Logo
মঙ্গলবার, ১৯ জুন, ২০১৮ | ৫ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সানেম বাজেটে কাঠামোগত সংস্কারের কোনো দিকনির্দেশনা নেই

প্রকাশের সময়: ১২:১৩ অপরাহ্ণ - রবিবার | জুন ১০, ২০১৮

তৃতীয় মাত্রা :

২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কাঠামোগত কোনো সংস্কারের দিকনির্দেশনা নেই। জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বাজেট প্রস্তাবনা নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) এ অভিমত গতকাল প্রকাশ করা হয়।

রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সানেম। অনুষ্ঠানে ত্রৈমাসিক পর্যালোচনার বাইরে বাজেট নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান। অনুষ্ঠানে বাজেটের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে প্রতিক্রিয়া জানান সানেমের গবেষণা পরিচালক সায়মা হক বিদিশা, গবেষক নাজমুল অভি হোসেন, ইফফাত আঞ্জুম ও জোবায়ের হোসেন।

প্রসঙ্গত, অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট উত্থাপন করেন। বাজেটে প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। প্রত্যাশিত মূল্যস্ফীতির হার ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। এছাড়া এতে বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনার (এডিপি) আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। বেসরকারি খাতে প্রত্যাশিত বিনিয়োগের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ২৫ দশমিক ১ শতাংশ। একই সঙ্গে রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ।

বাজেটের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে সানেমের নির্বাহী পরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান বলেন, কর সংগ্রহে কাঠামোগত দুর্বলতা, প্রকল্প বাস্তবায়নের অদক্ষতা, বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্রমবর্ধমান ঘাটতি, ভঙ্গুর ব্যাংক ব্যবস্থা, বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতাসহ বিভিন্ন সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়েই উত্থাপিত হয়েছে এবারের নির্বাচনী বছরের বাজেট। এবারের বাজেটে কাঠামোগত সংস্কারের তেমন কোনো দিকনির্দেশনা না থাকলেও এতে একটি স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা পরিলক্ষিত হয়েছে। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যে অসঙ্গতি রয়েছে, তার জন্য প্রয়োজন র্যাডিকাল ইমপ্রুভমেন্ট। বৃহৎ প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের ধীরগতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নির্বাচনী বছরের অনিশ্চয়তা থাকার পরেও বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে বাজেটে যে প্রত্যাশার কথা বলা হয়েছে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

সেলিম রায়হান বলেন, গত কয়েক বছরের কর সংগ্রহের প্রবৃদ্ধির হার যেখানে ১৬ শতাংশের মতো, সেখানে কর সংগ্রহ ব্যবস্থায় বড় রকমের কোনো সংস্কার না করেই কীভাবে প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধির হার ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বোধগম্য নয়। ভ্যাট আইন ২০১৯ সাল নাগাদ বাস্তবায়নের কথা থাকলেও এ বিষয়ে বাজেট বক্তৃতায় কোনো দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়নি। বাজেটের একটি বড় অংশ খরচ হচ্ছে শুধু সুদ পরিশোধে। সরকারকে আগামী দিনে স্বল্প সুদের ঋণপ্রাপ্তির দিকে মনোযোগী হতে হবে। অন্যথায় টেকসই ঋণ গ্রহণ ক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে। ঘাটতি অর্থায়নের জন্য সঞ্চয়পত্র বিক্রি ও ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেয়ার বিষয়ে আরো বিশদ পর্যালোচনার প্রয়োজন আছে।

সানেম জানায়, আমাদের এডিপির আকার বেড়েছে। বাড়ানোর প্রয়োজন আছে। ভৌত ও সামাজিক অবকাঠামো— দুটি ক্ষেত্রেই আমাদের বড় ধরনের খরচের প্রয়োজন আছে। এডিপির অধীনে যেসব প্রকল্প নেয়া হচ্ছে বা সাম্প্রতিককালে যেসব প্রকল্পকে মেগা প্রজেক্ট বা ফাস্ট ট্র্যাক বলা হচ্ছে, সেগুলোর বাস্তবায়নও আমাদের জন্য খুব জরুরি। কারণ এ অবকাঠামোর উন্নয়ন ছাড়া আমাদের জন্য ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে যাওয়া সম্ভব নয়। এখানে বড় ধরনের গ্যাপ আছে। এডিপির আকার বাড়ছে এবং এটি বাস্তবায়ন নিয়েও একটি প্রত্যাশা রয়েছে। তবে প্রতি বছরই দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথম ৮-১০ মাসে মাত্র ৫০-৫২ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়। আর বাদবাকি অংশ শেষ দু-তিন মাসে বাস্তবায়নের জন্য তাড়াহুড়ো করে করতে হয়। আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। বাস্তবায়নের হারে ধীরগতি ও অতিরিক্ত খরচ করারও প্রবণতা আছে। এগুলো দীর্ঘদিনের সমস্যা। এখন আমরা মেগা প্রজেক্টে যাচ্ছি। কিন্তু এখনো এ সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে পারিনি। আমাদের প্রকল্প বাস্তবায়নের যে চরিত্র, সে চরিত্র নিয়েই মেগা প্রজেক্টের কাজ করছি।

সানেমের দাবি, এডিপি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ‘রিওয়ার্ড অ্যান্ড পানিশমেন্টের’ ব্যবস্থা থাকতে হবে।

এ বিষয়ে সংস্থাটির বক্তব্য হলো, আমাদের দেশে বাস্তবায়ন বলতে মনে করা হয় অর্থ খরচ হওয়া, কিন্তু বাস্তবে তা হওয়া উচিত নয়। গুণগত মান কতখানি অর্জিত হচ্ছে, সেটি দেখতে হবে। যারা এ গুণগত মান নিশ্চিত করতে পারছেন না, তাদের জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। যারা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটাচ্ছে, তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে কে কোন দলের, তা বিচার করা যাবে না। পিপিপি নিয়ে অর্থমন্ত্রী কয়েক বছর ধরে আশার কথা শোনালেও কার্যত পিপিপির অধীনে ৭৮টি প্রকল্পের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। দেশীয় শিল্পকে প্রণোদনা দেয়ার জন্য বিভিন্ন আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, ঠিক আছে। কিন্তু ই-কমার্সের মতো বিকাশমান খাতে কর আরোপের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক নয়।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Read previous post:
জাহাজ নির্মাণে অংশীদারিত্বে থাকবে ওয়েস্টার্ন মেরিন

তৃতীয় মাত্রা : ভারতের ‘জাতীয় নদীপথ এক’-এ চলাচলের জন্য ৬০টি জাহাজ নির্মাণ করতে চায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোম্পানি শালিমার ওয়ার্কস লিমিটেড।...

Close

উপরে