Logo
সোমবার, ০৩ আগস্ট, ২০২০ | ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

লাখ টাকা বেতনের চাকরী ছেড়ে মাছ চাষের ব্যবসায় সফলতা!

প্রকাশের সময়: ৬:২০ অপরাহ্ণ - শনিবার | আগস্ট ১, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

মাস শেষে লাখ টাকা বেতন, নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য দামী গাড়ি, ব্যাংক-বীমাসহ চাকুরির নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। এই সময়ে এমন স্বপ্নের চাকরি যেন সোনার হরিণ, যে কেউ লুফে নিবে! কিন্তু এমন সুযোগ পেয়েও ছেড়ে দিয়েছেন। শুনতে অবাক লাগলেও বাস্তবে এমন ঘটনাই ঘটেছে। কারণ, নিজে উদ্যোক্তা হওয়া যার স্বপ্ন, তাকে কী আর চাকরির গণ্ডিতে বেঁধে রাখা যায়!

বলা হচ্ছে ‘বায়োফ্লক ফিস ফার্মিং বাংলাদেশ’র প্রতিষ্ঠাতা মনিরুল হকের কথা। যিনি আকর্ষণীয় বেতন, চমৎকার সুযোগ-সুবিধার লোভনীয় চাকরি ছেড়ে পুরোদস্তুর মৎস্য ব্যবসায়ী হয়েছেন। এর আগে তিনি ‘দি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড’র সিনিয়র রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বর্তমানে ঢাকার কেরানীগঞ্জের হযরতপুরের আলীপুরে প্রায় ১৫ শতক জমির ওপর মৎস্য খামারটি গড়ে তুলেছেন মনিরুল। চলতি বছরের মে মাসে ১২ লাখ টাকা দিয়ে শুরু করেন এই প্রকল্প। এছাড়াও মানিকগঞ্জের সিংগাইরের বায়ড়া গ্রামে যৌথ মালিকানায় তার আরো একটি মৎস্য খামার রয়েছে।

কেন আকর্ষণীয় চাকরি ছেড়ে এমন উদ্যোক্তা হলেন? এমন প্রশ্নে মনিরুল হক বলেন, চাকরিটা ভালো থাকলেও তৃপ্তি পাচ্ছিলাম না, কোথাও একটা শূন্যতা বিরাজ করছিল। মনে হতো, কাজটা আমার জন্য নয়, আরেকজনের জন্য করছি। তখন নিজের জন্য কি করছি, কতটুকু করছি? এমন প্রশ্ন জাগতো মনে, কিন্তু উত্তর খুঁজে পেতাম না।

বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা থাকতে মাছ চাষে ঝুঁকলেন কেন? এর উত্তরে ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, প্রথমে মাছ চাষের কথা একেবারেই ভাবিনি। তবে ২০১২ সালে মাছ চাষের নতুন প্রযুক্তি বায়োফ্লক সম্পর্কে জানতে পারি। এ পদ্ধতি সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি হলে ধীরে ধীরে বায়োফ্লক সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। এভাবেই ২০১৫ সালে পরীক্ষামূলকভাবে নারায়ণগঞ্জের বাসায় মাত্র একটি ট্যাংকে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করি। এরপর অনেক চিন্তাভাবনা করে ২০১৮ সালের মার্চে চাকরিটা অফিসিয়ালি ছেড়ে দেই।

এরপর বায়োফ্লক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ইন্দোনেশিয়ার পেকানভারোতে ট্রেনিং করতে যাই। ফিরে এসে আরো দুইজন সহকর্মীকে নিয়ে ২০১৮ সালের জুনে মানিকগঞ্জের প্রকল্পটি শুরু করি। তারা হলেন দি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের সাবেক ডিরেক্টর অব সেলস গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া ও সাবেক জেনারেল ম্যানেজার মিনার হোসেন খান।

মনিরুল কেবল খামারই করেননি, তিনি আগারগাঁওয়ের শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বায়োফ্লক পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটির সহযোগিতায় দেশের প্রথম ‘অনলাইন ফিস হসপিটাল’ও প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। এতে ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইসরায়েল, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক ও ভিয়েতনামের খ্যাতনামা চিকিৎসকরা যুক্ত আছেন। হসপিটালটিতে ভোক্তাদের জন্য সব ধরনের পরামর্শ ও সুযোগ-সুবিধা ফ্রি দেয়া হয়।

এ বিষয়ে মনিরুল বলেন, ইউটিউবে আমার কর্মকাণ্ড দেখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করে আমাকে তাদের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দেয়া হয়। সেই থেকে কোনো ধরনের সম্মানি ছাড়াই তাদের সঙ্গে কাজ করছি। শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ফিসারিজ ল্যাবও প্রতিষ্ঠা করেছি।

মনিরুল হক জানান, সরকারি সুযোগ-সুবিধা কম থাকায় প্রযুক্তিগত উপাদানগুলো দেশে পাওয়া যায় না। প্রায় সবই বাইরে থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। এতে অর্থ ও সময় দুটোই অপচয় হচ্ছে। অথচ সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ায় প্রতিবেশি ভারতে এই পদ্ধতিতে মৎস্য চাষে বিপ্লব এসেছে।

প্রকল্পটি ব্যয়বহুল হওয়ায় সরকারিভাবে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করা হলে বাংলাদেশেও বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে বিপ্লব আসতে পারে। এতে চাষিরা যেমন উপকৃত হবেন, দেশের চাহিদা পুরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিবা রাখনে। এছাড়া শিক্ষিত বেকাররা এ কাজে আগ্রহী হবেন।

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের বিষয়ে মনিরুল বলেন, সাধারণত পুকুরে মাছ চাষ করলে ফল পেতে বছরখানেক লাগে যায়। এছাড়া সম্পূর্ণ ফ্রেস মাছও পাওয়া যায় না। খাদ্য ও অন্যান্য উপাদানের কারণে মাছে কিছুটা ভেজাল থেকে যায়। কিন্তু বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করলে মাত্র ৪ মাসেই ফল পাওয়া যায়। পুকুরে চাষের চেয়ে ৪-৫ গুন বেশি লাভ করা সম্ভব। আর মাছগুলো পরিষ্কার ও বেশি প্রোটিন সমৃদ্ধ হয়।

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষের আগ্রহীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কেবল ইউটিউবে কয়েকটি ভিডিও দেখে এই প্রকল্প শুরু হরা ঠিক হবে না। এসব ভিডিওতে অনেক ভুল তথ্যও রয়েছে। বায়োফ্লক সম্পর্কে পর্যাপ্ত জেনে তারপর প্রকল্পে শুরু করুন। ধৈর্য এবং গবেষণার মানসিকতা নিয়ে কাজ করলে সফলতা আসবেই।

Read previous post:
চলতি মাসে শুরু ধোনি-রায়নাদের ক্যাম্প

তৃতীয় মাত্রা সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের এবারের আসর শুরু হচ্ছে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে। সে লক্ষ্যে অন্তত মাসখানেক...

Close

উপরে