Logo
শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০ | ২৭শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বাজেট বাস্তবায়নে অতীতে ব্যর্থ হইনি, ভবিষ্যতেও হব না : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময়: ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ - মঙ্গলবার | জুন ৩০, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এবারের বাজেট নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে। বাজেট বাস্তবায়নে আমরা অতীতে কখনো ব্যর্থ হইনি এবং ভবিষ্যতেও হব না। গতকাল জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, যতই ঝড়ঝঞ্ঝা, দুর্যোগ হোক না কেন, মনে সাহস রেখে সুষ্ঠু কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে গেলে সফলতা অর্জন করা যায়। আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী যে আমরা সফলভাবে এ মহামারীর অর্থনৈতিক প্রভাব কাটিয়ে উঠে উন্নয়নের অভিযাত্রায় পুনরায় শামিল হব। কারণ, বিশ্ব মানদণ্ডে আমাদের রয়েছে শক্তিশালী আর্থসামাজিক অবস্থান। গত ২ মে দি ইকোনমিস্ট একটি গবেষণা প্রতিবেদনে চারটি মানদণ্ডে সবল অর্থনীতির ৬৬টি দেশের যে তালিকা করেছে, সেখানে বাংলাদেশ শক্তিশালী নবম অবস্থানে রয়েছে। করোনাভাইরাসকে কার্যকরভাবে মোকাবেলা করে এবং আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য পেশকৃত জনবান্ধব, উন্নয়নমুখী ও সুষম এই বাজেটের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে যাব।

করোনা পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামনে যে সংকটই আসুক না কেন আওয়ামী লীগ সরকার তা শক্তভাবে মোকাবেলা করবে এবং দেশের কোনো মানুষকে অভুক্ত থাকতে দেবে না।আওয়ামী লীগ কখনো হতাশায় ভোগে না।আমরা সবসময় একটা লক্ষ্য নির্ধারণ করে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাই।তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় কখনো কখনো সে পরিকল্পনা প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করতে হয়।সে কারণে আমরা বাজেট ঠিক রেখেছি। প্রণয়নও করেছি।আশা করি এটা আমরা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব।

তিনি বলেন, বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও কভিড-১৯-এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এসব বিবেচনায় নিয়ে চলতি অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার সংশোধন করে ৫ দশমিক ২ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে। আশা করি, ২০২১ সালে বিশ্ব ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি কভিড-১৯ প্রভাব থেকে ধীরে ধীরে বের হয়ে আসবে। এ বাস্তবতায় বাংলাদেশের অর্থনীতি তার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে ধরে নিয়ে আগামী ২০২০-২১ অথর্বছরের বাজেটে প্রবৃদ্ধির হার প্রাক্কলন করা হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির হার এই ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রাক্কলনের ক্ষেত্রে অক্টোবর/নভেম্বরে করোনার টীকা আবিষ্কার, দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া, কর্মসৃজন ও ব্যক্তি আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি ও প্রণোদনা প্যাকেজের কারণে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা মহামারী পূর্বাবস্থায় চলে আসা এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং প্রবাস আয়ে বর্তমান সংকট কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় নেয়ার কথা জানান সরকারপ্রধান।

বাজেট বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী তার পূর্ব ঘোষিত ১ লাখ ৩ হাজার ১১৭ কোটি টাকার ১৯টি প্রণোদনা প্যাকেজের কথা তুলে ধরে বলেন, দেশের ব্যাপক জনগোষ্ঠী যেন উপকৃত হয় সে লক্ষ্য নিয়েই পরিকল্পিতভাবে এবং যথাযথ সময়ের আগেই প্রতিটি প্রণোদনা প্যাকেজ প্রণয়ন করা হয়েছে। প্যাকেজগুলো বাস্তবায়ন শুরু হওয়ায় এরই মধ্যে ৫ কোটি ৭০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে সুবিধা পেয়েছে এবং ১৯টি প্যাকেজ সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে ১২ কোটি ৫৫ লাখ মানুষ সুবিধা পাবে। এছাড়া প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ কর্ম সুরক্ষা ও নতুন কর্ম সৃজন হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই যাতে খাদ্য সংকট সৃষ্টি না হয় সেজন্য

এক ইঞ্চি আবাদি জমিও  যেন ফেলে রাখা না হয়। প্রতিটি জমি যাতে আবাদ হয় তার জন্য আমরা বিশেষভাবে নজর দিচ্ছি, নির্দেশনা দিচ্ছি। দেশবাসীকে আহ্বান জানাব, যার সেখানে জমি আছে যে যা-ই পারেন উৎপাদন করেন। উৎপাদন বাড়ান।নিজের খাদ্যনিরাপত্তা সুরক্ষিত করুন। সরকার যা যা করার করে যাচ্ছে এবং করবে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় কৃষি খামার যান্ত্রিকীকরণ, খাদ্যশস্য সংরক্ষণের স্থান বৃদ্ধি ও মান উন্নয়নের ব্যবস্থার কথা জানান। আগামী অর্থবছরে রাসায়নিক সারের বিক্রয়মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হবে ও কৃষি প্রণোদনা প্রদান অব্যাহত থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বোরো মৌসুমে ধান কাটতে কৃষকদের সহায়তা করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বোরো মৌসুমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ধান কাটার লক্ষ্যে হারভেস্টার মেশিন ক্রয়ে আমরা ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি প্রদান

করেছি। ছাত্রলীগের কর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছিলাম তারা যেন তাদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে কৃষকদের ধান

কাটায় সহায়তা করে। ছাত্রলীগের কর্মীরা ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং বর্ষা মৌসুমের আগেই ধান কেটে

ঘরে তুলতে সহায়তা প্রদান করেছে। একই সঙ্গে যুবলীগ, কৃষক লীগ ও যুব মহিলা লীগের কর্মীরাও নিজ নিজ এলাকায় কৃষকদের ধান কাটায়

সহায়তা প্রদান করেছে। ফলে আম্পান ধানের তেমন একটা ক্ষতি করতে পারেনি।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা সীমিত হয়ে আসায় খাদ্যশস্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। সংকটের শুরু থেকেই আমরা এ বিষয়ে যথেষ্ট সজাগ ছিলাম। দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য আমরা খাদ্যসহায়তা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছি। আগামী অর্থবছরেও খাদ্যশস্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা দেশের ইতিহাসে

সর্বোচ্চ পরিমাণ ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছি। চলতি বোরো মৌসুমে আমরা ১১ লাখ ৫০ হাজার টন চাল এবং সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ৮ লাখ টন

ধান ক্রয়ের উদ্যোগ নিয়েছি, যা গত বোরো মৌসুমের তুলনায় দ্বিগুণ। আমাদের খাদ্য চাহিদা ৩ কোটি ৭৫ লাখ টন। উৎপাদন হয়েছে ৩ কোটি ৯৯ লাখ টন। আমাদের  উৎপাদনও অব্যাহত থাকবে। কাজেই আমাদের অসুবিধা হবে না।

Read previous post:
ঝিনাইদহে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন

তৃতীয় মাত্রা ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জমিজমা নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে চাচাতো ভাইয়ের লাঠির আঘাতে ওমর আলি ( ২২ ) নামে এক...

Close

উপরে