Logo
শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ | ১১ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পুরান ঢাকায় চলছে সাকরাইন উৎসব

প্রকাশের সময়: ১২:১০ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | জানুয়ারি ১৪, ২০২০
ফাইল ছবি

তৃতীয় মাত্রা

ডেস্ক রিপোর্ট : ব্যস্ত নগরীর খোলা আকাশের দিকে তাকানোর সময়ই থাকে না। রাজধানীর বড় বড় অট্টালিকার ভীড়ে আকাশে নজর একটু কমই পড়ে। তাই পৌষকে বিদায়ের মাধ্যমে নীল আকাশের সৈান্দর্য্য উপভোগ করার জন্য পুরান ঢাকাবাসীর আয়োজন সাকরাইন উৎসব। যা ঘুড়ি উৎসব নামেও পরিচিত।

মঙ্গলবার পুরান ঢাকায় হরেক রকম রঙ্গিন ঘুড়ি আর নানান ডিজাইনের ছোট বড় আকৃতির ঘুড়ি ঘুর ঘুর করে পুরান ঢাকার আকাশকে রঙ্গিন করে তুলছে। কোনো ঘুড়ি মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে আবার কোনো ঘুড়ি আকাশে রাজত্ব করছে। কোনো ঘুড়ি দিগন্ত ছাড়িয়ে যায় অন্য দিগন্তে আবার কোনো ঘুড়ি নাটাই ছেড়ে উড়ে যায় অকাশের নীল সীমানায়। ছোট-বড় সবার অংশগ্রহণে মুখরিত হচ্ছে প্রতিটি বাড়ির ছাদ-চলছে ঘুড়ির মুক্তবাক।
বাংলা ও হিন্দি গানের তালে তালে চলতে থাকে ডিজে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে উৎসবের মুখরতা। বাড়ে আকাশে ঘুড়ির সংখ্যাও। ঘুড়ির এই খেলা সকাল থেকে সন্ধ্যা অবদি চলতে থাকে। দিনের আলো শেষে যেমন অন্ধকার নামে তেমনি ঘুড়ি নাটাইয়ের কাছে এসে পৌঁছে সন্ধ্যার লাল আলোতে। শুরু হয় রাতের কসরত। সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় আতশবাজী, ফানুস উড়ানো, আগুন নিয়ে খেলা, বড় বড় গ্যাস বেলুন উড়ানো, হরেক রকমের লাইটিং যা অন্ধকার অকাশকে বিভিন্ন আলোয় অলোকিত করে। আর ডিজের তালে তালে চলতে থাকে গান নাচ।

সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পুরান ঢাকার সূত্রাপুর, মিলব্যারাক, সদরঘাট, নবাবপুর, লালবাগ, চকবাজার, দয়াগঞ্জ, মুরগিটোলা, শিংটোলা, লক্ষ্মীবাজার, ধুপখোলা মাঠ, বংশাল, ওয়ারী, ইসলামপুর, শাখাঁরীবাজার, তাঁতীবাজার, রায় শাহেব বাজার এলাকার মানুষ ঘটা করে সাকরাইন পালন করে।

বাংলা পৌষ মাসের শেষের দিন ও মাঘ মাসের প্রথম দিন উদযাপন করা হয় পৌষসংক্রান্তি। বর্তমানে ‘পৌষসংক্রান্তি’ শুধু ‘সংক্রান্তি’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে, আর পুরান ঢাকার মানুষ একে বলে ‘সাকরাইন’। সাকরাইন শব্দটি সংস্কৃত শব্দ সংক্রন থেকে এসেছে। সংক্রনের আভিধানিক অর্থ বিশেষ মুহূর্ত। অর্থাৎ বিশেষ মুহূর্তকে সামনে রেখে যে উৎসব পালিত হয় তাকেই বলা হচ্ছে সাকরাইন উৎসব। উৎসবটি শুরু হয়েছে ব্রিটিশ আমল থেকেই। তখন উৎসবটি সনাতন ধর্মের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল আর এখন সব সব ধর্ম, বর্ণ পেশার বিভিন্ন বয়সের মানুষ এই উৎসব পালন করেন।

পুরান ঢাকার ছেলেমেয়ে সারা বছর এই ঘুড়ি উৎসবের অপেক্ষায় থাকে। সাকরাইনে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত না খেয়ে থাকেন। আর মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা দিনটিতে সকালে পিঠা, বাখরখানি-মোয়াসহ নানা ধরনের খাবার বিলি করেন প্রতিবেশীদের মাঝে। সাকরাইন উৎসবকে পৌষ সংক্রান্তি বা ঘুড়ি উৎসবও বলা হয়। পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার ও শাখাঁরীবাজার ঘুরে দেখা গেছে কিছু বাড়িতে উচ্চস্বরে বাদ্য বাজতে শোনা গেছে। ছাদ থেকে ঘুড়ি উড়ানো হচ্ছে আর মধ্যবয়স্ক যুবকেরা বাজনার সঙ্গে নাচছেন-গান গাচ্ছেন।

তাদের একজন বিজু রায় বলেন, ছাদে স্পিকার তোলা হয়েছে যেন আশপাশের বাদ্যের আওয়াজে তাদের পেছনে ফেলতে না পারে, আর লাইটিং এর আলো যেন চারপাশ থেকে দেখা যায়।

পুরান ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্টবিজ্ঞানের ছাত্র কবির হোসেন জানান, আমি দশ বছর যাবৎ এই উৎসব পালন করে আসছি। এই উৎসব সকল দল মত নির্বিশেষে সবার-সকল স্তরের মানুষ এই উৎসবকে আপন করে নিছে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন
Read previous post:
ক্রেতা সংকটে শেয়ারবাজার

তৃতীয় মাত্রা ভয়াবহ দরপতনের কবলে পড়া শেয়ারবাজারে ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে। দফায় দফায় দাম কমিয়েও বিনিয়োগকারীরা তাদের হাতে থাকা অনেক...

Close

উপরে