Logo
বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০ | ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মুদ্রণ ও প্রকাশনা শিক্ষা : ভবিষ্যতের বাংলাদেশ

প্রকাশের সময়: ১১:০৮ অপরাহ্ণ - বুধবার | মে ১৩, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

সভ্যতার আদিতে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ভাষা মানুষের মুখে মুখেই থেকে গেছে। যখন তা সংরক্ষণের চিন্তা আসলো, তখন নানা প্রকার প্রাকৃতিক বস্তু চিহ্নরূপে সংরক্ষিত হতে থাকলো। মানুষের এই চিন্তা ও চেতনার বিকাশ লক্ষ্য করা যায় ৩০ হাজার বছরেরও আগে গুহাচিত্রের মাধ্যমে। এভাবে এক সময় আবিস্কৃত হয় অক্ষরের রূপ। আর সে অক্ষর তা খোদাই করে জ্ঞান সংরক্ষণের চেষ্টা হলো। অক্ষরের এই সুশৃঙ্খল বিন্যাসের মাধ্যমে মানুষ ধরে রাখতে শিখে তার কথাকে। প্রথমে নির্দিষ্ট লিপিকরের মাধ্যমে তা হাতে লিখে সংরক্ষণের ব্যবস্থা হলো। পরে সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে মানুষের মাথায় আসলো মুদ্রণের ধারণা। যতই দিন গেছে, ততই ভাবতে শিখেছে মানুষ। তাদের এই ভাবনা ও আবেগ প্রকাশের জন্য একটি কার্যকর  মাধ্যম আবিস্কারের চেষ্টা চালিয়েছে দিনের পর দিন।

বেঁচে থাকার উপায় খুঁজতে গিয়ে মানুষ পারস্পরিক ভাবনা-বিনিময়ের মাধ্যমে অর্জন করেছে জ্ঞান। ধীরে ধীরে এই জ্ঞান বিশ্লেষণের ক্ষমতাও অর্জন করেছে। সময়ান্তরে মানুষের মধ্যে জ্ঞানের যে প্রসার ঘটেছে—সেই প্রক্রিয়াটিকে আমরা বলছি শিক্ষা। শিক্ষণীয় বিষয়সমূহকে অনুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে মানুষ জ্ঞানার্জনের সময়োপযোগী ধাপগুলোকেও চিহ্নিত করতে শিখেছে। এক সময় মুদ্রণ ও প্রকাশনা জ্ঞান বিকাশের পথে বড় মাধ্যম হিসেবে সামনে এলো। এতকাল এই অঞ্চলে এই বিষয়টি শিক্ষার উপযোগী বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়নি। ফলে, আমাদেরকে পিছিয়ে থাকতে হয়েছে জ্ঞান বিস্তারের ক্ষেত্রে অনেক দূর। অথচ জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই আমরা, পিছিয়ে নেই জ্ঞানসৃষ্টির ক্ষেত্রেও।

ধীরে ধীরে মানুষ জ্ঞান বিশ্লেষণের ক্ষমতা যেমন অর্জন করে, সেই অর্জিত জ্ঞান ধরে রাখার এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হস্তান্তরের উপায়ও বের করতে উদ্যোগী হয়। এভাবে অর্থবোধক ধ্বনি ও চিহ্নের মধ্যে সমন্বয়ের চেষ্টা চলে। ভাষা পায় ক্রম-মার্জিত রূপ। এভাবে এগিয়ে গেছে মানব-সভ্যতার কাল।

মুদ্রণশিল্পের আবিষ্কার মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক বড় অর্জন। সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে পায়ে পা ফেলে বিকাশ হতে থাকে এই শিল্প। আমাদের এই অঞ্চলে মুদ্রণযন্ত্র স্থাপিত হয় ঊনবিংশ শতাব্দীতে। জানা যায়—এই অঞ্চলে প্রথম ছাপাখানা স্থাপিত হয়েছিল রংপুরে, ১৮৪৭-৪৮ সালে। ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ঢাকায়, পরবর্তীকালে অন্যান্য জেলা শহরে আরও ছাপাখানা স্থাপিত হতে থাকে। এভাবে মুদ্রণ ও প্রকাশনা নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ফলে দিনদিন আধুনিকতর হয়েছে। আমরা কেবল প্রশিক্ষিত জনশক্তি তৈরির ক্ষেত্রটিতেই পিছিয়ে আছি। এতকাল এই অঞ্চলে ‘মুদ্রণ ও প্রকাশনা’ উচ্চশিক্ষার উপযোগী বিষয় হিসেবে পরিগণিত হয়নি। ফলে, আমাদেরকে পিছিয়ে থাকতে হয়েছে জ্ঞান বিস্তারের ক্ষেত্রে অনেক দূর। অথচ জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে নেই, পিছিয়ে নেই জ্ঞানসৃষ্টির ক্ষেত্রেও। শুধু পিছিয়ে ছিলাম—জ্ঞান বিতরণের বড় মাধ্যম সম্পাদনা, মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিষয়ক দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরির ক্ষেত্রে।

