Logo
মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২০ | ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘করোনায় রক্তদান সচল থাকুক’

প্রকাশের সময়: ৯:৫০ অপরাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | জুলাই ২, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

পারভীন আক্তারের (ছদ্মনাম) এটা দ্বিতীয় সিজার। ডাক্তার জানিয়েছেন রক্ত লাগবে। আত্মীয়-স্বজনরা বহু কষ্টে দুইজন ডোনারের ব্যবস্থা করলেন বটে, কিন্তু করোনায় ডোনারের পরিবার তাদের সন্তানকে হাসপাতালে পাঠাতে অপারগতা প্রকাশ করলেন।

শিউলি বেগম (ছদ্মনাম) থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। কিছুদিন পর পর তার রক্ত নিতে হয়। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে রক্ত দরকার। কিন্তু ডোনার নেই। বহু কাঠখড় পুড়িয়ে ৪ হাজার টাকা প্রতি ব্যাগ রক্ত কিনতে বাধ্য হয়েছেন। টাকার থেকেও বড় কথা হলো তিনি জানেন না তার কেনা রক্ত কতটুকু বিশুদ্ধ। এমন উদাহরণ শত শত।

পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে স্বেচ্ছায় রক্তদাতা মাত্র ৩৩ শতাংশ। যেখানে পাশের দেশ ভারতে এই হার ৬৫ শতাংশ এবং থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কায় এই হার শতভাগ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে উন্নত দেশগুলোতে ৪৫ শতাংশ মানুষ স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। কিন্তু বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই হার হাজারে মাত্র তিনজন। প্রতিবছর বাংলাদেশে রক্তের চাহিদা ১৩ লাখ ব্যাগ। আত্মীয়-স্বজন এবং স্বেচ্ছাসেবীরা মিলে ৫৫-৬০ ভাগ চাহিদা পূরণ করেন। ১৫-২০ ভাগ পূরণ হয় পেশাদার রক্ত বিক্রেতাদের থেকে। যাদের বড় একটি অংশ মাদকাসক্ত। ২০-২৫ ভাগ ঘাটতি থেকেই যায়। ফলস্বরূপ প্রতি বছর ৫৫ হাজার মানুষ রক্তের অভাবে না ফেরার দেশে চলে যান। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পরিবারের কর্মক্ষম ব্যক্তিটির মৃত্যু মানে গোটা পরিবারের মৃত্যু। তাদের স্বপ্নগুলোর অকালমৃত্যু। এই বিষয়গুলো কি আমরা ভেবে দেখেছি?

আশার কথা হলো বাংলাদেশে স্বেচ্ছা রক্তদানের মানসিকতা দিন দিন পরিবর্তন হচ্ছে। কয়েক বছর পূর্বেও স্বেচ্ছায় রক্তদানের পরিসংখ্যান ছিল গড়ে ১০ শতাংশ, কিন্তু বর্তমানে এই সংখ্যা ৩০ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশ। এক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও তাদের কার্যক্রম প্রশংসার দাবিদার। যা আমাদের আশান্বিত করে।

কিন্তু মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ থাকায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোও তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছে না। ফলে রক্ত সংকট দিন দিন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।

‘করোনায় প্রয়োজনীয় রক্ত পাচ্ছেন না রোগীরা’, ‘ঢাকায় রক্তের সংকট, অসহায় স্বজনরা’, এই রিপোর্টগুলোই সার্বিক চিত্র তুলে ধরছে। এর দায়ভার আমরা এড়াতে পারি না।

আমরা যা করতে পারি

১. স্বাস্থ্যবিধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রক্ত দেওয়া।

২. এলাকাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সদস্যদের উদ্বুদ্ধ করা।

৩. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে রক্তদানে উৎসাহিত করা।

৪. রক্তদান সম্পর্কে ভুল ধারণাগুলো দূর করা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে রক্ত সংকট কাটাতে আমাদের আরও বেশি উদার ও মানবিক হতে হবে। আমার এক ব্যাগ রক্তের কারণে যদি একটি জীবন বেঁচে যায় এর থেকে আনন্দের ও সৌভাগ্যের আর কিছুই হতে পারে না।

লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Read previous post:
ব্রিটেনে সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল চালুর নিদের্শনা প্রকাশ: দুইজন করোনায় আক্রান্ত হলেই স্কুল বন্ধ হতে পারে

তৃতীয় মাত্রা গামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে ব্রিটেনের স্কুলগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের ফেরাতে সুরক্ষা পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে সরকার। এতে কোন ক্লাসের কমপক্ষে ২জন...

Close

উপরে