Logo
মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০ | ৮ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

জীবনে একবার হলেও যে ১০ বই পড়া উচিত

প্রকাশের সময়: ৭:১৫ অপরাহ্ণ - সোমবার | ডিসেম্বর ৯, ২০১৯

তৃতীয় মাত্রা

সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে বইয়ের কথা ভুলতে বসেছেন অনেকেই। বর্তমান প্রজন্ম তো বইয়ের চাইতে ফেসবুককেই সময় কাটাতে বেশি পছন্দ করে থাকেন। তবে এমন কিছু বই আছে যা না পড়লে মানুষের জীবনবোধ সম্পূর্ণ হয় না, ব্যর্থ হয়ে যায় মানব জীবন। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির সাম্প্রতিক গবেষণায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে। আপনাদের নিশ্চয়েই এইগুলোর নাম জানতে ইচ্ছে করছে। চলুন দেখে নেয়া যাক সেই ১০ বইয়ের নাম, যা জীবনে একবার হলেও পড়া উচিত।

. মোবিডিক দ্য হোয়েল

এই তালিকাটি শুরু মার্কিন লেখক হরম্যান মেলভিলের ৭২০ পৃষ্ঠার বই দিয়ে। এটি লেখক মেলভিলের এক অনবদ্য সৃষ্টি। মোবি-ডিকের গল্প তার কেন্দ্রীয় চরিত্র আহাবকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। আহাব হলেন, হোয়েলিং শিপ ‘পিকোড’এর ক্যাপ্টেন। তিনি একটি বিশালাকার হোয়াইট স্পার্ম তিমির বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। কারণ এই তিমি তার হাঁটুর নীচ থেকে পায়ের অংশ নিয়ে গেছে। এজন্য তিনি পাগলের মতো সাগরে সেই তিমির অনুসন্ধান করে চলেন।

গল্পের বর্ণনাকারী হলেন ইসমায়েল নামে এক নাবিক। আর সাহিত্যে অন্যতম জনপ্রিয় প্রথম লাইনটি হল: ‘আমাকে ইসমায়েল বলে ডাকুন।’

বইটি অদ্ভুত, পাণ্ডিত্যপূর্ণ, মজার, গভীর অর্থবহ এবং আমেরিকার অন্যতম জনপ্রিয় উপন্যাস হিসাবে বিবেচিত।

. ‘ লিটল লাইফ

লেখক হানিয়া ইয়ানাগিহারের লেখা ৭৩৬ পৃষ্ঠার এই বইটি ম্যান বুকার পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল। উপন্যাসটি গড়ে উঠেছে চার বন্ধুর জীবনের গল্পকে ঘিরে। কলেজ থেকে স্নাতক শেষ করে তারা অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে নিউ ইয়র্ক সিটিতে যায়।

জেবি হলেন শিল্পী, উইলিয়াম একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী অভিনেতা এবং ম্যালকম একজন স্থপতি। তবে জুড – নিজেকে ক্ষতি করতে চাওয়া একজন আইনজীবী; যার রয়েছে একটি রহস্যময় অতীত। এই উপন্যাসের গল্প গড়ে উঠেছে জুডের জীবনের টানাপোড়েন নিয়ে। গল্পটি যতোই এগিয়ে যায়. জুডের দুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ততোই প্রকাশ পেতে থাকে। এই উপন্যাসটি মারাত্মক কষ্টের এবং মন খারাপ করে দেয়ার মতো। যেখানে কয়েক দশকের ঘটনা বলা হয়েছে এবং বইটির শেষ পৃষ্ঠাগুলো পড়ার সময় আপনার চোখ বেয়ে জল নেমে আসবেই। অনেক পুরান হলেও এই বইতেও অবিশ্বাস্যরকম আধুনিকতা বোধ ফুটে ওঠেছে।

. ‘মিডলমার্চ

জর্জ এলিয়টের এ বইটি একটি মাস্টারপিস। উপন্যাসে মিডলমার্চ নামের একটি কাল্পনিক শহরের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের জীবন নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ভদ্র সম্প্রদায়ের ভূমি মালিক থেকে শুরু করে খামার শ্রমিক বা কারখানার শ্রমিক পর্যন্ত সবার কথাই স্থান পেয়েছে এতে। তবে মূল ফোকাস ছিল দুটি চরিত্রকে ঘিরে, একজন হলেন জেদি এবং দৃঢ়-ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন ডোরোথিয়া ব্রুক এবং অন্যজন আদর্শবাদী টারটিয়াস লিডগেট। তারা দুজনেই বিপর্যস্ত বৈবাহিক জীবনের শিকার ছিলেন।

