Logo
মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০ | ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম চালকদের আরো ছাড়

প্রকাশের সময়: ২:১৮ অপরাহ্ণ - রবিবার | জুন ১৪, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যুতে অনিয়মের শুরুটা হয় লার্নার বা শিক্ষানবিশ লাইসেন্স দিয়ে। এটি পেতে শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ (ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণী) বিভিন্ন কাগজপত্রের সঙ্গে লাগে একজন ডাক্তারের সার্টিফিকেট। ডাক্তার না দেখিয়েও ‘জাল’ সার্টিফিকেট পাওয়া যায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সার্কেল অফিসগুলোর আশপাশেই। লার্নার লাইসেন্স নেয়া চালকদের একটা বড় অংশই এ পথ অবলম্বন করেন।

বিআরটিএর কাছ থেকে লার্নার লাইসেন্স নিয়ে দুই থেকে তিন মাস প্রশিক্ষণ নেবেন চালক। এরপর তাকে বসতে হবে পরীক্ষায়। ফিল্ড টেস্ট, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় পাস করলে তবেই মিলবে পেশাদার বা অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স। অব্যবস্থাপনা আর অনিয়মে ভরা এ ধাপ। ঘুষের জোরে কিংবা প্রভাবশালীর সুপারিশে ধাপটি পার হওয়ার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

বিআরটিএর এ অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ নিয়ে এমন অনেকেই গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পেয়ে যান, যাদের গাড়ি চালানোর ন্যূনতম দক্ষতাও থাকে না। কাঁচা হাতে গাড়ির স্টিয়ারিং ধরে অনেক সময় তারা নিজে যেমন দুর্ঘটনায় পড়েন, তেমনি অনেক সময় তাদের কারণে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয় অন্য গাড়িও।

বিআরটিএর ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যুর প্রক্রিয়াটি এমনিতেই অনিয়মে ভরা। তার ওপর চালকদের জন্য মাঝারি ও ভারী গাড়ির লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্যতা শিথিলের মেয়াদ আরেক দফা বাড়াল সংস্থাটি।

১৯৮৪ সালের মোটর ভেহিকল রুলসে স্পষ্ট করে বলা আছে, চালকরা প্রথমে মোটরসাইকেল বা হালকা গাড়ির জন্য শিক্ষানবিশ লাইসেন্স গ্রহণ করবেন। তিন বছর হালকা গাড়ি চালানোর পর চালক মাঝারি গাড়ি চালানোর আবেদন করতে পারবেন। আবেদনটি যোগ্য হলে চালক লাইসেন্স পাবেন। তিন বছর মাঝারি গাড়ি চালিয়ে তিনি ভারী গাড়ি চালানোর যোগ্য হয়ে উঠবেন। মোটরযানের ওজনের ওপর হালকা (২৫০০ কেজির নিচে), মাঝারি (২৫০০-৬৫০০ কেজির মধ্যে) ও ভারী (৬৫০০ কেজির ওপরে) ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা হয়েছে ওই বিধিতে।

আইনে লাইসেন্সপ্রাপ্তির শর্তের এসব কড়াকড়ি প্রজ্ঞাপন জারি করে শিথিল করে দিয়েছে বিআরটিএ। চালক এক বছর হালকা গাড়ি চালালেই যোগ্য হবেন মাঝারি গাড়ি চালানোর। একইভাবে এক বছর মাঝারি গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা দিয়ে করতে পারবেন ভারী গাড়ি চালানোর আবেদন। বিধি অনুযায়ী, ভারী গাড়ি চালানোর অনুমতি পেতে চালকের যেখানে ছয় বছরের বেশি অভিজ্ঞতার প্রয়োজন ছিল, প্রজ্ঞাপন জারি করে তা মাত্র দুই বছরে নামিয়ে এনেছে বিআরটিএ। আগের প্রজ্ঞাপনে চালকদের জন্য এ সুবিধা ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বলবৎ রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি প্রজ্ঞাপনটি সংশোধন করে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়িয়ে নেয়া হয়েছে।

বিআরটিএর এমন পদক্ষেপ সড়কে দুর্ঘটনা, বিশৃঙ্খলা বাড়াতেই থাকবে বলে মনে করেন পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সামছুল হক। তার মতে, বাংলাদেশে দক্ষ চালকের বড় সংকট। বিআরটিএর এ পদক্ষেপ সংকটকে আরো ঘনীভূত করে তুলবে। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, চালক যত বেশিদিন গাড়ি চালাবেন, তত দক্ষ হয়ে উঠবেন। দক্ষ চালক হওয়ার প্রধান মাধ্যম অভিজ্ঞতা। এটা একদিনে অর্জন করা সম্ভব নয়। অভিজ্ঞতা কমানোর মাধ্যমে বিআরটিএ হয়তো দেশে বিপুলসংখ্যক মধ্যম ও ভারী গাড়িচালক তৈরি করতে পারবে, কিন্তু সেই চালকরা কতটা দক্ষ হবে সেই প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়।

সরকার যেখানে দক্ষ চালক তৈরিতে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন লাইসেন্স পাওয়ার জন্য চালকদের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা বার বার কমিয়ে দিচ্ছে বিআরটিএ। বিষয়টি সরকারের দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিনা, জানতে চাইলে বিআরটিএর চেয়ারম্যান ইউছুব আলী মোল্লা সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। তিনি বলেন, দেশে মধ্যম ও ভারী গাড়ির চালকের সংকট রয়েছে। সংকট কাটাতেই এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

Read previous post:
তাহলে টানা অষ্টম শিরোপা পেয়েই গেল বায়ার্ন!

তৃতীয় মাত্রা জার্মান ক্লাব বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের ভাগ্য ছিল তাদের নিজেরই হাতে। করোনাভাইরাসের কারণে স্থগিত থাকার পর শুরু হওয়া বুন্দেসলিগায়, তাদের...

Close

উপরে