Logo
সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০ | ২৯শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ভোগ্যপণ্যে ডিওর প্রভাব কমছে

প্রকাশের সময়: ৩:৩৫ অপরাহ্ণ - রবিবার | জুন ২১, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

দেশে কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ১ জুন থেকে সীমিত পরিসরে অফিস-আদালত ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালু হলেও শুরু হয়নি খাতুনগঞ্জের চিরায়ত ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) বাণিজ্য। ট্রেডিং বন্ধ থাকায় ভোগ্যপণ্যের ডিও নিয়ে আকস্মিক উত্থান-পতনও থেমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে ভোজ্যতেল, চিনি, গম ও মসলাজাতীয় পণ্যের দামে। আগের তুলনায় হঠাৎ মুনাফা বা লোকসানের হার কমে এসেছে ব্যবসায়ীদের। তবে ট্রেডিং বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে বুকিং দরের সঙ্গে পণ্যের দামে সমন্বয়হীনতায় অতি মুনাফার সুযোগ বেড়েছে বড় পাইকারি ট্রেডিং ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের।

দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ। এখানকার প্রায় কয়েক হাজার ডিও ব্যবসায়ী ব্রোকার ও শতাধিক ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানই নিত্য ভোগ্যপণ্যের দাম উত্থান-পতনে ভূমিকা রাখেন। নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হলে প্রশাসন জনসমাগম নিরুৎসাহিত করায় ডিও বেচাকেনা কার্যত বন্ধ রয়েছে। ডিও বিক্রিতে সমস্যার কারণে প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে ডিও নিয়ে স্লিপ বাণিজ্যও। এ কারণে শুধু ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান ও মুষ্টিমেয় কিছু ব্রোকারের মাধ্যমে রেডি পণ্যের ডিও বেচাকেনা চালু রয়েছে। এতে মিল মালিক ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানগুলোর একচেটিয়া মুনাফার সুযোগ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

খাতুনগঞ্জের একাধিক ট্রেডিং ব্যবসায়ী ও ডিও ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিও ও ডিওর বিপরীতে স্লিপ কেনাবেচা ৯০ শতাংশ কমে গেছে। ব্রোকাররা নভেল করোনাভাইরাসের কারণে বাজারমুখী নয়। এসব কারণে পণ্যের দামের বড় ধরনের উত্থান-পতনও নেই। এ পদ্ধতির সুবিধা হচ্ছে বাজারে হঠাৎ অস্থিরতা হয় না। তবে ট্রেডিং না থাকার সুযোগে আমদানিকারক ও বড় পাইকারি ট্রেডিং ব্যবসায়ীদের নির্ধারণ করা দামেই পণ্যের কেনাবেচা হয়। বৈশ্বিক বাজার কমলে কিংবা আমদানির মাধ্যমে পণ্যের বাজারজাতের খরচ কমে এলেও ইচ্ছামাফিক মুনাফার সুযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক বাজারে ভোজ্যতেলের (পাম অয়েল) বুকিং কমে এলেও দাম কমছে না। পাশাপাশি অপরিশোধিত চিনির বৈশ্বিক মূল্য পতনের দিকে থাকলেও দাম আশানুরূপ কমছে না খাতুনগঞ্জে।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জামাল উদ্দিন  বলেন, ‘ নভেল করোনাভাইরাসের কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার স্বার্থে ব্রোকারদের উপস্থিতি নেই। ফলে খাতুনগঞ্জের চিরায়ত ট্রেডিংয়ের লেনদেন তেমন একটা নেই। কারো প্রয়োজন হলেও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সরাসরি মিল থেকে উত্তোলনযোগ্য পণ্য ক্রয় করছেন। তবে নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমে এলে ট্রেডিং বাণিজ্য ফের শুরু হতে পারে।’ ডিও বা স্লিপ বাণিজ্যের লেনদেন না থাকায় পণ্যের অস্বাভাবিক দাম ওঠানামার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

খাতুনগঞ্জে খবর নিয়ে জানা গেছে, খাতুনগঞ্জে বাদশা মার্কেট, নবী মার্কেট, সোনামিয়া মার্কেট, ব্যাংক এশিয়া মার্কেট, জাফর মার্কেট, ইলিয়াস মার্কেট, চৌধুরী মার্কেটসহ বিভিন্ন ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের অফিসসংলগ্ন মার্কেটগুলো ডিও ও স্লিপ বিক্রির জন্য প্রসিদ্ধ। এসব মার্কেটে প্রতিদিন কয়েক হাজার ভ্রাম্যমাণ ব্রোকার ডিও কেনাবেচা, স্লিপ ক্রয়-বিক্রয়ে আনাগোনা করতেন। এসব মার্কেটে ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানগুলোর অফিস থাকায় ডিও ক্রয়-বিক্রয়ে ভিড় করতেন তারা। তবে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে জনসমাগম সীমিত করায় ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সীমিত করে এনেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ব্রোকাররাও আনছেন না বাজারে। এছাড়া ব্যাংক লেনদেনের সময়সীমা কমে যাওয়া, নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হলে পাইকারি বাজারে নগদ অর্থের সংকট, খাতুনগঞ্জের প্রাচীন নগদ সুদের কারবার (টু-টু) বন্ধ থাকায় ব্রোকারদের আনাগোনা কমাতে সাহায্য করেছে। এতে ভোজ্যতেল, চিনি, গম কিংবা গরম মসলা পণ্যের দীর্ঘদিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় স্থির রয়েছে।

খাতুনগঞ্জের একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, খাতুনগঞ্জের ডিও বাণিজ্যের সেকেন্ড পার্টি হচ্ছে ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান। ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানগুলো আমদানিকারকদের কাছ থেকে ডিও কিনে ব্রোকারদের কাছে বিক্রি করে দেন। পাশাপাশি ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানগুলো ডিওর বিপরীতে স্বল্পমূল্যে স্লিপ ছেড়ে বাজারে পণ্যটির দাম ওঠানামায় সহায়তা করেন। ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকা ডিওগুলোর বিপরীতে মিল থেকে পণ্য উত্তোলন করার আগেই ডিও একাধিক হাত ঘুরে পণ্যের দামের উত্থান-পতন ঘটে। ব্রোকাররা এসব ডিও বা স্লিপ ক্রয়-বিক্রয় করেই মুনাফা করেন কিংবা অনেক সময় লোকসানে পড়েন। বর্তমানে ব্রোকারদের উপস্থিতি ৯০ শতাংশ কমে যাওয়ায় বাজারে ডিওর চাহিদা কম। ডিও কম থাকায় স্লিপ বাণিজ্যও শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। ফলে পাইকারি বাজারে থাকা অধিকাংশ ডিওর পণ্যমূল্য কার্যত স্থির রয়েছে।

প্রসঙ্গত, খাতুনগঞ্জে ডিও ও স্লিপ বাণিজ্য অনেকটা কাগুজে শেয়ারবাজারের মতো। একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বাজারে ডিও ছেড়ে অর্থ তুলে নেয়। ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান ও ব্রোকাররা ওই ডিও হাতবদল করে লাভ করেন। এ হাতবদলের কারণে পণ্যের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা পতন হয়।

Read previous post:
টুইটার ছাড়লেন সোনাক্ষী সিনহা

তৃতীয় মাত্রা বলিউড অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহা নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় করে দিলেন । সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা, আক্রমণ, উৎপীড়ন থেকে...

Close

উপরে