৮৮০ পৃষ্ঠার উপন্যাসটি ১৯শতকে লেখা হলেও এতে রয়েছে অবিশ্বাস্যরকম আধুনিকতা বোধ। কারণ বইটিতে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির সীমাবদ্ধতা এবং এই ত্রুটিপূর্ণ দুনিয়ায় একজন নৈতিক ব্যক্তি হয়ে ওঠার পথে নানা সংগ্রামের মতো বড় থিমগুলো ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

. ‘ব্লিক হাউস

এটি জনপ্রিয় ব্রিটিশ উপন্যাসিক চার্লস ডিকেন্সের একটি দীর্ঘতম উপন্যাস। বইটি জার্নডাইস পরিবারের গল্পকে ঘিরে লেখা হয়েছে, যাদের আশা উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পদ পাওয়া। কিন্তু সেই স্বপ্ন বার বার ব্যর্থতার মুখে পড়ে। কারণ জার্নডাইস অ্যান্ড জার্নডাইস মামলাটি দীর্ঘকাল ধরে আইনি মারপ্যাঁচের মধ্যে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে চলে আসছে। মামলাটি এতোটাই জটিল হয়ে পড়েছে যে এখন বেঁচে থাকা উত্তরাধিকারদের কেউ এই মামলার কিছু বুঝতে পারে না।

ডিকেন্স এই বইটিতে ‘কোর্ট অব চ্যান্সেরি’নিয়ে ব্যঙ্গ করেছেন, এই আদালতে একটি মামলা কয়েক দশক ধরে চলতে পারে। অসংখ্য চরিত্র আর একাধিক পার্শ্ব কাহিনী নিয়ে এগিয়ে গেছে এই উপন্যাসের কাহিনী।

. ‘ডন কুইকসোট

ডন কুইকসোট একজন মধ্যবয়সী স্প্যানিশ ভদ্রলোক, যিনি বীরদের অনেক রোম্যান্স গাঁথা পড়েন। সেই থেকে তিনি তলোয়ার তুলে একজন ভবঘুরে বীর হয়ে ওঠার সিদ্ধান্ত নেন। নিজের পুরানো ঘোড়া এবং বাস্তববাদী মানসিকতা নিয়ে বিশ্বব্যাপী অভিযাত্রার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন। ।

ডন কুইকসোটের ‘বীরত্বপূর্ণ’কাজের মধ্যে রয়েছে উইন্ডমিলের সাথে লড়াই করার চেষ্টা করা যেগুলোকে তিনি দৈত্য ভেবে ভুল করেছিলেন এমনকি তিনি এক পাল ভেড়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামেন।

মিগুয়েল ডি সার্ভেন্টেসের লেখা ৯৭৬ পৃষ্ঠা এই প্রভাবশালী সাহিত্যকে প্রথম আধুনিক উপন্যাস হিসাবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।

. ‘ইনফিনিট জেস্ট

ডেভিড ফস্টার ওয়ালেসের এই মহাকাব্যটি অদূর ভবিষ্যতের ডিস্টোপিয়াকে ঘিরে লেখা হয়েছে যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো এই তিন দেশ উত্তর আমেরিকান জাতিগত সংস্থার অন্তর্ভুক্ত হয়।

ডিস্টোপিয়া হল সাহিত্যের একটি শাখা। যেখানে এমন একটি কাল্পনিক রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো নিয়ে কথা বলা হয় যেখানে কেবল দুর্ভোগ আর অবিচারের রাজত্ব।

মূল গল্পটি শুরু হয় একটি টেনিস একাডেমি এবং মাদকাসক্ত নিরাময় সংস্থাকে কেন্দ্র করে। মূল প্লট লাইনটি হল ‘ইনফিনিট জেস্ট’ শিরোনামের একটি চলচ্চিত্র দেখার আকাঙ্ক্ষা। যা দর্শকদের অনুভূতিহীন শিথিল অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে।

পরীক্ষামূলক কাঠামোর জন্য ১০৭৯ পৃষ্ঠার এই বইটি বেশ জনপ্রিয়। এখানে ৩৮৮টি এন্ডনোটস রয়েছে যার মধ্যে কয়েকটির নিজস্ব পাদটীকা রয়েছে।

. ‘ওয়ার অ্যান্ড পিস

রুশ লেখক লিও টলস্টয়ের এই বিশাল উপন্যাসটি রাশিয়ায় নেপোলিয়ন যুগকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্র এবং হোম ফ্রন্টের মধ্যে তিনটি কুখ্যাত চরিত্রকে ঘিরে গল্প এগিয়ে যায়।

