Logo
বুধবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৮ | ৯ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

কল্যাণপুর ও পাইকপাড়া অভিযানের আসল নায়ক সোয়াত : মনিরুল

প্রকাশের সময়: ৫:৩৬ পূর্বাহ্ণ - মঙ্গলবার | আগস্ট ৩০, ২০১৬

8রাজধানীর কল্যাণপুর ও নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সোয়াত সদস্যরাই প্রকৃত সুপার হিরোর ভূমিকা পালন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম। আর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে (Bomb Disposal Unit) পার্শ্বনায়ক হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।

সোমবার দিবাগত গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে মনিরুল ইসলাম এসব মন্তব্য করেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে মনিরুল ইসলাম লেখেন, ‘‘বন্ধুগণ, আমি অতি সাধারন মানুষ, দোষে-গুনে মানুষ। কিছু কিছু গুন যে আমার নাই তা নয়, তবে ক্রুটি-বিচ্যুতির পরিমাণটাই বেশি। তবুও কেন যেন আপনারা অনেকেই আমাকে পছন্দ করেন, হয়তো আমার ক্রুটি-বিচ্যুতির বিষয়টি উপেক্ষা করেন। আবার অনেকে আমাকে অসীম সাহসী, সুপারম্যান হিসাবেও হয়তো ভুল করেন। আমি ভীতু না হলেও কারণে অকারণে মৃত্যুর ঝুঁকি নেওয়ার মত অতটা সাহসী নই। যতটা সম্ভব নিরাপদে থাকার চেষ্টা করি। প্রায় ২১ বছর ধরে পুলিশের চাকরি করলেও প্রায় সাড়ে সাত বছর ডিবি এবং কাউন্টার টেরোরিজমে কাজ করছি। সময়টা নিতান্ত কম নয়, আবার সবটাই যে খুব মসৃন গেছে তাও নয়। অনেক সহকর্মীকে হারিয়েছি, অনেক সহকর্মীর সাহসী পদক্ষেপের কারণে আমরা রক্ষা পেয়েছি, মানুষ রক্ষা পেয়েছে। আমার সহকর্মীরা অনেক সময় যেভাবে জীবনের ঝুঁকি নেন তা দেখে আমি ঈর্ষাবোধ করি, মনে হয় ইস আমি যদি এতটা সাহসী হতে পারতাম! আমাদের ইউনিটের সোয়াত (SWAT) সদস্যরা যেভাবে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও কর্তব্য পালনে দৃঢ়তার পরিচয় দেন, তখন গর্বিত হই! আমাদের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট (Bomb Disposal Unit) এর সদস্যরা যখন Unusual Grenade কিংবা বোমা নিষ্ক্রিয় করেন, দূর থেকে অবাক বিষ্ময়ে তাকিয়ে থাকি আর ভাবি ছেলেগুলোর কি জীবনের মায়া নেই!

কল্যানপুর এবং নারায়নগঞ্জ পাইকপাড়া-দুটো অপারেশনে সোয়াত সদস্যরা যে মাত্রার ঝুঁকি নিয়েছে তাতে মনে হয় ওদের চাইতে অনেকবেশি প্রশিক্ষিত অন্যকোন দেশের SWAT কিংবা Commando সদস্যরা নিজের জীবনকে এতটা সস্তা হয়তোবা নাও মনে করতে পারতো! আমার মনে হয়, কল্যাণপুরের ‘তাজ মঞ্জিল’ এর মত এত ঘিঞ্জি এলাকার পোড়ো বাড়ির ৫ তলায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্যকোন দেশের কমান্ডোরা এতদ্রুত সফল অভিযান করতে পারতো না। অন্য অনেক দেশের এই ধরনের হামলা মোকাবিলার প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় কতটা ঝুঁকি এই ছেলেগুলো নিয়েছে। পাইকপাড়ায় অভিযানে অন্যদেশের কমান্ডো আনলে তারা পুরো এলাকা খালি করে হেলিকপ্টার নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মহড়া দিয়ে, পুরো এলাকার পানি বিদ্যুৎ বন্ধ করে কি এলাহী কাণ্ডটাই না করতো। কিন্তু SWAT টিমের সদস্যরা নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে কিভাবে অটোমেটিক রাইফেল আর গ্রেনেডের সামনে তিনতলায় অপারেশন করলো ভাবলে হৃদকম্পন হয়!

সিনিয়র কর্মকর্তা হওয়াটা একটা প্রিভিলেজ বটে! এতোটা ঝুঁকি নিতে হয় না! এসি গাড়িতে চড়ে ঘটনাস্হলে উপস্থিত হই। বুঝে কিংবা না বুঝে অনেক দূরে সম্পূর্ণ নিরাপদ জায়গায় বুলেট প্রুফ জ্যাকেট আর হেলমেট পড়ে দর্শকের ভূমিকা পালন করি! ক্যামেরায় আমার ছবি যায়, সবাই মনে করে আমি নায়ক, কিন্তু আসল নায়করা অন্তরালেই থেকে যায়। আমি কল্যাণপুর আর পাইকপাড়া অভিযানের আসল নায়ক, প্রকৃত সুপারহিরো সোয়াত টিম (SWAT) আর পার্শ্বনায়ক বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট (Bomb Disposal Unit) কে তাদের অদম্য সাহসিকতা আর রণকৌশলের জন্য প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাতে চাই! Hats off, SWAT! I`m proud of you guys.’’

Read previous post:
সেন্সর বোর্ডকে মূর্খ বলে তোপ স্বস্তিকার

টে ফেলার পরামর্শ দিয়েছিল সেন্সর বোর্ড। এই সিদ্ধান্তকে সিবিএফসি-এর মুর্খামি বলে তোপ দিলে অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের। পরিষ্কার ভাষায় তিনি জানালেন,...

Close

উপরে