিয়াদ বলেন, মসজিদ কমিটি আগেই তিতাস গ্যাসকে গ্যাস লিক হওয়ার কথা অবগত করেছিল। তারা লিখিত অভিযোগ না দেওয়ার কারণে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। তারা ৫০ হাজার টাকা ঘুষও চেয়েছিল। তিতাস ঠিক মতো ব্যবস্থা নিলে এ ঘটনা ঘটতো না। এতগুলো মানুষের মৃত্যু হত না। আমরা এর বিচার চাই।

বার্ণ ইনস্টিটিউটের লবিতে নীরবে বসে ছিলেন আসমা বেগম। জটিল কিডনি রোগে ভুগছেন তিনি। টাকার অভাবে চিকিৎসাও নিতে পারছেন না। বিস্ফোরণে তার স্বামী আব্দুল আজিজ এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। চিকিৎসকরা এখনও শোনাতে পারেননি আশার বাণী। আসমা বেগম বলেন, আমার স্বামীর লন্ড্রির ব্যবসা আছে। কোনমতে আমাদের সংসার চলে। ছেলে আবু সায়ীদ মাদ্রাসার ক্লাস ফাইভে আর মেয়ে সামিয়া ক্লাস থ্রিতে পড়ে। আমি জানি না, আমার স্বামী কেমন আছেন। বাঁচবেন কিনা তাও জানি না। বাঁচার পর কিভাবে আমাদের সংসার চলবে কিছুই জানি না। আগুন আমাদের সবকিছু কেড়ে নিলো। আমরা এখন কিভাবে বাঁচবো।

দগ্ধ আমজাদ হোসেন হাসপাতালের বিছানায় এখন মৃত্যুশয্যায়। কোন কিছুতেই সান্ত¡না দেওয়া যাচ্ছিল না তাকে। বার্ন ইনস্টিটিউটের লবিতে এপ্রান্ত ওপ্রান্ত দৌঁড়ে যাচ্ছিলেন তার বাবা আব্দুল আহাদ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমজাদ পোশাক কারখানার গাড়ি চালাতো। তার রোজগারে চলে সংসার। চোখের সামনে দিয়ে একের পর এক মরদেহ বেরোচ্ছে। আমজাদের কখন কি হয় বুঝতে পারতেছি না। জমি-জামা যা আছে সব বেঁচে দেবো, খালি আমার ছেলের প্রানডা ভিক্ষা চাই আল্লার কাছে। গতকাল দিনভর এভাবেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে আহাজারি করতে দেখা গেছে দগ্ধদের স্বজনদের।

দু’দিন ধরে গ্যাসহীন তল্লা

তল্লা এলাকায় মসজিদে বিস্ফোরণের পর আশপাশের এলাকাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। গ্যাস বন্ধ থাকায় রান্না নিয়ে বিপাকে পরেছেন পুরো এলাকাবাসী। রোববার সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার বেশিরভাগ গৃহিনী রান্নার ব্যবস্থা করতে পারেননি। অনেকে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে রান্না করা খাবার পেয়েছেন আবার অনেকে হোটেল থেকে খাবার কিনে খেয়েছেন। কেউ কেউ মাটির চুলায় রান্না করছেন লাকড়ি দিয়ে। মসজিদের অদূরেই এক বাড়ির গৃহিণী আসমা বেগম বলেন, রান্না না করতে পারায় হোটেল থেকে খাবর এনে পরিবারের লোকজনকে খাবার ব্যবস্থা করতে হয়েছে। দু’দিন ধরেই গ্যাস নেই। পরে অনেক চেষ্টা করে মাটির চুলার ব্যবস্থা করে লাকড়ি দিয়ে রান্না বসিয়েছি বিকেলে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করে এলাকায় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে অনুরোধ করছি। একইভাবে মাটির চূলা দিয়ে রান্না করা গৃহিণী পারভিন আক্তার, হুমায়রা বেগম, রাহেলাও এ দাবি জানান।

প্রত্যেক পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে দেয়ার দাবি ডা. জাফরুল্লাহর

বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় সরকার সতর্ক হলে মৃত্যুর ঘটনা আরো কমতে পারতো মন্তব্য করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। রোববার দুপুরে তল্লা মসজিদ পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, আমাদের সরকার আরেকটু সতর্ক হলে আরেকটু ব্যবস্থা নিলে মসজিদে বিস্ফোরণে ২৪ জনের জায়গায় অর্ধেক লোক কম মারা যেত। সরকার এটা ঘটায়নি, কিন্তু তাদের ব্যর্থতা। তারা প্রত্যেক সময় অর্ধেক কাজ করে রেখে দেয়। আমার কষ্ট লেগেছে এখান থেকে ঢাকা যেতে প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় লেগেছে। এই যে কষ্টটা, অকল্পনীয়। আগুনে পোড়ার যে ব্যাথাটা, আপনারা উপলব্ধি করতে পারবেন না। এখানে যে চিকিৎসা হওয়ার কথা ছিল, সেটা হয় নাই। নারায়ণগঞ্জ এত বড় একটা জেলা শহর উচিত ছিল সঙ্গে সঙ্গে ইনজেকশন দেয়া। তা হলে ব্যথা থাকত না। এখন ওষুধ বেরিয়েছে অথচ পর্যাপ্ত ওষুধ নেই। যদিও এর দাম খুব বেশি না। দোষীদের দ্রুত বিচারও দাবি করেন তিনি।

যারা মারা গেছেন

মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় গতকাল রাত পর্যন্ত মারা গেছেন ২৫ জন। তারা হলেনÑ মসজিদের ইমাম আব্দুল মালেক (৬০) ও মুয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেন (৪৫) এবং তার ছেলে জুনায়েদ হোসেন (১৬), নারায়ণগঞ্জের তল্লার বাসিন্দা নূর উদ্দিনের বড় ছেলে সাব্বির (২১) ও মেজো ছেলে তোলারাম ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র জোবায়ের (১৮), মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার হাটবুকদিয়া গ্রামের কুদ্দুস বেপারী (৭২), চাঁদপুর সদর উপজেলার করিম মিজির ছেলে মোস্তফা কামাল (৩৪), নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পোশাক শ্রমিক জুলহাস ফরাজীর ছেলে জুবায়ের ফরাজী (৭), পটুয়াখালীর গলাচিপার আব্দুল খালেক হাওলাদারের ছেলে পোশাক শ্রমিক মো. রাশেদ (৩০), পশ্চিম তল্লার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির (৭২), পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার কাউখালী গ্রামের জামাল আবেদিন (৪০), পোশাক শ্রমিক ইব্রাহিম বিশ্বাস (৪৩), নারায়ণগঞ্জ কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী রিফাত (১৮), চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাইন উদ্দিন (১২), নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মো. জয়নাল (৩৮), লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার তালুকপলাশী গ্রামের মেহের আলীর ছেলে পোশাক শ্রমিক মো. নয়ন (২৭), ফতুল্লার ওয়ার্কশপের শ্রমিক কাঞ্চন হাওলাদার (৫০), শ্রমিক মো. রাসেল (৩৪), বাহার উদ্দিন (৫৫), স্থানীয় সাংবাদিক মোহাম্মদ নাদিম (৪৫), নিজাম ওরফে মিজান (৪০) ও জুলহাস উদ্দিন (৩০), শামীম হোসেন (৪৮) ও মোহাম্মদ আলী মাস্টার (৫৫)। আর গতরাতে এ প্রতিবেদন লেখার সময় মারা গেছেন আবুল বাশার মোল্লা। আইনি প্রক্রিয়ার পর বিনা ময়নাতদন্তে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

Read previous post:
হাঁস পালনে মাসুদের প্রতি মাসে আয় ৮০ হাজার টাকা!

তৃতীয় মাত্রা সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা দিয়ে বয়ে গেছে যমুনার শাখা কালিঞ্জা নদী। এ নদীর উন্মুক্ত পানিতে ঘুরে বেড়ায় ঝাঁকে ঝাঁকে...

Close

উপরে