Logo
সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বিমা কোম্পানিগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশের সময়: ৬:১৮ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | নভেম্বর ৫, ২০১৯

 

ফাইল ছবি

তৃতীয় মাত্রা 

ডেস্ক রিপোর্ট : বীমা ব্যবস্থাকে মানবিক কল্যাণে কাজে লাগানো অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় জীবন বীমা কাজে লাগতে পারে। বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে, তাদের বীমা স্কিম করে দেওয়া গেলে তারা অনেকটা নির্ভার থাকতে পারে।’
মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ক্ষুদ্র বীমা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উৎপাদন ও অর্থনীতিকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে বীমা কোম্পানিগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। বীমা কোম্পানির মালিকদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে, শুধু মুনাফা অর্জনের দিকে না তাকিয়ে, সমাজের প্রতি যে একটা দায়বদ্ধতা আছে, সেদিকে আপনারা একটু দৃষ্টি দেবেন। সেটাই আমরা চাই।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রাকৃতিক বিপর্যয়জনিত ক্ষতি মোকাবিলায় বাংলাদেশে বীমা ব্যবস্থার প্রয়োগ এখনও কিন্তু তেমন নেই। আমি আশা করি, আজকের এই অনুষ্ঠানের পর যারা বীমার সঙ্গে জড়িত তারা এ ব্যাপারে ভূমিকা পালন করবেন, যাতে এই ঝুঁকিপূর্ণ মানুষগুলো বাঁচতে পারে; যদিও ঝুঁকি মোকাবিলায় আমরা যথেষ্ট কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।’
সরকার প্রধান বলেন, ‘দেশকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। ডেল্ডা প্ল্যান-২১০০ কর্মসূচি হাতে নিয়ে তা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। মানুষকে জলবায়ু ঝুঁকি থেকে মুক্ত করে তাদের জীবন মানের উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি।’
বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘যারা নিম্ন আয়ের মানুষ এবং জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তাদের জীবন-মান কীভাবে নিরাপদ করা যায় তা নিয় আমরা ভাবছি। তাদের বিশেষভাবে বীমা স্কিম করে দিলে তারা অনেকটা নিশ্চিত থাকতে পারে। এ ধরনের ব্যবস্থা নিলে, তা হবে একটি নতুন পদক্ষেপ। এটা করা গেলে বাংলাদেশসহ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ঝুঁকিতে থাকা সব দেশের জনগণ লাভবান হবে। কোনও কোনও দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমাদের দেশেও এটা নিতে পারি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টেকসাই উন্নয়নের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় তৃণমূল আরও শক্তিশালী হচ্ছে। মানুষ ধীরে ধীরে দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে ৪১ ভাগ দারিদ্র্যের হার কমিয়ে ২১ ভাগে নামিয়ে এনেছি। আমাদের লক্ষ্য এটা আরও কমিয়ে ১৬ বা ১৭ ভাগে নামিয়ে আনা।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহনীয় ঘরবাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছি। সাইক্লোন শেল্টারও নির্মাণ করে দিচ্ছি। জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষভাবে দৃষ্টি দিচ্ছি। এ ক্ষেত্রে বীমা কোম্পানিগুলো এগিয়ে এলে দেশের মানুষ দারিদ্র্য সীমা থেকে মুক্তি পাবে। দেশ সামগ্রীকভাবে এগিয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, এই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বিশেষজ্ঞরা পারস্পারিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ে ভূমিকা রাখবেন। তারা মূলত বীমার মাধ্যমে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আরও ফলপ্রসূ ও বাস্তবমূখী কর্মসূচি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসবেন।’

প্রাকৃতিক দুর্যোগ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল। বাংলাদেশ একটি বদ্বীপ, সেজন্য এখানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে। ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা হওয়ায় এখানে প্রতিনিয়ত আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে থাকি। দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাম্প্রতিক একটি জরিপে বাংলাদেশ প্রাকৃতিক ঝুঁকিপূর্ণ দেশের মধ্যে সপ্তম।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার সরাসরি তদারিক করে থাকে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলোর গৃহীত কার্যক্রমও সারাবিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। ঝুঁকি মোকাবিলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই প্রবর্তন করেছিলন ভলান্টিয়ারদের ট্রেনিং দেওয়া। স্বাধীনতার পরপরই প্রায় ৪৫ হাজার ভলান্টিয়ার রেডক্রসের মাধ্যমে ট্রেনিং দিয়ে প্রস্তুত রাখতেন। আমরা এখনও সেটা অব্যাহত রেখেছি। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও সরকার ঝুঁকি মোকাবিলায় ট্রেনিং দিচ্ছে। আমাদের ৫৫ হাজারের বেশি ভলান্টিয়ার রয়েছে। তাদের মাধ্যমে আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে জীবন রক্ষা করতে পারি। আমরা বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’

 

Read previous post:
জাবি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন প্রধানমন্ত্রী : ওবায়দুল কাদের

ফাইল ছবি তৃতীয় মাত্রা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও...

Close

উপরে