Logo
সোমবার, ০৩ আগস্ট, ২০২০ | ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বিস্ময়কর রংধনু পর্বতমালা ইরানের

প্রকাশের সময়: ২:৩০ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | জুলাই ২১, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের দেশ ইরান। পাহাড়, সাগর, নদী, হ্রদ থেকে মরুভূমি—সব কিছু আছে ইরানের সীমানার মধ্যে। পাহাড়-পর্বত ইরানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম দিক। ইরানের প্রায় অর্ধেক ভূমিই পর্বতবেষ্টিত। ইরানের পর্বতমালার মধ্যে আলাদগর বা রংধনু পর্বতমালা পর্যটনপ্রেমীদের জন্য এক বিস্ময়। পাহাড়ের বর্ণিল মাটি, পাহাড় ও গুল্ম মুগ্ধ করে তাদের।

ইরানের পাহাড়-পর্বতগুলো দক্ষিণ ইউরোপ ও এশিয়ার পাহাড়-পর্বত সৃষ্টি হওয়ার সমসময়ে সৃষ্টি হয়েছে বলে বিজ্ঞানীদের অনুমান। তাঁদের মতে, প্রায় ৫৭ কোটি বছর আগে তৃতীয় ভূতাত্ত্বিক যুগের শেষ দিকে ভূগর্ভস্থ গতিশীলতা ও প্রকম্পনের ফলে এসব পাহাড়-পর্বত তৈরি হয়েছে। যখন পাললিক শিলার ফাঁকে ফাঁকে গ্রানাইট পাথর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিল। বফাক, ঝানজন ও গোলপায়গান, তাবাস ও ইয়াজদের পাহাড়-পর্বতে এখনো সাদা ও গোলাপি গ্রানাইট পাথরের দেখা মেলে। আর ইরানের উত্তরাঞ্চলে শত শত কিলোমিটারজুড়ে আলবোর্য পর্বতমালা তৈরি করেছে সুউচ্চ দেয়াল।

উত্তর খোরাসান প্রদেশে রয়েছে আলাদগর পর্বতমালা—যাকে রংধনু পর্বতমালাও বলা হয়। আধ্যাত্মিক সাধক শামস তাবরেজের জন্মশহর ‘তাবরেজ’ থেকে ২৫ দূরে অবস্থিত এই পর্বতমালা। রাজধানী তেহরান থেকে এর দূরত্ব ৬৩০ কিলোমিটার। আলাদগরের সর্বোচ্চ শৃঙের নাম শাহজাহান—যার উচ্চতা তিন হাজার ৩২ মিটার। এই পর্বতমালায় প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বিভিন্ন রঙের সমাহার দেখা যায়। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন কোনো শিল্পী নিখুঁতভাবে এঁকেছেন।

ধারণা করা হয়, আলাদগর পর্বতমালা ১৫ মিলিয়ন বছর আগে সৃষ্ট। পর্বতমালাটিকে বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন রং ধারণ করতে দেখা যায়। লাল, তামা, বাদামি, হলুদ, সাদা, সবুজ ও নীল দেখা যায় পর্বতগুলোতে। আবার একেক পর্বতে থাকে একেক রঙের আধিক্য। আলাদগর পর্বতমালা সাধারণত গ্রীষ্মকালে লাল, তামা ও হলুদ বর্ণ ধারণ করে। সূর্যাস্তের সময় সোনালি আভা রঙিন পর্বতের সৌন্দর্য দৃষ্টিনন্দন করে তোলে। কখনো কখনো দূর থেকে পর্বতগুলোকে বৃহদাকার কেক বলেও মনে হয়।

আলাদগর পর্বতমালার একাংশ তুরস্কের সীমান্তে পড়েছে। ইরান, তুরস্ক ছাড়াও ‘রংধনু পর্বত’ চীন, আর্জেন্টিনা ও পেরুতেও রয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, মিলিয়ন বছর ধরে খনিজ পদার্থ ও বেলে পাথরের মিশ্রণে এসব রঙিন পর্বতমালার সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া লোহা, কার্বোনাইট ও অক্সিজেন পর্বতের রং-বৈচিত্র্যের কারণ। বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে পৃথিবীর অন্যান্য রঙিন পর্বতের সঙ্গে আলাদগরের মিল থাকলেও আপন বৈশিষ্ট্যে তা অনন্য। প্রতিবছর তুরস্ক, ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার অসংখ্য পর্যটক ইরানের রংধনু পর্বতমালা দেখতে আসে।

সূত্র : পার্সটুডে, ইরান ট্রিপটেইলর, তাসনিম নিউজ

Read previous post:
সিলেটে এমসি কলেজ মাঠে পশুর হাট প্রত্যাহার দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

তৃতীয় মাত্রা কোরবানির পশুর হাটের জন্য সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ মাঠ ইজারা দেয়ার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। সোমবার তারা...

Close

উপরে