Logo
শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০ | ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

জীবন সংগ্রামে বিজয়ী হওয়া মহীয়সী এক নারী কুষ্টিয়ার রশিদা খানম ডলি

প্রকাশের সময়: ১:৪৬ অপরাহ্ণ - রবিবার | মে ১০, ২০২০
তৃতীয় মাত্রা

সুজন কুমার কর্মকার, কুষ্টিয়া :  আজ বিশ্ব মা দিবস। মা দিবসে তুলে ধরা হয়েছে, জীবন সংগ্রামে বিজয়ী হওয়া এক মহীয়সী নারীর জীবন সংগ্রামে জয়ী হবার বাস্তব চিত্র। তিনি হলেন,  কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুরের বাসিন্দা রশিদা খানম ডলি। কুষ্টিয়ার রশিদা খানম ডলির স্বামী মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা এফতিয়ার রহমান খান। স্বামীকে হারিয়ে তিনি ১৭ বছর বয়সে সন্তানকে  নিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন জীবন সংগ্রামে। জীবিকা নির্বাহের জন্য বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পিরাইভেট পড়ানো আর বাড়ি ফিরে দর্জির কাজ করে হাড় ভাঙ্গুনি পরিশ্রম করে সন্তানকে লেখাপড়া শিখিয়ে গড়ে তুলেছেন।
অত্যান্ত ত্যাগের পরিচয় দেয়ার কারনে  মানুষের ভালবাসাও পেয়েছেন তিনি । প্রায় ২২ বছর কুষ্টিয়া মজমপুর ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বর এবং প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও বেশ কিছুদিন কুষ্টিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৪ সালে জয়িতা সম্মানেও ভূর্ষিত হয়েছেন রশিদা খানম ডলি।
রশিদা খানম ডলির পুত্র ইবির জনসংযোগ অফিসের সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ রাশিদুজ্জামান খান টুটুল জানান, জীবন সংগ্রামে বিজয়ী এক মহীয়সী নারী আমার মা। আমার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা এফতিয়ার রহমান খান আমাকে শিশু বয়সে রেখে মারা যান। বাবার স্নেহ, ভালবাসা আমি পাইনি। আমার মায়ের বয়স তখন ১৭ বছর। আমার মা রশিদা খানম ডলি আমাকে নিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন জীবন সংগ্রামে। আমাদের দু’জনের জীবিকা নির্বাহের জন্য বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পিরাইভেট পড়ানো আর বাড়ি ফিরে দর্জির কাজ। মায়ের  হাড় ভাঙ্গুনি সেই পরিশ্রমের কথা এখন ভাবতে গেলে মনে হয় পাগল হয়ে যাবো। তবে আমি মনে করি আমার মা জীবন সংগ্রামে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি আমাকে মানুষ করতে পেরেছেন। এমনকি তিনি অত্যান্ত ত্যাগের পরিচয় দেয়ার কারনে  মানুষের ভালবাসাও পেয়েছেন। যার ফলে তিনি প্রায় ২২ বছর কুষ্টিয়া মজমপুর ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বর এবং প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও বেশ কিছুদিন কুষ্টিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৪ সালে জয়িতা সম্মানেও ভূর্ষিত হয়েছেন তিনি। বিশ্ব মা দিবসের এই দিনে আমার মায়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন।
জয়িতা  রশিদা খানম ডলি বলেন, ইচ্ছা আর চেষ্টা করলে আনেক কিছুই সম্ভব। মাত্র ১৭ বছর বয়সে স্বামীকে হারিয়ে পিরাইভেট পড়ানো আর বাড়ি ফিরে দর্জির কাজ করে সন্তানকে লেখাপড়া শিখিয়েছি। সন্তানকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলেছি। মানুষের সেবা করেছি।  জীবন সংগ্রামে জয়ী হতে পেরেছি। আজকের এই দিনে সকল মায়েদের প্রতি শুভকামনা।
Read previous post:
সীমান্তে ভারত-চীন সেনা সংঘর্ষ

তৃতীয় মাত্রা উত্তপ্ত সিকিমের ভারত চীন সীমান্ত। দেশ দুইটির সেনাবাহিনীর মধ্যে 'সংঘর্ষের' ঘটনা ঘটেছে বলে খবরে বলা হয়েছে। সূত্রের খবর,...

Close

উপরে