Logo
বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০১৯ | ২রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বিক্ষোভে ককটেল, ভাঙচুর, আগুন, সংঘর্ষ, লুটপাট দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশের সময়: ১২:০৪ অপরাহ্ণ - শুক্রবার | নভেম্বর ১১, ২০১৬

27বিক্ষোভে নেমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ককটেল নিক্ষেপ, যান চলাচলে বাঁধা, গাড়ি ভাঙচুর, আগুন ধরিয়ে দেয়া, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট- যুক্তরাষ্ট্রে এর কোনোটাই বাদ যায়নি ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে। পুলিশও জননিরাপত্তার কথা বলে ব্যবস্থা নিয়েছে, আটক করেছে বেশ কিছু বিক্ষোভকারীকে, ছোড়া হয়েছে পিপার স্প্রে।

গত ৮ নভেম্বরের ভোটে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প জিতে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৫টি শহরে দেখা দেয় বিক্ষোভ। দুই দিনেও থামার নাম নেই কর্মসূচির।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয় মানতেই পারছেন না দেশটির বহু মানুষ। ‘তিনি আমাদের প্রেসিডেন্ট নন’ জাতীয় স্লোগান চলছেই। বিক্ষোভ হয়েছে ট্রাম্পের ভবনের সামনেও।

দ্বিতীয় দিন বেশ কজন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। সহিংসতা হয়েছে ডেমোক্রেট অধ্যুষিত ক্যালিফোর্নিয়ায়। সেখানে অন্তত তিন পুলিশ কর্মকর্তার আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শহরের অন্তত ৪০টি এলাকায় আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।

ট্রাম্পের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকালে ম্যানহাটনের ইউনিয়ন স্কয়ার এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে অন্তত দুইশ ট্রাম্পবিরোধী। তাদের কেউ কেউ ‘সাদা মানুষরা সব কিছু ধ্বংস করো না’ লেখা ব্যানার বহন করছিল। আর ট্রাম্প ও তার রানিংমেট মাইক পেন্সের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিল।

এই বিক্ষোভকারীরা কেবল রাজনৈতিক কারণে রাস্তায় নেমে আসেনি। ট্রাম্প ম্যাক্সিকো সীমান্তে যে দেয়াল দেয়ার চিন্তা করছেন- তা এদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে। বিক্ষোভকারীদের আশঙ্কা, ট্রাম্পের এই অবস্থান জাত্যাভ্যিমানকে (আমরাই সেরা) উস্কে দেবে।

নিউ ইয়র্কে বিক্ষোভে যোগ দেয়াদের একজন নিক পাওয়ার সিএনএনকে বলেন, ‘নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর পর আমি ভীত হয়ে উঠেছি। এ কারণে আমি বিক্ষোভে ছুটে এসেছি’।

বুধবার ট্রাম্প টাওয়ারের আশেপাশে থেকে ১৫ বিক্ষোভকারীকে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

ওকল্যান্ড ও ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ এলাকায় আগুন

স্থানীয় সময় বুধবার রাতে ওকল্যান্ডে অন্তত সাত হাজার বিক্ষোভারী রাস্তায় নেমে এসে সহিংস হয়ে উঠে। তারা পুলিশের ওপর ককটেল, পাথর এবং আগুন ছুড়ে মারে। এতে তিন জন পুলিশ সদস্য আহত হন বলে জানিয়েছে বাহিনীটির মুখপাত্র জন ওয়াটসন।

বিক্ষোভকারীরা আবর্জনা জড়ো করে মহাসড়ক এবং উপশহর এলাকায় আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে গিয়ে জরুরি বিভাগের কর্মীরা অন্তত ৪০টি আগুন নেভায়।

ওকল্যান্ডের পুলিশ জানায়, বিক্ষোভ চলাচালে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাগ হয়ে ওই এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আক্রমণও চালায় কেউ কেউ।

এই এলাকা থেকে অন্তত ৩০ জনকে আটক করে পুলিশ তাদের ১১ জনকে ধরা হয় লুটপাট, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা, বেআইনি কার্যকলাপ বা অবৈধ অস্ত্র বহন করার অভিযোগে। এই ঘটনায় পুলিশের তিনটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানান বাহিনীটির কর্মকর্তারা।

এই ঘটনাস্থলের কয়েক মাইল দূরে বার্কলে কলেজের অন্তত দেড় হাজার ছাত্র ক্লাস বর্জন করে। সান ফ্রান্সিসকোতে অন্তত এক হাজার ছাত্র শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে এসে নাগরিক সেবাকেন্দ্রের আশেপাশে বিক্ষোখ করে।

বিক্ষোভ আয়োজনকারীদের একজন আহমেদ কাননা বলেন, ‘কেবল নির্বাচনের ফলাফল নয়, ট্রাম্পের কথাবার্তার কারণেও তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে মানুষ।’

বিক্ষোভকারীদের হঠাতে মরিচের গুড়া

শিগাকোতে লেক মিশিগানের পাশ দিয়ে ট্রাম্প টাওয়ারের দিকে যাওয়া আট লেনের এক্সপ্রেসওয়ে বিক্ষোভ মিছিল হয়। একজন তার প্ল্যাকার্ডে লিখেন, ‘যা হয়েছে আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না। আমার প্রতিবাদ জানানোর নাগরিক অধিকার আছে।’

