Logo
শুক্রবার, ২২ জুন, ২০১৮ | ৮ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

‘উন্নয়নশীল বাংলাদেশ’ সিদ্ধান্ত নেয়ার বৈঠক শুরু

প্রকাশের সময়: ১২:০৯ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | মার্চ ১৩, ২০১৮

তৃতীয়মাত্রা :

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তকমা পেতে গতকাল নিউইয়র্কে একটি বৈঠক শুরু হয়েছে। বৈঠকটি বাংলাদেশের জন্য এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বয়ে আনবে। পৃথিবীর বুকে নতুন পরিচিতি পাবে বাংলাদেশ। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হয়ে ছোট্ট ব-দ্বীপ রাষ্ট্রটি উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এ সংক্রান্ত বৈঠকের আয়োজন করছে কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট (সিডিপি)। ত্রিবার্ষিক বৈঠকটি চলবে আগামী ১৬ মার্চ পর্যন্ত। বাংলাদেশসহ মোট ১৫টি দেশকে এলডিসির তালিকা থেকে বের করে উন্নয়নশীল দেশের তালিকাভুক্ত করা হবে এ বৈঠকে। দক্ষিণ এশিয়ার আরো দুটি দেশ নেপাল ও ভুটান রয়েছে এ তালিকায়। জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিল ইকোসোকের আওতাধীন সিডিপি তিনটি সূচকের মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি দেয়। সূচক তিনটি হলো- মানবসম্পদের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা এবং জাতীয় মাথাপিছু আয়।

একটি দেশকে উন্নয়নশীলের তালিকাভুক্তির জন্য মানবসম্পদ উন্নয়নে ১০০-এর মধ্যে ৬৬ পয়েন্ট থাকতে হবে। যেখানে বাংলাদেশের রয়েছে ৬৮ দশমিক ৭ পয়েন্ট। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতায় ৩২ পয়েন্টের নিচে থাকতে হবে একটি দেশকে। বাংলাদেশ রয়েছে ২৫ দশমিক ১১ পয়েন্টে। আর জাতীয় মাথাপিছু আয় (জিএনআই) ১ হাজার ২৪২ মার্কিন ডলার হতে হবে। যাতে বাংলাদেশ এরই মধ্যে পৌঁছে গেছে ১ হাজার ৬১০ ডলারে।

দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে বাংলাদেশের ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ এ তিন বছরের সূচকের তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হবে। তারা বলছেন, এরই মধ্যে তিনটি সূচকেই বাংলাদেশ সক্ষমতা অর্জন করেছে। ফলে বৈঠকে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের মানদণ্ড অর্জন করার স্বীকৃতি পেতে কোনো বাধা নেই।

তবে এ ক্ষেত্রে কিছু শর্ত ও প্রক্রিয়া রয়েছে উল্লেখ করে সূত্র জানায়, সূচকের এ ধারাবাহিকতা বাংলাদেশকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ধরে রাখতে হবে। পরে ২০২২ সালের শেষের দিকে জাতিসংঘের নির্ধারিত নিয়মে সূচকের তথ্যগুলো চূড়ান্ত সমন্বয় করে হিসাব তৈরি করা হবে। ২০২৪ সালের মার্চে ফের বৈঠক করবে সিডিপিবে। ওই বৈঠকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদন হলে তা পাঠানো হবে ইকোসোকে। ইকোসোক স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে চূড়ান্ত করে প্রতিবেদন পাঠাবে জাতিসংঘে। পরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তা স্বীকৃতি পেলে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাবে। এসব প্রক্রিয়া শেষ করতে মোট ৬ বছর লাগবে। এ ছয় বছর বাংলাদেশকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। যাতে বাংলাদেশ গড়িয়ে আবার পেছনে চলে না যায়।

এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলডিসি থেকে বের হয়ে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় উঠে গেলে সেখান থেকে আবার পিছিয়ে আসার কোনো নজির নেই। আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো আশঙ্কা একেবারেই থাকছে না। কারণ ৭৫ মিলিয়নের বেশি যাদের জনসংখ্যাা রয়েছে তাদের আর ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই। ফলে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হলে সেখানেই থেকে যাবে। বিশেষজ্ঞরা আরো জানিয়েছেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও জাতীয় মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কখনো পেছনে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে বড় মাত্রার ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প হলে অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকটি কিছুটা সংকটাপন্ন হলেও হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, কাগজপত্রে ২০২১ সালে আমরা বিভিন্ন সূচক অর্জন করব। কিন্তু আমাদের আরো তিন বছর করে মোট ছয় বছর পর্যবেক্ষণে রেখে দেয়া হবে। যাতে গড়িয়ে আবার পেছনে যায় কিনা তা দেখা হবে। সেই ছয় বছর আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে এই তালিকা থেকে বের হওয়ার জন্য। তবে এ বছরই বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সূচকগুলো অর্জন করে নিয়েছে। তবে অর্থনৈতিক অর্জনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতাও এখানে বড় ব্যাপার। ভোরের কাগজ

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Read previous post:
নোয়াখালীর ৩ রাজাকারের ফাঁসি, একজনের কারাদণ্ড

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় নোয়াখালীর জামায়াত নেতাসহ তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং একজনের ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার বিচারপতি...

Close

উপরে