Logo
শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০ | ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রোজার উপকারিতা ১৪০০ বছর আগেই ঘোষিত, যা আজ বিজ্ঞানও মানে

প্রকাশের সময়: ৩:২৮ পূর্বাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | এপ্রিল ৩০, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

ইসলামে অন্যতম ফরজ ইবাদত এবং ৫ টি  রোকন গুলোর মধ্যে ৩য় রোকন হলো রমজানের রোজা।মহান আল্লাহ তায়ালা মুসলিমদের জন্য এই রমজানের রোজা পালন করাকে আবশ্যিক বা ফরজ করেছেন একই সাথে রোজার উপকারিতা সম্পর্কে আজ থেকে ১৪০০ বছর আগেই পবিত্র কোরআন এর মধ্যে আল্লাহ তায়ালা ঘোষনা করেছেন।

আল্লাহ তায়ালা সুরা আল বাকারার ১৮৪ নাম্বার আয়াতের শেষ দিকে বলেন, অবশ্য তোমরা যদি রোজা রাখতে পার তবে তা তোমাদের জন্য ভালো যদি তোর রোজার উপকারিতা সম্পর্কে জানতে।

মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের সুরা বাকারার ১৮৩ নাম্বার আয়াতে বলেন, হে ইমানদারগন তোমাদের ওপর রমজানের রোজাকে ফরজ করা হয়েছে, যেমনভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পুর্ববর্তীদের ওপর। তথা, এই আয়াত দ্বারা বোঝা যায় মুসলিমদের জন্য রোজা রাখা আবশ্যিক করা হয়েছে। এবং এটি পূর্ববর্তীগনের সময় থেকেই রয়েছে।

এখন এই দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা তথা নিজেকে সংযম করা এর মধ্যে দিয়ে মানব জাতির জন্য শারীরিকভাবে কী উপকার হতে পারে তা দেখা উচিত। হ্যা, বিভিন্ন বিজ্ঞানী এটি নিয়ে গবেষনাও করেছেন।শুধুই তাই নয় এই গবেষনার মাধ্যমে নোবেল ও অর্জন করেছেন।

আমরা হয়তো জাপানিজ বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওহশেমির কথা শুনেছি যিনি কিনা ২০১৬ সালে এটি নিয়ে গবেষনার ফলে নোবেল ও অর্জন করেছেন।

তা হলে আমরা জেনে নেই এই রোজা রাখার ফলে শারীরিকভাবে আপনি কী উপকার পেতে পারেন.? তিনি অটোফেজি নামক তত্ত্ব আবিষ্কার করেন  এই রোজা নিয়ে গবেষনার ফলেই। তাহলে এই অটোফেজি কী..? অটোফেজি হলো একটি গ্রীক শব্দ এটি অটো ও ফেজেইন হতে আগত যার বাংলা অর্থ আত্ন ভক্ষন।

তথা, আমাদের শরীরের কোষগুলো সারাদিন খাদ্য না পেয়ে ক্ষুধার্ত অবস্থায় শরীরের মৃত, অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকারক কোষগুলোকে ভক্ষন করে। এটি একটি নির্দিষ্ট মাধ্যমে তথা রোজা রাখার ফলেই ঘটে থাকে এবং স্বয়ংক্রিয় ভাবে শরীরে নতুন কোষ সৃষ্টি করে।

হয়তো, বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে রোজার উপকারিতা গুলো আমাদের অজানা কিন্তু আধুনিকতার যুগে এগুলো জানা আমাদের কর্তব্য।

বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরির গবেষনা হতে দেখা যায় মানবদেহে ৩০% প্রোটিন সঠিকভাবে সংশ্লেষিত হতে পারে না। ফলে এদেরকে ধ্বংস বা শরীর থেকে অন্য উপায়ে কাজে লাগানো প্রয়োজন। যদি এই প্রোটিন গুলো সঠিকভাবে সংশ্লেষিত হতে না পারে তবে মানবদেহে নানা রোগ দেখা দিতে পারে আর এই প্রোটিনগুলো ধ্বংস বা কাজে লাগানো যায় এই রোজা রাখা তথা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে এবং এর ফলে মানবদেহে অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজিত হতে পারে না। ফলে ক্যান্সার হতে রক্ষা পাওয়া যায়।

সুতরাং, বলা যায় মহান আল্লাহ তায়ালা প্রদত্ত এই আবশ্যিক বিধান মানুষের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। শুধুমাত্র তাই নয় এই রোজা রাখার ফলে বিভিন্ন যৌবনিক পরিবর্তনের মাধ্যমে মানুষ আরো নানান উপকারিতা ভোগ করে। সেগুলো হলো:

১) রোজার প্রভাবে মস্তিষ্কের সক্রিয় কোষ মৃত কোষকে খেয়ে ফেলে এবং মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দেয় তথা, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়।

২) রোজা হার্টের রোগের জন্য উপকারি কেননা দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে উচ্চ কোলেস্টেরল এর মাত্রা হ্রাস করে।ফলে হৃদরোগে আক্রান্তের সম্ভাবনা কম থাকে।

৩) রোজা রাখার ফলে হজম পক্রিয়া দীর্ঘসময় বিশ্রাম পায় এবং দেহে টক্সিন পদার্থগুলো ধ্বংস হয় ফলে পাকস্থলীর প্রদাহ সেরে যায়।

৪) রোজা রাখার ফলে ব্লাড সুগার হ্রাস পায় ফলে ডায়াবেটিকস এর রোগীদের উপকার লক্ষ্যনীয়।

৫) শরীরের ওজন বেশি থাকলে তথা স্থুলতা থাকলে তা দুর হয়।

৬) ব্যক্তির রোগে আক্রান্তের সম্ভাবনা কমে। ফলে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন ধারন করা যায়।

সুতরাং, বলা বাহুল্য মহান আল্লাহর দেওয়া এই নিয়মতান্ত্রিক বিধান এর মাধ্যমে মানব জাতির কল্যান লক্ষ্যনীয় ।

আল্লাহ তায়ালা সুরা আল বাকারার ১৮৪ নাম্বার আয়াতের শেষ দিকে বলেন, অবশ্য তোমরা যদি রোজা রাখতে পার তবে তা তোমাদের জন্য ভালো যদি তোর রোজার উপকারিতা সম্পর্কে জানতে।

উক্ত আয়াত দ্বারা বোঝা যায় যে রোজা আমাদের জন্য যে অতীব উপকারি তা ১৪০০ বছর আগেই পবিত্র কোরআন এর মধ্যে আল্লাহ তায়ালা ঘোষনা করেন এবং বিজ্ঞানীদের গবেষনার ফলে আরো বিস্তারিত ব্যাখা জানা সম্ভব হয়েছে।

সর্বপরি, মহান আল্লাহর এর বিধান জাতির ইহকালিন ও কল্যান পাওয়া যায় এবং পরকালে তো কল্যান অবশ্যই রয়েছে।

লেখক- মুঃ তামিম সিফাতুল্লাহ, মদীনাতুল উলুম কামিল মাদরাসা, রাজশাহী

তথ্যসূত্র- উইকিপিডিয়া
Read previous post:
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে কর্মহীন অসহায়দের মাঝে বিজিবি’র ত্রান বিতরণ

তৃতীয় মাত্রা সীমান্ত ঘেষা ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায়   করোনা   ভাইরাসের প্রার্দুভাবে সীমান্তবর্তী  এলাকার  কর্মহীন দুঃস্থ অসহায় পরিবারের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরণ...

Close

উপরে