Logo
শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০ | ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ফিতরা দেয়ার গুরুত্ব ও ফজিলত

প্রকাশের সময়: ১২:০৬ অপরাহ্ণ - শুক্রবার | মে ২২, ২০২০

 

 

তৃতীয় মাত্রা

রহমত বরকত মাগফেরাত ও নাজাতের মাস রমজানের রোজা পালন শেষে গরিবের মুখে হাসি ফোটানোর অন্যতম মাধ্যম সাদকাতুল ফিতর। ঈদুল ফিতরের আগেই এ সাদকায়ে ফিতর দেয়া জরুরি। এ অর্থ দিয়েই তো গরিব-অসহায়রা পরিবারের জন্য ব্যয় করবে। ধনীর সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করবে। এমন অনেকেই আছেন, যারা সাদকায়ে ফিতর সম্পর্কে ধারণা রাখেন না। সাদকায়ে ফিতরের পরিচয়ও জানেন না। তাদের জন্য সাদকায়ে ফিতরের পরিচয়, ফজিলত, ফিতর আদায়ে করণীয় ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরা হলো-
সাদকায়ে ফিতর : সাদকায়ে ফিতর হলো-রোজা খোলার সাদকা বা দান। সাদকায়ে ফিতর এমন দানকে বলা হয়, যা পুরো রমজান মাস রোজা রাখার পর ঈদের দিন সব সামর্থ্যবানদের জন্য আদায় করা আবশ্যক। এ বিশেষ দান দিয়েই গরিব-অসহায় মানুষ ঈদের আনন্দে মেতে ওঠবে।
সাদকায়ে ফিতর আদায়ের নির্দেশ ও ফজিলত :
– সাকদায়ে ফিতর দ্বারা কুরআনুল কারিমে পরিশুদ্ধ হওয়ার কথা বুঝানো হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-‘নিশ্চয় সাফল্য লাভ করবে সে, যে পরিশুদ্ধ হয় ৷’ (সুরা আলা : আয়াত ১৪) মুফাসসিরিনের কেরামের মতে, এ পরিশুদ্ধ দ্বারা সাদকায়ে ফিতরকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। অর্থাৎ যারা সাদকায়ে ফিতর আদায় করবেন তারাই লাভ করবেন সফলতা।
– হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, গোলাম, স্বাধীন, পুরুষ, নারী, ছোট, বড় সব মুসলিমের ওপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ‘সা’ খেজুর, অথবা অর্ধ ‘সা’ গম জাকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন এবং (ঈদের) নামাজের আগে তা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন।’ (বুখারি, মুসলিম)
– হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাদাক্বাতুল ফিতরকে অপরিহার্য করেছেন, অনর্থক অশালীন কথা ও কাজে রোজার যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণের জন্য এবং নিঃস্ব লোকের আহার যোগানোর জন্য।’ (আবু দাউদ)
– হজরত জারির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রামজানের রোজা সাদকাতুল ফিতর আদায় করার পূর্ব পর্যন্ত আসমান-জমিনের মাঝে ঝুলন্ত থাকে।’ (তারগিব ওয়াত তারহিব)
– হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন ঘোষক দিয়ে মক্কার পথে পথে এ ঘোষণা দেয়ালেন যে, জেনে রেখো! প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, গোলাম-স্বাধীন, ছোট-বড় সকলের ওপর সাদাক্বায়ে ফিতর অপরিহার্য। দুই মুদ (আধা সা) গম কিংবা এক সা অন্য খাদ্যবস্তু।’ (তিরমিজি)
সাদকায়ে ফিতর আদায় করার গুরুত্ব
– সাদকায়ে ফিতর আদায় করা মুমিনের জন্য আল্লাহ কর্তৃক অত্যাবশ্যকীয় বিধান ৷
– হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী-‘তুহরাতুল্লিস সায়িম’ অর্থাৎ একমাস সিয়াম সাধনায় মুমিনের অনাকাঙ্খিত ত্রæটি-বিচ্যুতির কাফফারা হলো সাদকায়ে ফিতর।
– হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী-‘তুমাতুল্লিলমাসাকিন’ অর্থাৎ সমাজের অসহায়, দুঃস্থ-দরিদ্র, রিক্তহস্ত জনগোষ্ঠি যাতে বছরান্তে একটি দিন অন্তত খেয়ে-পরে আনন্দ উদযাপন করতে পারে ৷
– দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পরে আল্লাহ তাআলা কর্তৃক পানাহারের অনুমতি মিলায় তার কৃতজ্ঞতা স্বরূপ সাদকায়ে ফিতর আদায় করা ৷
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সাদকায়ে ফিতরের গুরুত্ব অনুধাবন করে রমজানের রোজার ত্রæটি-বিচ্যুতি থেকে মুক্তি লাভের তাওফিক দান করুন। সাদকায়ে ফিতরের গুরুত্ব ও ফজিলত লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Read previous post:
গোপালপুরে ভিজিডি’র চাল বিতরণ

তৃতীয় মাত্রা বিধান চন্দ্র রায়, গোপালপুর (টাঙ্গাইল) : টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে ২১ মে বৃহস্পতিবার সামাজিক দুরত্ব...

Close

উপরে