Logo
সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০ | ২৯শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং অনলাইন ক্লাস

প্রকাশের সময়: ৮:৪১ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | জুন ২৩, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের সবার জন্যই আতঙ্কের। চারদিক মৃত্যুর খবরে জনজীবন দিশেহারা। করোনার সংকট মোকাবিলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ। অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও যেহেতু দেশের প্রায় ৫ কোটি শিক্ষার্থী শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত, তাই এমতাবস্থায় করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ না রেখে উপায় নেই। দীর্ঘদিন শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায়, এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অন্যান্য দেশের মতো সরকার অনলাইন ক্লাসের দিকে নজর দিচ্ছে। প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।

উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়েও বিচ্ছিন্নভাবে অনলাইনভিত্তিক ক্লাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইন ক্লাস চলমান থাকলেও, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস এখনো পুরোদমে শুরু হয়নি। কোথাও অফিশিয়াল বা আনঅফিশিয়ালভাবে (ব্যক্তিউদ্যোগে) শুরু হলেও বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় এখনি অনলাইন ক্লাসে যেতে নারাজ। ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিমত সেই শুরু থেকেই।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের এ সময় দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা বেশির ভাগ শিক্ষার্থীদের জন্য বোঝাস্বরূপ। কারণ হিসেবে—

১. বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী গ্রামীণ সমাজ থেকে উঠে এসেছে। ছুটি পেলে তারা বাসায় গিয়ে বাবা, মা কিংবা পরিবারের সঙ্গে কাজ করে সংসারে সাহায্য করে। বর্তমানে দরিদ্র কিংবা মধ্যবিত্ত পরিবারের আয়ের উত্স অনেকটাই বন্ধ। এ মুহূর্তে পরিবারের সঙ্গে কাজ করা ছাড়া উপায় নেই।

২. শহর থেকে গ্রামে পা রাখলেই দেখা যায় লোডশেডিংয়ের প্রভাব। একটু বাতাস বা ঝড় হলেই বিদ্যুত্ থাকে না। পাহাড়ি দুর্গম এলাকাসহ অনেক জায়গায় এখনো বিদ্যুেসবা পৌঁছায়নি। ঠিক তেমনিভাবে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোয় মোবাইল অপারেটরগুলোর নেটওয়ার্ক সেবাও দুর্বল।

৩. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ব্যবহারিক সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো হাতেকলমে পাঠদান ছাড়া ক্লাস নেওয়া দুরূহ। এছাড়াও বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রমে ভিন্নতা রয়েছে, যা অনলাইন ক্লাসে সঠিকভাবে পড়ানো সম্ভব নয়। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার পরিবেশ ও প্রস্তুতি, কোনোটাই নেই।

৫. যেসব পরিবারে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি রয়েছে, সেসব পরিবারের শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে। অনলাইনে ক্লাস করার মতো মন-মানসিকতা তাদের নেই।

অনলাইন প্রক্রিয়ার ভর্তি ও পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বহু আগে থেকেই পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ব্যবস্থা সফলতার সঙ্গে ব্যবহার করে আসছে। বাংলাদেশেও অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রক্রিয়ার অধিকাংশ কার্যক্রম অনলাইনে করে থাকে। কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নানানরকম সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ অবস্থায় শিক্ষা-কার্যক্রম বন্ধ থাকলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কয়েক মাসের সেশনজট সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিবে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বন্ধের ক্ষতি পোষাতে সাপ্তাহিক ছুটিসহ অন্যান্য ছুটি কমিয়ে অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যাবে। কিন্তু করোনা সংকটকালীন আমাদের অনলাইন ক্লাস চলমান থাকলে, হয়তো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সেশনজট কিংবা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতো না। কিন্তু এত এত সীমাবদ্ধতার পরে যেখানে স্বয়ং শিক্ষার্থীদের (অধিকাংশ) অংশগ্রহণ অনিশ্চিত, সেখানে এই কার্যক্রম অনেকটাই বিলাসিতা। যদি আমাদের সীমাবদ্ধতাগুলো উত্তরণের উপায় খুঁজে বের করা যায়, কিছুটা হলেও সমাধান করে সিংহভাগ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়, তবেই এই অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রম ফলপ্রসূ হবে। অন্যথায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যাগুলোতে অনলাইন ক্লাস লোক দেখানো ছাড়া আর কিছু নয়।

লেখক : শিক্ষার্থী, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

Read previous post:
তামিলনাড়ুতে মিলল ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ লেখা স্বর্ণমুদ্রা

তৃতীয় মাত্রা ভারতের তামিলনাড়ুতে মিলেছে ষষ্ঠ শতকের এক স্বর্ণমুদ্রা। রাজ্যের শিবগঙ্গাই জেলার কালাইয়ার কয়েলের কাছে এলানধাক্কারাইয়ে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা...

Close

উপরে