Logo
সোমবার, ০১ জুন, ২০২০ | ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শেরপুরের পর্যটন কেন্দ্র গজনি অবকাশে ভালোবাসার উত্তাপে পর্যটকদের ভিড়

প্রকাশের সময়: ৪:৫৯ অপরাহ্ণ - শুক্রবার | ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

গোলাম রব্বানী-টিটু, শেরপুর সংবাদদাতা : শেরপুরের পর্যটন কেন্দ্র গজনি অবকাশে ১লা ফালগুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে ভালোবাসার উত্তাপ ছড়াতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভির পড়েছে । ছুটির দিন শুক্রবার হওয়ায় ভ্রমনপিয়াসীদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো গারো পাহাড়। শেরপুর ঝিনাইগাতী উপজেলার গজনি অবকাশ, পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। ঝিনইগাতী সদর থেকে ৮কিলোমিটার অতিক্রম করে প্রবেশের পথে দেখা যাবে সারিসারি নানা প্রজাতির গাছ । এর পরই হাতি, হরিণ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, বানর, কুমির, ক্যাঙ্গারু, মৎস্য কন্যা, মাছ ও পাখির ভাষ্কর্য। পাশের আঁকাবাঁকা পথে ঘন গাছের সারি লেকের দিকে চলে গেছে। পাহাড়ের চুড়ায় পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে আরোহণ করলেই নজর কেড়ে নেয় ভারতের উঁচু নিচু পাহাড় আর সবুজের সমারোহর দৃশ্য।
প্রকৃতির এই নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হন ভ্রমন পিয়াসীরা। অন্যান্য সময়য়ের মতোই ছুটির দিনগুলো পর্যটকদের ভীড় বেশি হয়।এ ছাড়াও এখানে রয়েছে ডিসপ্লে মডেল, তথ্য কেন্দ্র, গাড়ী পার্কিং জোন, ক্যান্টিন, মিনি চিড়িয়াখানা, বন্য প্রাণীর বিরল প্রজাতি পশু-পাখির ভাষ্কর্য। আরো আছে জীবন্ত হরিন, ঔষধি ও সৌন্দর্য বর্ধক প্রজাতির বৃক্ষ এবং ফুলসহ বিভিন্ন রঙ্গের গোলাপের বাগান। অপরদিকে, যারা সবুজের কাছাকাছি যেতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য প্রকৃতি প্রেমিকদের ভীড় চোখ পড়ার মতো। গারো পাহাড়ে অবস্থিত টিলায় উঠলে সহজের ভারতের মেঘালয় রাজ্যের কিছু অংশ দেখা যাবে। এ স্থানটি পর্যটকদের জন্য প্রকৃতি সবার মন কেড়ে নিবে।
জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হলো গজনি অবকাশ। শেরপুর জেলা সদর থেকে অবকাশ কেন্দ্রের দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। গাড়ি করে অবকাশ কেন্দ্রে পৌঁছাতে সময় লাগে বড়জোর ৪৫ মিনিট। যানজটমুক্ত যাতায়াতের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত। পুরোটাই পাকা রাস্তা। ঢাকা থেকে মাত্র সাড়ে ৫ ঘণ্টায় যাওয়া যাবে অবকাশ কেন্দ্রে। মৌসুমে লাখো ভ্রমণপিপাসুর পদভারে মুখরিত হয় অবকাশ কেন্দ্র। অবকাশ কেন্দ্রের বিভিন্ন স্পটে দর্শনার্থীদের জন্য নান্দনিক কারুকার্য ও শৈল্পিকতার স্পর্শে নির্মিত হয়েছে বন্যহাতী, ডাইনোসর, জিরাপ, হরিণ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, মুক্তিযুদ্বের স্মৃতিসৌধ, মৎস্য কুমারী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিকৃতি, দৃষ্টিনন্দন পদ্মশিরি, গারো মা ভিলেজ, মাটির নিচে সুড়ঙ্গপথে পাতাল পুরীতে ভ্রমণ করা সহ ইত্যাদি ভ্রমনপিপাসুদের মন আকৃষ্ট করবে।
এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন ভাস্কর্য। পাহড়ের মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার জন্য পাহাড়ের চূড়ায় নির্মিত হয়েছে সুউচ্চ পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। পাহাড়ের নিচ থেকে টাওয়ারের উচ্চতা প্রায় ১৬৫ ফুট। টাওয়ারে উঠলে দেখা যাবে বাংলাদেশ ও ভারতের মেঘালয় প্রদেশের রাশি রাশি পর্বত মালাসহ দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ বনভূমির ছোট বড় পাহাড়ি টিলা। দৃষ্টি-চক্ষুর বাইরে টাওয়ারে রক্ষিত ৬টি বাইনোকুলার দিয়ে দেখা যাবে দূর-দৃষ্টির দৃশ্য। গারো মা ভিলেজে গিয়ে ভাস্কর্যে দেখা যাবে কিভাবে গারো মায়েরা পিঠের কোলে তার সন্তানকে কাপড়ে বেঁধে শিশুদের লালন পালন করে। এ ছাড়াও সেখানে রয়েছে মাশরুমের ভাস্কর্য ও কফি হাউস।
এখানে চিত্তবিনোদনের পাশাপাশি মুসল্লিদের জন্য মসজিদে নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে শিশুদের জন্য রয়েছে, চুকুলিপি চিলড্রেন পার্ক। পার্কে রয়েছে গজনী এক্সপ্রেস ট্রেন, নাগর দোলা, মেরী গো রাউন্ড ইত্যাদি খেলনার উপকরণ। অবকাশ কেন্দ্রে আসা আগতদের পানি সরবরাহের জন্য রয়েছে কয়েকটি রিং ওয়েল ও একটি গভীর নলকূপ। অবকাশ কেন্দ্রের ৩ তলা ভবনের ৮টি গেস্টরুমে আগত অতিথিদের জন্য সকাল থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভাড়া দেয়া হয়। এখানকার পাহাড়ি ঝর্ণাকে কৃত্রিম লেকে পরিণত করা সহ প্রশাসনের পক্ষা থেকে কোঠর নিরাপত্তার বেবস্থা হয়েছে। ১লা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে অবকাশে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা পর্যটকদের মাঝে ভালোবাসার উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।

Read previous post:
বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে সাতক্ষীরায় সুন্দরবনকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন

তৃতীয় মাত্রা শেখ আমিনুর হোসেন, সাতক্ষীরা ব্যুরো চীফ : ‘বিশ্ব ভালাবাসা দিবসে সুন্দরবনকে ভালো বাসুন’ এ শ্লোগানের  মধ্যে দিয়ে সুন্দরবন...

Close

উপরে