Logo
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বুরুন্ডির কাছে হেরে বাংলাদেশর বিদায়

প্রকাশের সময়: ৮:৩৩ অপরাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | জানুয়ারি ২৩, ২০২০

তৃতীয় মাত্রা

বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে কবিকে কবিতা লিখতে বললে তিনি হয়তো এভাবেই লিখতেন, ‘এক পা যেতে দুই পা পেছায়, তিনবার সে হোঁচট খায়।’ দেশের ফুটবল তো এভাবেই চলছে। ঘরের মাঠে কাতারের বিপক্ষে ভালো খেললো। ভালো খেললো আফগানিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে। এরপর বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে সবাই বেশ স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল।

কিন্তু ওই যে- এক পা এগিয়ে দুই পা পিছিয়েছে, তিনবার খেয়েছে হোঁচট। আজ বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বুরুন্ডির কাছে ৩-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। বুরুন্ডির হয়ে তিনটি গোলই করেছেন ফরোয়ার্ড জসপিন শিমিরিমানা। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে ১৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের এটা দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। প্রথমটি করেছিলেন মরিশাসের বিপক্ষে। আজ দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক করে ডুবালেন স্বাগতিকদের। তিন ম্যাচে সাত গোল করেছেন এই ফরোয়ার্ড।

বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৪ মিনিটেই ইনজুরিতে পড়েন আগের ম্যাচে জোড়া গোল করা মতিন মিয়া। তাকে উঠিয়ে মাঠে নামানো হয় মাহবুবুর রহমান সুফিলকে। ৮ মিনিটেই সুফিলের পাসে মোহাম্মদ ইব্রাহিম গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন। এ সময় জামাল ভুঁইয়ার লম্বা পাসে ডি বক্সের সামনে বল পেয়ে যান সুফিল। তিনি বক্সের মধ্যে বাড়িয়ে দেন মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে। ইব্রাহিমের নেওয়া শট দ্বিতীয় পোস্ট কাঁপিয়ে ফিরে আসে। সেখান থেকে পাল্টা আক্রমণে গোলের সুযোগ পেয়েছিল বুরুন্ডিও। এ সময় বাংলাদেশের গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানাকে সামনে এগিয়ে আসতে দেখে দূর থেকেই উঁচু করে শট নেন জসপিন শিমিরিমানা। তার নেওয়া শটও বারে লেগে বাইরে চলে যায়।

২২ মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়েও শট নিতে সময় নেন সুফিল। রক্ষণভাগের খেলোয়াড় এসে কর্নারের বিনিময়ে তাকে নিবৃত করেন। এরপর আরো কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেগুলোর কোনোটি থেকেই গোল আদায় করে নিতে পারেনি। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা বুরুন্ডিকে ৪২ মিনিট পর্যন্ত গোল বঞ্চিত রাখতে পারলেও এরপর খেই হারায় জেমি ডে’র শিষ্যরা।

৪৩ মিনিটের মাথায় ব্লানচার্ড গাবোজিজার বাড়ানো বল থেকে জসপিন শিমিরিমানা বল জালে জড়ান। রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা তাকে রুখতেই পারেনি। যোগ করা সময়ে দুর্দান্ত এক গোল করেন এই ফরোয়ার্ড। এ সময় ডানদিক থেকে ব্লানচার্ডের ক্রসে মাথা লাগিয়ে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন জসপিন। তাতে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বুরুন্ডি।

বিরতি থেকে ফিরে এসেই ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। ৪৮ মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি সাদ উদ্দিন। তিনি গোলরক্ষকের গায়ে মেরে দেন। ৬২ মিনিটে সুফিলের নেওয়া শট গোলরক্ষক কোনোরকমে রক্ষা করেন। ৭৭ মিনিটে নিশ্চিত গোল মিস করেন সোহেল রানা। খুব কাছ থেকে তার নেওয়া শট উপর দিয়ে চলে যায়।

৭৮ মিনিটে জসপিন তার হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। এ সময় ডানদিক দিয়ে তার নেওয়া কোণাকুনি শট রানাকে পরাস্ত করে জালে আশ্রয় নেয়। বাকি সময়ে বাংলাদেশ আরো কয়েকটি ‍সুযোগ তৈরি করলেও জালের নাগাল পায়নি। তাতে ৩-০ গোলের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে। আরো একবার বিদায় নিতে হয় সেমিফাইনাল থেকে। আর প্রথমবার বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে অংশ নিয়েই ফাইনালে নাম লেখায় বুরুন্ডি।

Read previous post:
বেতনের টাকায় শিক্ষার্থীদের উপহার দেন প্রতি মাসে

তৃতীয় মাত্রা তাকে দেখলেই আনন্দে মন ভরে যায় খুদে শিক্ষার্থীদের। কোনো কোনো শিক্ষার্থী দৌড়ে তার কাছে ছুটে আসে। পরম মমতায়...

Close

উপরে