বর্তমান বিশ্বে প্রকাশনা একটি অগ্রসরমান মাধ্যম—যা প্রতিনিয়ত আধুনিকতর রূপে বিকশিত হচ্ছে। দিনদিন নবতর চিন্তা ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির সমন্বয়ে দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এর রূপাদল। বাংলাদেশও প্রযুক্তির এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিল্প, বিজ্ঞান, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে। আজ বাংলাদেশ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের মর্যাদা পেয়েছে। আমাদের কৃষি, আমাদের শিল্প, আমাদের অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি এর মূল কারণ। একটি আধুনিক রাষ্ট্রের মৌলিক সূচকের প্রতিটি ধাপে সফলতার ছাপ রাখতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। এ সব ক্ষেত্র তখনই সফলতা পেতে পারে, জাতি যখন সমাজের সার্বিক অগ্রগতির জন্য মানুষের জ্ঞানবৃদ্ধির সব বিষয়কে জাতীয় শিক্ষার বিষয় হিসেবে গণ্য করতে শেখে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান কখনো গতানুগতিকতার মধ্যে আবদ্ধ থাকে না। প্রতিনিয়ত নবতর জ্ঞানসৃষ্টির মধ্য দিয়ে তা জাতীয় অগ্রগতির নিয়ামকের ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশে মুদ্রণ ও প্রকাশনাশিল্প নীতিনির্ধারকদের সুদৃষ্টির বাইরে থেকেছে দীর্ঘকাল। ফলে গড়ে ওঠেনি দক্ষ প্রকাশনা পেশাজীবী। চাকরির ক্ষেত্রেও প্রকাশনাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করা এক সময় কঠিন সিদ্ধান্তই ছিল। আগে বাংলাদেশে প্রকাশনা পেশায় যারা যুক্ত হয়েছিলেন— বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে, তাদের মধ্যে তেমন কারো এই বিষয়ে একাডেমিক শিক্ষা ছিল না। কাজ করতে করতে যেটুকু শেখা! আমাদের মতো ক্রম-অগ্রসরমান দেশে মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিষয়ে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন ছিল অনেক আগে।  উন্নত দেশগুলোতে মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিষয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের সুযোগ রয়েছে বিধায় সেসব দেশে অনেক আগে থেকেই এ ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে। আর আমরা শিখেছি কাজ করতে করতে ঠেকে ঠেকে। তাতে কোনো মতে কাজ চালানো যায় বটে, কিন্তু তা মোটেই বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের দক্ষতা অর্জনের জন্য যথেষ্ট নয়। মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিষয়ে উচ্চতর একাডেমিক কোর্স থাকলে আমাদের প্রকাশনাশিল্পের এই রুগ্ন অবস্থা এতকাল বিরাজমান থাকত না। স্বভাবিকভাবে তা আমাদের জাতীয় উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারত।

