Logo
মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৮ | ৮ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

লাতিনদের ভোট হিলারির জন্য যথেষ্ট ছিল না

প্রকাশের সময়: ৮:০০ পূর্বাহ্ণ - শুক্রবার | নভেম্বর ১১, ২০১৬

41হোয়াইট হাউস জয়ে হিলারি ক্লিনটনের গোপন হাতিয়ার ভাবা হয়েছিল লাতিন ভোটারদের। কিন্তু মার্কিন মুলুকে দ্রুত বাড়তে থাকা এই সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর ব্যাপক ভোটও হিলারির জয়ের জন্য যথেষ্ট হতে পারল না।

নতুন ভোটার, কিছু লাতিন ও আফ্রিকান-আমেরিকান গোষ্ঠী সাধারণত ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়ে থাকে। ২০১২ সালে বারাক ওবামার চেয়ে এবার তাঁরা হিলারিকে বেশি ভোট দিয়েছেন। তাহলে কী ঘটল?

দেশজুড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন দেওয়া নন-হিস্পানিক শ্বেতাঙ্গ ও কম শিক্ষিত ভোটারদের ভোটের কাছে লাতিনদের ভোট হার মেনেছে। যদিও তাঁদের সংখ্যা বেড়েছে। এ ব্যাপারে পিউ রিসার্চ সেন্টারের (পিআরসি) হিস্পানিক (স্প্যানিশ কলোনিভুক্ত স্প্যানিশ ভাষাভাষী ও ঐতিহ্য ধারণকারী গোষ্ঠী) গবেষণা-বিষয়ক পরিচালক মার্ক হুগো লোপেজ বলেন, ‘লাতিন ভোট এবার রেকর্ডসংখ্যক বেড়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে সংখ্যায় তা কত, সেটা জানতে আগামী এপ্রিল-মে মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’
এবার ২ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি লাতিন ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়েছিল। লোপেজ বলছেন, এর অর্ধেকসংখ্যক, আনুমানিক ১ কোটি ৩০ লাখ লাতিন এবার ভোট দিয়েছেন।

হিলারি ওবামা নন
৬৫ শতাংশ স্বঘোষিত লাতিন ভোটার বলেছেন, তাঁরা সাবেক ফার্স্ট লেডি ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারিকে সমর্থন দিয়েছেন। ২৯ শতাংশ সমর্থন দিয়েছেন আবাসন ব্যবসায়ী, টিভির রিয়্যালিটি শো তারকা ও রাজনীতিতে একেবারে অনভিজ্ঞ ট্রাম্পকে।

নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্পের অনেক প্রস্তাব ছিল লাতিনবিরোধী। তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ কোটি ১০ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বের করে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। যেখানে এ ধরনের অভিবাসীদের একটি বড় অংশ লাতিন আমেরিকার। তিনি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর করার প্রস্তাব করেছিলেন। কানাডা, মেক্সিকোসহ উত্তর আমেরিকার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ে রক্ষণশীল হওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। ট্রাম্প এসব বিষয়কে ‘দুর্যোগ’ বলে ক্ষোভ ঝাড়েন।

২০১২ সালের নির্বাচনে বারাক ওবামা ৭২ শতাংশ লাতিন ভোট পেয়েছিলেন। অন্যদিকে, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মিট রমনি পেয়েছিলেন ২৭ শতাংশ লাতিন ভোট।

এ বিষয়ে পিউ রিসার্চ সেন্টারের মার্ক লোপেজ বলেন, ‘হিলারি ক্লিনটন ওবামা নন, তাঁরা আলাদা প্রার্থী। হিস্পানিক নির্বাচকমণ্ডলী রক্ষণশীল, কিউবার বংশোদ্ভূত আমেরিকানরা ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান।

সাধারণভাবে ট্রাম্পকে যেসব লাতিন ভোটার ভোট দিয়েছেন, তাঁরা কিউবান-আমেরিকান হতে পারেন। অন্যান্য হিস্পানিকের চেয়ে তাঁদের আয় বেশি এবং উচ্চ শিক্ষার হারও বেশি। তাঁদের বেশির ভাগ ফ্লোরিডা, অ্যারিজোনা বা টেক্সাসের মতো রক্ষণশীল অঙ্গরাজ্যে বসবাস করেন।

নিউইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটাররা যেভাবে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন, ওই অঙ্গরাজ্যগুলোতে বসবাসরত উচ্চশিক্ষিতরা হিলারিকে ভোট দেবেন বলে ভাবা হয়েছিল।

