Logo
বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০ | ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসক কন্যা, সাংবাদিক বাবার আকুতি

প্রকাশের সময়: ১১:৫৪ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | মে ১২, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

চট্টগ্রামের সিনিয়র সাংবাদিক নাসির উদ্দিন চৌধুরী। তার চিকিৎসক কন্যা ডা. সামিয়া নাজনীন চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

এই অবস্থায় একজন অসহায় পিতা হিসেবে কন্যার সুস্থতার জন্য ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে আকুতি জানিয়েছেন বাবা নাসির উদ্দিন।

নাসির উদ্দিন চৌধুরী লিখেছেন- “আমার মেয়ে ডা. সামিয়া নাজনীন করোনা আক্রান্ত। সে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত শিশুদের সুস্থ করে তুলতে গিয়ে তাদের সেবায় একাত্ম হয়ে এমনভাবে নিজেকে উৎসর্গ করে যে, সে নিজেই এ রোগের শিকার হয়ে পড়ে।

ক’দিন ধরে গায়ে জ্বর আসাতে বাসায় সে নিজেকে আলাদা রাখে এবং পরে পরীক্ষা করালে রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

আমার ফুলের মত কোমল মেয়ে। গতরাতে রিপোর্ট পাওয়ার পর কেঁদে কেঁদে চোখ ফুলিয়ে ফেলেছে। ওর মাও কাঁদছে অবিরত। মা মেয়ে কারো চোখে ঘুম নেই। আমি কাঁদতে পারছি না। আমার ভিতরে রক্তক্ষরণ হচ্ছে দলা দলা কান্না পাকিয়ে উঠছে কিন্তু চোখ ফেটে বের হতে পারছে না।

আমার মেয়ে তার বাপের খাসলত পেয়েছে। আমি সারাজীবন জনসেবা করার চেষ্টা করেছি। অন্যের সেবায় জীবন উৎসর্গ করেছি। রাজনীতি, সাংবাদিকতা যখন যা করেছি সমস্ত মন প্রাণ দিয়ে করেছি। পরের কাজে জীবনটা বিলিয়ে দিয়েছি, কোনো ফাঁকি রাখিনি। নিজের স্বার্থ নিয়ে কোনদিন মাথা ঘামাইনি। যখন যে কাজ করেছি তাতে ষোলআনা উজাড় করে দিয়েছি। নিজেকে এমনভাবে কাজের মধ্যে ডুবিয়ে দিয়ে কখন জীবনের শেষপ্রান্তে এসে পৌঁছেছি টেরই পাইনি।

শেষ বেলায় হিসেব করে দেখছি আমার হিসেবের ঘরে ফাঁকি। আমি একজন ব্যর্থ মানুষ। আমার প্লট নেই, ফ্ল্যাট নেই, গাড়ি নেই বাড়ি নেই, ব্যাংক ব্যালান্স নেই। আমার ছেলেমেয়েদের ইউরোপ আমেরিকায় পড়াতে পারিনি। আমার মেয়েও আমার মত আত্মবিস্মৃত হয়ে করোনা রোগীদের সেবা করতে গিয়ে নিজের শরীরে করোনা ভাইরাস ঢুকিয়েছে।

আমার সকল মুরব্বী, মুক্তিযুদ্ধের সহযোদ্ধা, রাজনৈতিক জীবনের নেতা, রাজনৈতিক সহকর্মী, সিনিয়র, জুনিয়র, বন্ধু, ছোট ভাইয়ের মতো আমি যাদেরকে পরিচর্যা করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করেছি। তারা এবং আমার সহযোগী সাংবাদিক-সকলের প্রতি আমার সকরুন মিনতি, আমার মেয়েটাকে সুস্থ করে তুলতে কারো কোনো করণীয় থাকলে, সাহায্যের উদার হস্ত নিয়ে এগিয়ে আসুন। আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকব।

আমার মেয়ে এখন শ্বশুরবাড়িতে কোয়ারান্টাইনে আছে। আমি মুক্তিযুদ্ধে জিতেছি। আশা করি আমার মেয়েও করোনা যুদ্ধে জিতবে।”

সূত্র- রাইজিং বিডি
Read previous post:
বাস ছাড়া সবই চলছে, ফুটপাতে বসেছে হকার

তৃতীয় মাত্রা করোনাভাইরাসের ভয়াবহতার মধ্যে সীমিত আকারে দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্তের পর থেকেই, রাজধানী ঢাকা ফিরতে শুরু করেছে তার পুরোনো রূপে।...

Close

উপরে