চরিত্র তিনটি হল: পেরে বেজুখভ, একজন কাউন্টের অবৈধ পুত্র যিনি নিজের উত্তরাধিকারের জন্য লড়াই করছেন; প্রিন্স আন্দ্রেই বলকনস্কি যিনি নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে তাঁর পরিবারকে ছেড়ে চলে এসেছেন এবং নাতাশা রোস্তভ, একজন অভিজাত ব্যক্তির সুন্দরী অল্পবয়সী মেয়ে।

১২৯৬ পৃষ্ঠা এই উপন্যাসে টলস্টয় একইসাথে সেনাবাহিনী এবং অভিজাতদের উপর যুদ্ধের প্রভাব কেমন হয়, সেটা ফুটিয়ে তুলেছেন।

. ‘দ্য স্ট্যান্ড

বইটি একটি পোস্ট-অ্যাপোক্যালিপটিক হরর-ফ্যান্টাসি ঘরনার বই। যেখানে বায়োলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার বা জৈব যুদ্ধের জন্য বিভিন্ন অসুখ বিসুখের দ্রুত পরিবর্তনশীল স্ট্রেন নিয়ে গবেষণা করার কথা বলা হয়।

দুর্ঘটনাক্রমে সেই স্ট্রেনগুলো একদিন একটি সিকিওর ফ্যাসিলিটি থেকে বের হয়ে যায়। এবং এই মহামারীতে বিশ্বের ৯৯% এরও বেশি মানুষ মারা যায়। বইটির দুটি বিকল্প সমাপ্তি রয়েছে। ১৯৭৮ সালে প্রথম প্রকাশিত ৮০০-পৃষ্ঠার মূল সংস্করণে সমাপ্তি ছিল এক রকম। কেননা সেই সময় প্রকাশকরা এর চাইতে বড় পাণ্ডুলিপি মুদ্রণ করতে পারতেন না।

তবে ১৯৯১ সালের পরে স্টিফেন কিংয়ের ১৩৪৪ পৃষ্ঠার বইটির সম্পূর্ণ ও অপরিবর্তিত সংস্করণ প্রকাশ করা হয়, যা ভক্তদের মধ্যে আরও আশার সঞ্চার করে। তবে আপনি যে সংস্করণটি পড়েন না কেন, সেজন্য আপনাকে দীর্ঘ সময় ধৈর্য্য ধরে এটি পড়তে হবে।

. ‘ সুইটেবল বয়

ভারতীয় লেখক বিক্রম শেঠের এই বিশাল উপন্যাসটি (১৫০৪ পৃষ্ঠা) ১৯৫০’র দশকের গোঁড়ার দিকে, স্বাধীনতা-উত্তর, ভারত ভাগের পরবর্তী প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা হয়েছে। যেখানে চারটি একান্নবর্তী পরিবারের ১৮ মাসের গল্প তুলে ধরা হয়।

গল্পের প্রধান চরিত্র মিসেস রুপা মেহরার একমাত্র মেয়ে লতার জন্য একজন ‘উপযুক্ত পাত্র’খুঁজে পাওয়ার প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে গল্প এগিয়ে যায়।

১০. ‘ইন সার্চ অব লস্ট টাইম

মার্সেল প্রাউস্টের লেখা এই উপন্যাসের আয়তন শুনলে আপনি ভড়কে যেতে পরেন। ৩০৩১ পৃষ্ঠার এই বইটিতে রয়েছে মোট সাতটি খণ্ড। মার্সেল প্রস্টের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাহিত্যকর্ম ছিল এটি। শুধু আকারের দিক থেকেই দীর্ঘতম উপন্যাস হিসেবে নয়, এর প্লটটিও জনপ্রিয় উপন্যাস হতে একে সাহায্য করেছিল। এর প্রতিটি অধ্যায় পর্বভিত্তিক অংশগুলো অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ১৯০৯ সালের সামাজিক প্রতিচ্ছবি দিয়ে উপন্যাসটি শুরু হয়। তার পুরো উপন্যাসটি বিভিন্ন সময়ের ছোট ছোট চিত্রগুলো যেমন তুলে এনেছে তেমনি বড় পরিসরে দেখিয়েছে। সাত খণ্ডের এই উপন্যাসের শেষ তিন অংশ সময়কে অতিক্রম করে ও পেছনে চলে আসা যে আকাঙ্ক্ষা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সেটা অনবদ্য।

এটি এখন পর্যন্ত দীর্ঘতম উপন্যাস হিসাবে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পেয়েছে।

Read previous post:
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কার্যক্রমে ব্যবস্থাপকসহ তিন পদে নিয়োগ স্থগিত

তৃতীয় মাত্রা ডেস্ক রিপোর্ট : বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর উৎক্ষেপণ পরবর্তী কার্যক্রম চালনায় নিয়োজিত বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডে (বিসিএসসিএল) সহকারী...

Close

উপরে