Logo
বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২০ | ২৪শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

ফলের চাষ করে স্বাবলম্বী ত্রিশালের রফিক, মেটাচ্ছেন পুষ্টি চাহিদা

প্রকাশের সময়: ১২:৫৭ অপরাহ্ণ - বুধবার | জুন ৩, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

আতিকুল ইসলাম আতিক,ত্রিশাল : ফলের চাষ করে স্বাবলম্বী ত্রিশালের রফিক,মাল্টা আম,আমড়া পেপে ফল ফলিয়ে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হচ্ছেন যেমনি তেমনি ভ‚মিকা রাখছেন পুষ্টি চাহিদা ও মেটানোতে। পরিবারের আর্থিক স্বচ্চলতা ফিরিয়ে আনতে মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তান সবাইকে ফেলে ১৪টি বছর প্রবাসে কাটিয়েও ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে পারেননি রফিক। রফিকের হয়তো জানা ছিলনা দেশের অকৃষি অনাবাদি উর্বর মাটির নিচেই লুকিয়ে আছে ভাগ্য ঘোরানোর চাকাটা। দীর্ঘ ১৪ বছর বিদেশের মাটিতে কষ্টের সময় পার করে দেশে ফিরে বাড়ির চারপাশের ২ একর অনাবাদি জমিতে গড়ে তুলেন রফিক মাল্টা, আম,আমড়া ও পেঁপেসহ নানা প্রজাতির ফলের বাগান। সেই ২ একর জমিতে নানা জাতের ফলের গাছ লাগিয়ে সেই গাছ গুলোকে যতœ করে বড়ো করে তোলেন। অল্প দিনের মাথায় ভালো জাতের ফলের এই গাছ গুলোতে ফল ধরতে শুরু করে। আত্মপ্রত্যয়ী ও পরিশ্রমী হলে যে,সফলতা মানুষের দ্বারপ্রান্তে এসে কড়া নাড়ে তা অল্প দিনের মাথায় প্রমাণ করেন ফল চাষী রফিক। দৃষ্টিনন্দন ও উৎপাদনশীল এমনই একটি ফলজ বাগান তৈরী করতে পারলে ভাগ্যের চাকাকে ঘুরিয়ে জীবনে সফলতা পাওয়া যায় তাও প্রমান করে দেখিয়েছেন ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার মোক্ষপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল কৈতরবাড়ী গ্রামের নেয়ামোতুল্লাহর ছেলে রফিকুল ইসলাম।
ফল চাষী রফিক জানান-উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল কৈতরবাড়ী গ্রামটি ওই অঞ্চলে সমতল ভ‚মির পরিমান খুবই কম। ছোট বড় টিলা ঘেরা ওই গ্রাম, আমাদের কাছে যা চালা নামে পরিচিত। সংসারিক খুব বেশী স্বচ্ছলতা না থাকায় খুব বেশি পড়াশুনা করতে পারেনি। তাই পরিবারের আর্থিক স্বচ্চলতা ফিরিয়ে আনতে মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তান সবাইকে ফেলে পাড়ি দিই সৌদি আরবের মরুপ্রান্তরে। ৫ বছর পর সৌদি থেকে দেশে ফিরে আবার চলে যান মালয়েশিয়াতে। সেখানে ফলের বাগান পরিচর্যার কাজ করেন দীর্ঘ ৯ বছর। ২০১৪ সালে দেশে ফিরে বাড়ির চারপাশের ২ একর অনাবাদি বা অকৃষি চালার জমিতে ফলজ ও কৃষি খামার করি। সেই বাগানে রোপন করি মাল্টা, আম,আমড়া, লিচু, আমলকি, উড়-বরই, লেবু পেঁপেসহ নানা প্রজাতির ফলের গাছ। বাগানটিতে কঠুর শ্রম ও পরিচর্যার ফলে বছর দুই ঘুরতেই গাছগুলোতে ফল ধরতে শুরু করে। বর্তমানে ৮ একর জমির ওই বাগানে জামরুল, সুবেদা, আনার, ডালিম, আরবের খেজুর ও মসলা জাতীয় এলাচিসহ ৩০ প্রজাতির ফলের গাছ লাগানো হয়েছে। গত ৬ বছরে বাগানটি উৎপাদনশীল হওয়ার পাশাপাশি দুষ্টিনন্দন ও হয়েছে। বর্তমানে আমার এই ফলজ বাগানে ৭ জন লোক কাজ করছে।
ফল চাষী রফিক জানান প্রতিমাসে হাইব্রিড প্রজাতি পেঁপেঁসহ বারমাসি লেবু বিক্রি হয় ৫০/৬০ হাজার টাকার। রফিক ফলজ ও কৃষি খামারে উৎপাদিত মাল্টা, আমড়া, লিচু, আমলকি, উড়-বরই, আম, পেঁপে ও লেবু ট্রাক ভরে রপ্তানি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। গতবছর বিভিন্ন জাতের ফল-ফলাদি বিক্রি করে আয় করেছেন প্রায় ১৫ লাখ টাকা। এবছর শীতকালিন সবজির জন্যও প্রস্তুত করেছেন প্রায় ৩ একর জমি। বিভিন্ন ফলের চারাও বিক্রি করে থাকি ।
ফল চাষ ও তা বিক্রি করে ইতিমধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ও পুষ্টি চাহিদা পুরণে বিশেষ অবদান রাখায় কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের বেশ ক’টি প্রশংসাপত্র কুড়িয়েছেন রফিক। রফিকের উৎপাদনধর্মী ফলজ বাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে বেশ কয়েকজন স্থানীয় কৃষক ফলজ বাগান করার কাজ শুরু করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোয়েব আহমেদ জানান,তিনিসহ কৃষি বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা সরেজমিনে গিয়েছিলেন রফিকের ফলজ ও কৃষি খামারে। তিনি বলেন, ওই বাগানে কোন প্রকার কেমিক্যাল বা রাসায়নিকবদ্র ব্যবহৃত হয় না। ফলগুলো অত্যন্ত সুস্বাদু। রফিকের উৎপাদনধর্মী ফলজ বাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে বেশ কয়েকজন স্থানীয় কৃষক ফলজ বাগান করার কাজ শুরু করেছেন। দেশের অর্থনীতিতে ও পুষ্টি চাহিদা পুরণে বিশেষ অবদান রাখছে রফিক।

 

 

 

 

 

 

Read previous post:
অস্ট্রেলিয়ায় যেমন আছেন ঈশানা

তৃতীয় মাত্রা লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্ল্যাটফরম থেকে মিডিয়ায় যাত্রা শুরু হয়েছিল মৌনিতা খান ঈশানার। ধীরে ধীরে ছোট পর্দায় নিজের...

Close

উপরে