Logo
রবিবার, ৩১ মে, ২০২০ | ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ঘরে ফেরার সময় জানা নেই

প্রকাশের সময়: ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ - সোমবার | মে ১৮, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

মো ফাহাদ বিন সাঈদ :করোনাভাইরাস নামের অতিক্ষুদ্র জীবাণুর বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়ছে গোটা বিশ্ব। এ লড়াই নিজেকে বাঁচানোর এবং অন্যকে বাঁচানোর। অর্থনৈতিক মন্দার হাতছানি দেয়া স্থবির বিশ্বে আগামীর সঙ্কট মোকাবেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে সবাই যৌথ এবং একক চেষ্টায়। স্বেচ্ছায় গৃহবন্দী থেকেও অন্যকে বাঁচানোর যুদ্ধে ভালবাসার হাত বাড়িয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে মানুষ। লড়াই চালানোর পাশাপাশি আগামীর দিনগুলোর কথা ভেবে দেশে দেশে নেয়া হচ্ছে নানা অর্থনৈতিক প্রস্তুতি। নেয়া হচ্ছে জীবন বাঁচানোর প্রযুক্তি আবিষ্কারের চেষ্টা। এমন পরিস্থিতিতে দেশ ও মানুষের জন্য নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে বাংলাদেশও। ঘর থেকে প্রতিবেশী আর দেশ থেকে বিশ্ববাসীর জীবন বাঁচানোর এ যুদ্ধে এক কাতারে শামিল সবাই ।

আমার নিজের এবং নিজের একলার জানা নেই কবে ঘরে ফেরা হয়েছিল।মাসের পর মাস চলে যাচ্ছে লকডাউন পরিস্থিতি স্থিতিশীল হচ্ছে না, হচ্ছে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ কোন কর্মসংস্থান এর সুযোগ গৃহবন্ধী আমি ও আমার এলাকার মানুষ।ঠিক একই ভাবে বাংলাদেশ সহ সারা পৃথিবী।
আমার লকডাউন ও গৃহবন্দীর কিছু কথা,আমি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র।ক্যাম্পাস বন্ধ হয়েছে সেই কবে জানা নেই সেই সময়।বন্ধুদের সাথে আড্ডা, ক্লাস, খেলাধুলা সব বন্ধ।গৃহবন্দী জীবন দশা কারাগারে চেয়েও কষ্টের।করাণ,সব নিজের মতো তাও বের হওয়া যায় না কেবল সচেতনতার জন্য, নিজেকে,পরিবার এবং দেশের মানুষকে রক্ষা করতে।লকডাউন যাওয়া হয়না কোথাও, রুমের বিতর শুদো অনলাইনে খোঁজ-খবর।শুধুই বিরক্ত সময়, কাউকে বলার কিছু নেই। এই দুনিয়ায় মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে শুধুই দোয়াকরি প্রভু  যেন আমাদের মুক্তি দেয়।তিনি ছাড়া  এই গৃহবন্দী জীবন দশা থেকে কেউ মুক্তি দিতে পারবেনা।তাই এই রমজানের শেষ দশ দিনেও মহান প্রভুর কাছে আরাধনা একটাই প্রভু ক্ষমা করেও দাও আমাদের। আবার সেই মুক্ত ভাবে চলতে পারি আমারা সবাই।
নোভেল করোনাভাইরাসে সব বয়সী মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে আর প্রতি ঘণ্টায় আসছে মৃত্যুর সংবাদ। সর্বশেষ তথ্যে এই ভাইরাসে বিশ্বে আক্রান্ত ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।  ভাইরাসের আক্রমণের প্রকোপ কমাতে দেশে দেশে লকডাউন, শাটডাউন করে রাখায় স্থবির হয়ে গেছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। এর মধ্যেই স্বপ্ন দেখতে হচ্ছে আগমী দিনের। করোনা গ্রাস থেকে মুক্তির পর কিভাবে চলবে দেশ, জাতি, মানুষ এই পরিকল্পনায় ব্যস্ত পর থেকেই সচেতনতার কথা বেশি বেশি করে বলা হচ্ছে। ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ থেকে দেশের মানুষদের রক্ষায় গত ২৬ মার্চ থেকে লম্বা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। প্রথম ১০ দিনের ছুটি হলেও তা এখন বেড়ে ১৭ দিন হয়েছে। এই সময়ে নিজেকে বাঁচানোর যুদ্ধ করছে সবাই সাথে আমিও।
 প্রয়োজন ছাড়া আমি খুব একটা বের হচ্ছেন না। নানা কাজে ছুটে চলা মানুষগুলো নিজেদের প্রয়োজনেই নিজেদের গৃহবন্দী করে রাখছি।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ওষুধের দোকান ছাড়া অন্য কিছু। অন্যান্য পণ্যের ব্যবসায়ীরাও এখন নিজেকে বাঁচানোর জন্য নিজে নিজে হোম কোয়ারেন্টাইনে সময় কাটাচ্ছেন। সচেতনভাবেই নিজেদের গুটিয়ে রাখছেন মানুষ। একই সময়ে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে বা মুঠোফোনে বন্ধু-স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কেউ কেউ এগিয়ে আসছেন মানবিক সহায়তায়।
আমরা ছুটে চলা মানুষরা নিজেদের বাঁচাতে এখন নিজেদের বন্দী করেছি নিজ ঘরে আবার আমরাই কারও না কারও পাশে দাঁড়াচ্ছি, মানবিক হচ্ছি, সহায়তার হাত বাড়াচ্ছি। আমরা নিজেও বাঁচার চেষ্টা করছি অন্যকেও বাঁচানোর চেষ্টা করছি।
প্রতিদিনই সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ঘরে থাকার উৎসাহ দিয়ে নানা বিষয় পোস্ট করা হচ্ছে।অন্যদের বাঁচাতে মানুষের পাশে মানুষ এদিকে, করোনার কারণে সবাই যেখানে গৃহবন্দী সেখানে বেকায়দায় পড়েছেন নিম্ন আয়ের অসচ্ছল দরিদ্র মানুষগুলো। কাজ না থাকায় আয় নেই, নেই খাবারের নিশ্চয়তাও। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন সমাজের অন্যান্য মানুষ। ব্যক্তি উদ্যোগ, সামাজিক বা বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে নিত্যপণ্য নিয়ে দরিদ্রদের ঘরে ঘরে খাদ্যপণ্য পৌঁছে দিচ্ছেন তারা।
Read previous post:
শরীয়তপুরে পাগলি জন্ম দিল ফুটফুটে কন্যা সন্তান, নেই বাবার পরিচয়

মোঃ ওমর ফারুক, শরীয়তপুর : শরীয়তপুরে পাগলি জন্ম দিল ফুটফুটে কন্যা সন্তান, নেই বাবার পরিচয়।গত রাতে সড়কের পাশে মানসিক ভারসাম্যহীন...

Close

উপরে