বিক্ষোভে অংশ নেয়া একজন নারী বলছিলেন, ‘আমার অনেক পথ পারি দিয়ে বর্তমান অবস্থানে এসেছি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আমরা আবার পিছিয়ে পড়বো। তিনি বলেন, ‘যেন এমনটা না হয়, তাই আমরা রাস্তায় নেমে এসেছি।’

ওলামা ও নেবরাসকায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনী বিক্ষোভকারীদের হটাতে পিপার বল (মরিচের গুড়ার মতো ঝাঁঝ বের হয় যাতে চোখে জ্বালা ধরে। বাংলাদেশেও একবার পুলিশ এই স্প্রে ব্যবহারের পর ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল) ছুড়ে মারে।

ট্রাম্পের কুশপুতুল দাহ

ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনা এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার অধীনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভে নামে। অন্তত এক হাজার শিক্ষার্থী লস অ্যাঞ্জেলস সিটি হলের বাইরে রাতভর বিক্ষোভ করে। ‘আমরা ভয় নিয়ে বাঁচবো না’, ‘রুখে দাও, সোজা হয়ে দাঁড়াও’, ‘হবেই হবে’- জাতীয় স্লোগান দিচ্ছিল তারা। এখানে বিক্ষোভকারীরা নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কুশপুতুল দাহ করে।

বিক্ষোভকারীদের আশঙ্কা, ট্রাম্প দায়িত্ব নিলে তাদের স্বজন বা বন্ধুরা চাকরি বা আমেরিকায় থাকার অধিকার হারাতে পারে। হিলারিকে ভোট দেয়া ১৮ বছর বয়সী তরুণ ব্রুকলিট হোয়াইট বলেন, ‘ঘৃণা জিততে পারে না।’ ব্রুকলিন বলেন, ‘ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হবেন ঠিক আছে, কিন্তু তাকে আমাদের কথা শুনতে হবে।’

স্থানীয় সময় বুধবার এই এলাকায় বিক্ষোভে যোগ দেয় অন্তত তিন হাজার মানুষ। এদের মধ্যে সড়কে যান চলাচলে বাঁধা দেয়ার অভিযোগে অন্তত ২৮ জনকে আটক করে পুলিশ। লস অ্যাঞ্জেলস পুলিশের মুখপাত্র লিয়ানা প্রেসিয়াডো জানান, বিক্ষোভকারীরা বেশ কিছু সম্পদ নষ্ট করেছে। কিন্তু ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণটা তারা বলতে পারছেন না।

এক বিবৃতিতে মেয়র এরিখ গারসেট্টি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি, মঙ্গলবারের ভোটের ফলাফল অনেকের কাছেই বেদনাদায়ক এবং হয়ত এই বেদনা লাঘবের কারণেই এই ধরনের বিক্ষোভ হচ্ছে। কিন্তু ফ্রিওয়েতে (সড়ক)  পথচারী বা গাড়িচালকদের ক্ষতি করতে পারে- এমন কিছু ছুড়ে মারা গ্রহণযোগ্য না। আমাদেরকে ঘর ফেরা মানুষদের নিরাপত্তায় ব্যবস্থা নিতেই হবে।’

গারসেট্টি বলেন, বেশিরভাগ বিক্ষোভকারীই ছিল শান্তিপূর্ণ। কিন্তু যান চলাচল বাধা দেয়া বা সম্পদ ধ্বংস করার আগেই তাদেরকে আগেই ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।

‘সম্পদ ধ্বংস বা যান চলাচলে বাঁধা দেয়ার কোনো সুযোগ নেই’- মন্তব্য করে গারসেট্টি স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘লস অ্যাঞ্জেলস সব সময় আশা দেখায়, আপনারা এমন কিছু করবেন না, যাতে আমাদের কাছ থেকে অন্যরা ভিন্ন কোনো বার্তা পায়।’

‘আমেরিকা হেরে গেছে’

বিক্ষোভ হয়েছে রাজধানী ওয়াশিংটনেও। সেখানে তারা স্লোগান দিচ্ছিল, ‘ট্রাম্পকে আমরা চাই না, আমরা উগ্রবাদী হবো না, আমেরিকা ফ্যাসিস্ট হবে না’।  তারা ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেলের দিকেও যাওয়ার চেষ্টা করে।

বিক্ষোভকারীরা হোয়াইট হাউজের সামনে ‘যুক্তরাষ্ট্র কখনও ধর্মান্ধ হতে পারে না’ লেখা ঝুলিয়ে দেয়।

বিক্ষোভকারী ব্রায়ান বারটো বলছিলেন, ‘আমরা এতদিন যা গড়ে তুলেছি, তার সবই ধ্বংস হয়ে গেছে।’

Read previous post:
ভারতে পোশাক কারখানায় আগুন, নিহত ১৩

ভারতের রাজধানী দিল্লির কাছেই উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে একটি পোশাক তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে গাজিয়াবাদের শাহিবাবাদ এলাকায়...

Close

উপরে