সাহিত্যে, চারুশিল্পে কিংবা বিজ্ঞান গবেষণায় বাংলাদেশ পিছিয়ে নেয়। আমাদের মেধাবী বিজ্ঞানী, গবেষক ও প্রযুক্তিবিদদের অবদান সারা বিশ্বে নন্দিত হচ্ছে। নিজেদের উদ্ভাবিত কৌশল কাজে লাগিয়ে আমরা আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি। আমাদের বেড়েছে মাথাপিছু আয়। আমাদের কৃষিসহ সামগ্রিক অগ্রগতির রূপ এবং এর সুফল সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রকাশনা-মাধ্যম বড় ভূমিকা রাখতে পারে সহজেই। গ্রন্থ প্রকাশের পাশাপাশি পত্র-পত্রিকা, সাময়িকী-জার্নাল ইত্যাদি এ ক্ষেত্রে পালন করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। প্রকাশিত পুস্তক-পুস্তিকা, নিউজলেটার ইত্যাদি অনেক সময় সাধারণ পাঠকের জন্য মূল্যবান হয়ে ওঠে—তার পাঠউপাদানের জন্য। যেকোনো সামাজিক তথ্য, গবেষণার যেকোনো ফলাফল, যা দেশের মানুষের কাজে লাগবে—তা জনস্বার্থে প্রচারের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে প্রকাশনা। সব ক্ষেত্রে তা পাঠকের বোধের স্তর অনুযায়ী সম্পাদনা ও পরিমার্জন করে, প্রয়োজনে পুনর্লিখন করে উপস্থাপনের প্রয়োজন পড়ে। এ ক্ষেত্রেও  প্রকাশক/সম্পাদকের স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গী ও সৃষ্টিশীল মন থাকা দরকার। অনেক সময় বিজ্ঞান বিষয়ের কোনো কোনো লেখা সাধারণ মানুষের বোধগম্য করে সহজ ভাষায় প্রকাশ করার প্রয়োজন হয়। সে ক্ষেত্রে লেখকের মূল বক্তব্যকে অবিকৃত রেখে লেখকের সঙ্গে পরামর্শক্রমে তা করতে হয়। এ সবই একজন সম্পাদক/প্রকাশকের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত বিষয়। আমাদের দেশে এরও অভাব প্রকট—যা শিক্ষার মাধ্যমেই অর্জন করতে হয়।

আমাদের মতো ক্রম-অগ্রসরমান দেশে মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিষয়ে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম চালুর আশু প্রয়োজন ছিল আরও আগে। আমি ২০০১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আমি বাংলাদেশে প্রকাশনা বিষয়ে শিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। এ ক্ষেত্রে যতই বিলম্ব হয়েছে, ততই আমরা পিছিয়ে পড়েছি। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও তার ব্যবস্থা অনেক আগে থেকেই ছিলো বলে এ ক্ষেত্রে তারা এগিয়ে গেছে। প্রকাশনা বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষার ব্যবস্থা এতকাল আমাদের ছিল না বলেই আমরা পিছিয়ে আছি। যে কারণে আমাদের প্রকাশনাও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তেমন মানসম্পন্ন হয়নি। ফলে পাঠক তৈরিতে যেমন ধীর গতি হয়েছে, বিশ্ববাজারেও আমরা তেমন জায়গা করে নিতে পারিনি। এমনকি আমাদের বড় বড় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহেও প্রকাশনা পেশাজীবীর চাহিদা থেকেই গেছে বছরের পর বছর। যে কারণে প্রতিষ্ঠানিক পর্যায়ের প্রকাশনার মানও অধোমুখী। মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিষয়ের পাশাপাশি সম্পাদনা বিষয়েও শিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।

একজন প্রকাশন-পেশাজীবী হিসেবে আমাদের দেশে প্রকাশনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ কিংবা উচ্চশিক্ষার বিষয়টি আমার ভাবনার মধ্যে থেকে যায়। আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্ক ফর দ্য এভেইল এবিলিটি অব সায়েন্টিফিক পাবলিকেশন-এর সহযোগিতায় ২০০৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জার্নাল প্রকাশনা বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক মানের কর্মশালার আয়োজন করি। বিষয় ছিল—স্ট্রাটেজিক জার্নাল পাবলিশিং ওয়ার্কসপ। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা সংস্থায় জার্নাল সম্পাদনা/প্রকাশনার সাথে যুক্ত ২৪ জন অধ্যাপক/গবেষক অংশ নেন। সেই কর্মশালায় প্রকাশনা বিষয়ে উচ্চশিক্ষার বিষয়টি গভীরভাবে অনুভূত হয়। অংশগ্রহণকারী ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অধীক আগ্রহের ফলে ২০০৮ সালে পুনরায় আয়োজন করি—অনলাইন জার্নাল পাবলিশিং ওয়ার্কসপ। এই কর্মশালায় ২৩ জন অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশে প্রকাশিত জার্নাল বিশ্বপাঠকের কাছে প্রাপ্য করতে ‘বাংলাদেশ জার্নাল অনলাইন’ সংক্ষেপে banglajol নামে একটি ওয়েবসাইটও প্রতিষ্ঠা করা হয়—যা ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে এবং বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রায় সকল জার্নাল এই সাইটে পাওয়া যাচ্ছে। এই কৃতিত্বও  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। ২০০৯ সালে তৃতীয় বারের মতো আবারো পাবলিশিং বিষয়ে তৃতীয়বারের মতো আর একটি ওয়ার্কসপের আয়োজন করি। আমি এ সকল ওয়ার্কসপের সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেছি।

