Logo
মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২০ | ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সিংগাইরে বন্যায় কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ , পেঁপেসহ ৮ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে

প্রকাশের সময়: ৮:১৭ অপরাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | জুলাই ৩০, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

মোঃ সাইফুল ইসলাম তানভীর, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ): সবজি উৎপাদনে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার গুরুত্ব যুগযুগ ধরে চলে আসছে। এখানে উৎপাদিত বিভিন্ন প্রকার সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকা, সাভারসহ পার্শ্ববর্তী জেলার চাহিদা মিটিয়ে থাকে। চলতি বন্যায় বৃহৎ এ সবজি ভান্ডারটির প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমির ফসল এখন পানির নিচে। ফসল হারিয়ে প্রায় ২০ হাজার কৃষক এখন আমানিশার ঘোর অন্ধকারে দিনাতিপাত করছেন। একেতো মহামারি করোনা তারপর হঠাৎ বন্যার কবলে পড়ে এখানকার কৃষক পরিবারের দুভোর্গ এখন চরমে। তাদের সুখের স্বপ্নভেঙ্গে চৌচির করে দিল প্রলয়ংকারী বন‍্যা।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মওসুমে এ উপজেলাটিতে ১ হাজার ৮’শ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার সবজি মাচায় চাষ করা হয়েছিল। যার মধ্যে ১ হাজার ৬’শ হেক্টরই তলিয়ে গেছে। ৩’শ ৫০ হেক্টর পেঁপে ক্ষেত প্রায় পুরোটাই বন্যা কবলিত হয়ে মারা যাচ্ছে। ৩ হাজার হেক্টর বোনা আমন সম্পূর্ন এবং ২ হাজার ৭’শ হেক্টর রোপা আমনের মধ্যে ২ হজার ৫’শ হেক্টর পানিতে নিমজ্জিত। এছাড়া ৮’শ হেক্টর পাটের মধ্যে সাড়ে ৩’শ হেক্টর জমির পাট চাষিরা কাটতে পেরেছেন।উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে সবজি চাষীরা তাদের সবজি জমির চার দিকে বাঁধ নির্মাণ করে তা রক্ষার্থে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে বেশির ভাগ চাষী ব‍্যর্থ হলেও কেউ কেউ সফলও হয়েছেন।ধল্লা ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের পেঁপে চাষী মোঃ নুরু হোসেন বলেন, আমি এ বছর ১০ বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করেছিলাম। বন‍্যায় আমার সম্পূর্ণ পেঁপের জমি গাছসহ তলিয়ে গেছে। পেঁপে চাষে আমার প্রায় ৪ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। বন‍্যার পানিতে জমি তলিয়ে না গেলে এ বছর প্রায় ৩০-৩৫ লক্ষ টাকার পেঁপে বিক্রি করতে পারতাম। তিনি আরও বলেন বন‍্যার পানিতে সব হারিয়ে আমি এখন নিঃস্ব।চান্দহর ইউনিয়নের ওয়াইজনগর গ্রামের কৃষক তকছের আলী জানান, তার আবাদকৃত ৯ বিঘা পাটের মধ্যে ২ বিঘার পাট কাটতে পেরেছেন। বাকী ৭ বিঘা তলিয়ে গেছে। সেই সঙ্গে ৮ বিঘা জমির ধরন্ত সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে বলেও তিনি জানান।এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ টিপু সুলতান সপন বলেন, বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে উচুঁ স্থানগুলোতে ধান ও সবজি চারা উৎপাদনের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। যাতে জমি থেকে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চাষিরা আবার নতুন করে ফসল আবাদ শুরু করতে পারেন।

Read previous post:
কড়া রোদে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারে যে ঝুঁকি

তৃতীয় মাত্রা করোনা মহামারির এ সময়ে হাতের জীবাণু ধ্বংসে সাবান-পানির বিকল্প হিসেবে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহার অবিশ্বাস্য হারে বেড়েছে। অ্যালকোহল ভিত্তিক...

Close

উপরে