Logo
বুধবার, ০৩ জুন, ২০২০ | ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আম্ফানে পাকাধানে মই: দুমড়ে-মুচড়ে গেছে বিরামপুরের কৃষকের স্বপ্ন

প্রকাশের সময়: ৬:১৪ অপরাহ্ণ - শুক্রবার | মে ২২, ২০২০

 

তৃতীয় মাত্রা

নূরে আলম সিদ্দিকী নূর, বিরামপুর (দিনাজপুর) : সকালে ঘুম থেকে উঠে জমির হাঁটুপানিতে ডুবে থাকা ভেঙে যাওয়া এলোমেলো ধানের গাছ গোছাচ্ছেন আর কাটছেন পারগোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক আবু হাসান। সেইসাথে মুখে বিড়বিড় করছেন, ‘আম্ফান আর কয়টা দিন সময়ও দিল না, মোর সব ধান পানির তলে দিল, এলা ধান মুই ক্যাংকা করে বাড়িত তুলুম’।

সাইক্লোন আম্ফানের প্রভাবে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার মাঠের অধিকাংশ কৃষকের বোরোধান হেলে পড়ে এলোমেলো হয়ে গেছে। এ যেন কৃষকের “পাকা ধানে মই” দেয়ার মত অবস্থা। অনেকের পাকা ধান হাঁটুপানিতে নিমজ্জিত। গত দুইদিনের টানা ঝড়-বৃষ্টিতে এসব ধান ভেঙে পড়ে যায়। আর জমিতে বৃষ্টি জমায় পাকা ধানের শীষ এখন সেই পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। শুধু তাই নয়, খাঁড়ি ও বিল এলাকার পানি নিস্কাসনের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক কৃষকের পাকা ধান অতিবৃষ্টির পানিতে ডুবতে শুরু করেছে। বিশেষ করে উত্তরের উজানের পানি গড়িয়ে দক্ষিণে আসায় উপজেলার মুকুন্দপুর ইউনিয়নের পশ্চিমের “দূর্বা আঁচড়ি” বিল, কাটলা ইউনিয়নের শৈলান-বেনুপুর মাঠের “গুনির খাঁড়ি” ও খিয়ারমামুদপুরের “কাঠুরিয়া” বিলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মাঠের পাকা বোরোধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন এলাকার কৃষকরা। খিয়ারমামুদপুরের কাঠুরিয়া বিলে নমির উদ্দিন কবিরাজ, সামসুদ্দিন কবিরাজ, জুয়েল কবিরাজ, রুবেল কবিরাজ ও নজর আলী মাস্টারের প্রায় ৬০ বিঘা জমির ধান এখন সম্পূর্ণ পানির তলে।
কৃষক জুয়েল কবিরাজ জানান, কাঠুরিয়া বিলে প্রায় ২শ বিঘা জমির বোরোধান পানিতে ডুবে আছে। আজ-কালের মধ্যে ভারতের স্লুইসগেইট খুলে না দিলে ডুবে থাকা এসব ধানের আশা ছেড়ে দিতে হবে।

জানা গেছে, খিয়ারমামুদপুরের দক্ষিণে ভারত সীমান্তের সাতটি স্লুইসগেইটের মধ্যে পাঁচটি গত ৫ বছর ধরে স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং বাকি দুইটি গেইট মাঝেমধ্যে সামান্য করে খুলে দিলেও এখন তা বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের এসব বিল ও খাঁড়িতে আটকা পড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। আর গত দুইদিনের টানা বৃষ্টির কারণে সেটি এখন কৃষকের জন্য গোদের উপর বিষফোঁড় হয়েছে।
জোতবানী ইউনিয়নের ধনসা গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে আমার তিনবিঘা জমির মিনিকেট ধান হেলে পড়েছে। শ্রমিক সংকট থাকায় সেগুলো ঈদের আগে কাটা সম্ভব হবে না।

খানপুর ইউনিয়নের বাগলপাড়া গ্রামের কৃষক আফতাব উদ্দিন জানান, টানা ঝড়বৃষ্টির কারণে আমার আড়াই বিঘা জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে। এক বিঘা জমির ধান পড়ে গেছে যেগুলো কাটতে শ্রমিকরাও এখন বেশি টাকা হাঁকছে।

কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, আগামী তিনদিনের মধ্যে এ পানি নেমে না গেলে পাকাধান পঁচে নষ্ট হবে আর সময়মত শ্রমিক না পাওয়া গেলে সেই ধান বাড়িতে তোলা সম্ভব হবে না।

বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিকছন চন্দ্র পাল উপজেলার এসব ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, সাইক্লোন আম্ফানের প্রভাবে টানা ঝড়বৃষ্টি হওয়ায় বিরামপুর উপজেলায় প্রায় ১৫ শ হেক্টর জমির বোরোধান হেলে পড়েছে। তবে, সব ধানই এখন পরিপক্ব হয়েছে এবং সেগুলো দুই-একদিনের মধ্যে কাটতে পারলে কৃষকের তেমন কোনো ক্ষতি হবে না।

Read previous post:
মধুপুরে ইউপি চেয়ারম্যানের নিজ তহবিল থেকে ১০০০ পরিবারকে ঈদ সামগ্রী উপহার প্রদান

তৃতীয় মাত্রা সাইফুল ইসলাম, মধুপুর (টাঙ্গাইল) : টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলায় নিজ ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১০০০ পরিবারকে ঈদ সামগ্রী উপহার...

Close

উপরে