এই দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশে প্রকাশনা বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা কার্যক্রম চালুর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করি। কর্তৃপক্ষের পরামর্শে আমি ‘ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিশিং স্টাডিজ’ নামে একটি  বিভাগ প্রতিষ্ঠার খসড়া প্রস্তাব প্রস্তুত করি এবং পরে ২০০৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিশিং স্টাডিজ নামে বিভাগ খোলার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উপস্থাপন করি। সে উদ্যোগ ধীর গতিতে এগোয় এবং আমার প্রচেষ্টাও অব্যাহত থাকে। এর  কিছুসময় পরে  বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী বেশ কিছু পরিমার্জন করে ‘ডিপার্টমেন্ট অব প্রিন্টিং এন্ড পাবলিকেশন স্টাডিজ’ নামে তা পুনরায় উপস্থাপন করি। প্রস্তাবটি ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এবং ২০১৫ সালের ১২ মে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত হয়। আজ ১২ মে বিভাগের ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে আমি বিভাগ-প্রতিষ্ঠার সময়ের সুখস্মৃতি রোমন্থন করছি এবং পরবর্তীতে বিভাগটিকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নিষ্ঠার জন্য এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক সুধাংশু শেখর রায় ও অন্য শিক্ষকদের অবদানকে আনন্দচিত্তে স্মরণ করছি।  আগামীর সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে এই বিভাগের মেধাবী ছাত্রছাত্রীরাও অবদান রাখবে— এই আমাদের প্রত্যাশা।

সভ্যতার অগ্রগতিতে যতদিন মানুষের চিন্তার প্রতিফলন থাকবে, সমাজে জ্ঞানের সৃষ্টি হতে থাকবে—প্রকাশনা বিষয়ক শিক্ষার গুরুত্বও থাকবে ততদিন। আগামীর প্রকাশনা যে প্রক্রিয়াতেই হোক না কেন—মানুষের জ্ঞানের বিকাশের জন্য প্রকাশনার গুরুত্ব থেকেই যাবে। যদি আমরা ই-পাবলিশিং-এর কথাও বলি : সে ক্ষেত্রেও সম্পাদনা, মেক-আপ, প্রুফ সংশোধন, কালার নির্বাচন ইত্যাদি সব বিষয়কে  যত্মের সঙ্গে করতে হবে। হোক না তা কাগজের মুদ্রণের বদলে কম্পিউটার স্ক্রিন। তা সত্ত্বেও বলতে হয়, প্রকাশনা শিল্প প্রযুক্তিনির্ভর হলেও পাশাপাশি কাগজে মুদ্রিত গ্রন্থের কদর থেকেই যাবে পাশাপাশি। সভ্যতা ও প্রকাশনাশিল্প পরস্পর সম্পূরক বিষয় হয়ে থাকবে আবহমান কাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিষয়ের মতো এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উচ্চশিক্ষার পথ উন্মুক্ত করে এক্ষেত্রে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। অদূর ভবিষ্যতে আমাদের প্রকাশনাশিল্প বিশ্বমানে উন্নীত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। ফলে আধুনিক প্রযুক্তিবিশ্বে দেশ অর্জন করবে কর্মমুখী জ্ঞানচর্চার সুফল, আর প্রকাশনাশিল্পের বিকাশে সমাজেও বাড়বে জ্ঞানের পরিধি, গুণীর আগ্রহ।

বিমল গুহ (প্রখ্যাত কবি, ঢাবি’র প্রিন্টিং এন্ড পাবলিকেশন স্টাডিজ বিভাগের স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা, বর্তমানে খণ্ডকালীন শিক্ষক)

কৃতজ্ঞতা- আমাদের সময়
Read previous post:
ভারত থেকে ফিরলেন আরও ১৪৪ বাংলাদেশি

তৃতীয় মাত্রা করোনাভাইরাসের কারণে ভারতের বেঙ্গালুরু শহরে আটকে পড়া ১৪৪ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে বেঙ্গালুরু থেকে...

Close

উপরে