ডেমোক্র্যাটরা প্রত্যাশা করেছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো লাতিন ভোট চূড়ান্ত বিষয় হয়ে দাঁড়াবে এবং অ্যারিজোনা ও ফ্লোরিডার মতো অঙ্গরাজ্যে হিলারিকে জয় পেতে সাহায্য করবে। অথচ গত মঙ্গলবার ওই দুটি অঙ্গরাজ্যে হিলারি হেরে গেলেন।

ফ্লোরিডায় পরাজয়
যদি ফ্লোরিডায় ট্রাম্প হেরে যেতেন, তাহলে সেখানে তাঁর পরাজয় নিশ্চিত হতো বলে ভাবা হচ্ছে। দুই প্রার্থীই দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দূরবর্তী এই অঙ্গরাজ্যে খুব বেশি নজর দিয়েছিলেন। ট্রাম্প বেশি রক্ষণশীল এনক্লেভে (ছিটমহল) নজর দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, হিলারিকে জোর দিয়েছেন পুয়ের্তো রিকান গোষ্ঠী, আফ্রিকান-আমেরিকান ও তরুণ লাতিনদের দিকে।

মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গ্রেগরি কগার বলেন, ফ্লোরিডায় হিলারি লাতিন ও আফ্রিকান-আমেরিকানদের বিপুল ভোট প্রত্যাশা করেছিলেন। অন্যদিকে, শ্বেতাঙ্গ ভোটও ট্রাম্প তাঁর প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পেয়েছেন। ট্রাম্প গ্রামাঞ্চল ও ছোট শহরের ভোটারদের টার্গেট করে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছিলেন। আর তাঁরা তাঁর প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ভোট দিয়েছেন।

ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডানিয়েল স্মিথের মতে, অন্য আরেকটি কারণে ফ্লোরিডায় হেরেছেন হিলারি। শিক্ষিত শ্বেতাঙ্গ নারীদের যুক্তি দিয়ে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। এই শ্বেতাঙ্গ স্বাধীন নারীদের ভোট ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ হয়ে গেছে।

ফ্লোরিডায় ৫২ শতাংশ কিউবান-আমেরিকান ভোটার ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন। আর ৪৭ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন হিলারিকে।

বিভিন্ন সম্প্রদায়
পিউ রিসার্চ সেন্টারের মার্ক লোপেজ বলেছেন, দেশজুড়ে ট্রাম্পের প্রভাব ছিল। অভিবাসীবিরোধী কঠোর বক্তব্যের কারণে অনেক বেশিসংখ্যক লাতিন ভোটার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দিতেই এসেছিলেন। কিন্তু এ সংখ্যা তত বেশি নয়, যতটা লোকজন বলছিল। তা সত্ত্বেও লাতিন ভোট গুরুত্বের সঙ্গে বেড়েছে এবং এটা নির্বাচনী প্রচারে ভবিষ্যতেও বড় ভূমিকা রাখবে। জনসংখ্যাতাত্ত্বিক প্রবণতা থেকে বোঝা যায়, এটা কমপক্ষে আরও ২০ বছর চলবে।

এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে কোনো কট্টর লাতিন ভোট নেই। এই সম্প্রদায় ভৌগোলিক ও রাজনৈতিকভাবে নানান মতের। প্রকৃতপক্ষে, অর্ধেকের বেশিসংখ্যক হিস্পানিক মেক্সিকো-আমেরিকান। এর মধ্যে সব লাতিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী নয়। আবার সব লাতিন মেক্সিকান নয়।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কিউবান যাঁরা ১৯৬০ সাল থেকে বিশেষ অভিবাসী স্ট্যাটাস ভোগ করে আসছেন, তাঁরা ট্রাম্পের বক্তব্যে ক্ষতিগ্রস্ত হননি। ট্রাম্প বলেছিলেন, মেক্সিকো ‘অপরাধী, ড্রাগ ব্যবসায় আর ধর্ষকদের’ যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাচ্ছে।

এমনকি তৃতীয় প্রজন্মের ২৫ শতাংশ লাতিন ট্রাম্পের মেক্সিকোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে প্রাচীর দেওয়া ও অবৈধ অভিবাসীদের বের করে দেওয়ার প্রস্তাবকে সমর্থন করেন। অন্য লাতিনদের চেয়ে তাঁরা আরও রক্ষণশীল এবং ধর্মের দিকে কম ঝোঁকার প্রবণতা রয়েছে।

Read previous post:
সারাহ পলিন থাকছে ট্রাম্পের মন্ত্রিসভায় !

তৃতীয় মাত্রা: ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন সরকারে কারা থাকছেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। সরকার...

Close

উপরে