Logo
বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯ | ১লা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

গাড়ী ব্যবসা নাকি অভিনব প্রতারণা?

প্রকাশের সময়: ৯:৪৪ অপরাহ্ণ - শনিবার | অক্টোবর ১২, ২০১৯

তৃতীয় মাত্রা

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীতে গাড়ি ব্যবসার আড়ালে অভিনব কায়দায় প্রতারণা করে আসছে  MALIK BROS BD (মল্লিক ব্রাদার্স বিডি) -এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তের নাম প্রতিষ্ঠানটির স্বত্তাধিকারী আসাদুজ্জামান সোহাগ যিনি রাজধানীর বিজয় নগর এলাকায় MALIK BROS BD (মল্লিক ব্রাদার্স বিডি) নামক একটি ব্যবসায়িক ঠিকানা ব্যবহার করে গাড়ি ব্যবসার অন্তরালে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র বলছে বিভিন্ন সময় একাধিক ব্যক্তির নিকট হতে এই লোকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ শোনা গেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর পল্লবী এলাকার ‘এ’ ব্লকের ২ নং রোডস্থ ‘সুগন্ধা হাউজ’-এর বাসিন্দা অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান সোহাগ ২০১৭ সালের ২৭ মার্চ রূপালী ব্যাংক হেড অফিসের জেনারেল ম্যানেজার (বর্তমানে পিআরএলরত) আবু জাফর মোঃ ওয়ালী উল্লাহ্’র নিকট গাড়ি বিক্রয়ের কথা বলে ২৩ লক্ষ টাকা গ্রহন করেন। পরবর্তি প্রায় দুই বছর অতিক্রান্ত হলেও সেই গাড়ি আর তিনি ওয়ালী উল্লাহ্কে বুঝিয়ে দেননি। ওয়ালী উল্লাহ’র অভিযোগ অভিযুক্ত সোহাগ ফেরত দেননি সেই ২৩ লক্ষ টাকাও! টাকাগুলো রীতিমতো আত্মসাত করে অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান সোহাগ উল্টো ওয়ালীউল্লাহ্কে বিভিন্ন হুমকি-ধামকী এবং ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেন।

এবিষয়ে ওয়ালীউল্লাহ এই প্রতিবেদককে জানান যে, “একাধিকবার গাড়ি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলেও তা দেয় নাই প্রতারক সোহাগ। পরবর্তিতে তাকে যখন বললাম ভাই আমি অবসরে যাচ্ছি আমার গাড়ি দরকার নাই টাকা ফেরত দিয়ে দেন তখন সে তাতেও গড়িমসি শুরু করল। ‘আজ না কাল’ বলে এই পর্যন্ত আড়াই বছর ঘুড়িয়েছে কিন্তু টাকা আর সে পরিশোধ করে নাই। মাঝখান দিয়ে ব্যাংক থেকে আমার নামে ঋণ করা ২৩ লক্ষ টাকা অপরিশোধিত থাকায় আমার মান-সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। উপরন্তু আমার ২৭ মাসের মাসিক ভাতা বাবদ প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার উপরে আটকে আছে যাতে আমি আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। ইতোমধ্যেই বিষয়টিতে মতিঝিল থানায় (ডিএমপি) চলতি বছরের ১৫ মে একটি মামলা দায়ের করেছেন তিনি। মামলার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সেটির তদন্ত ভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) -এর উপর ন্যস্ত করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই পরিদর্শক আনোয়ার জানান, ইতোমধ্যেই মামলার চার্জশীট দাখিল করা হয়েছে। আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলমান। লোকটার সম্পর্কে প্রতরণার এমন আরও কিছু অভিযোগ তিনি শুনেছেন বলে এই প্রতিবেদককে জানান তিনি।

এছাড়াও জানা গেছে, অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান সোহাগ রূপালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখার নিকট দুইকোটি টাকার ঋণ নিয়ে তা পরিশোধে অভিনব কায়দায় কালবিলম্ব করছেন। অভিযোগ আছে, সর্বশেষ আপডেটকৃত সরকারী নিয়মানুযায়ী ঋণের ২ শতাংশ পরিশোধ করে পুনরায় রিশিডিউল করার যে নিয়ম প্রচলিত আছে সেই নিয়মটাকেই পুরোদস্তুর হাতিয়ার হিসেবে প্রয়োগ করছেন  সোহাগ। জানা গেছে, এ ব্যপারে রূপালী ব্যাংকের ঐ শাখা কর্তৃক বেশ কয়েকবার অ্যাকশন নিয়েও কোন লাভ হয়নি। বারবারই সোহাগ আইনের ফাঁক-ফেকর দিয়ে বেঁচে যান।এ বিষয়ে সর্বশেষ রূপালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখা প্রচলিত আইনে অর্থঋণ আদালতে একটি মামলা করেছে যার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

অপরদিক অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান সোহাগের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, “ভাই আমার যদি টাকা মেরে খাওয়ার ইচ্ছা থাকতো তবে প্রথমেই আমি তা করতাম। অভিযোগের বিষয়টি আমার অনিচ্ছাকৃত ভুলের মাশুল ছাড়া আর কিছুই না। মূলত আমি রূপালী ব্যাংকের সাথে গাড়ী ব্যবসা করছি আজ প্রায় দীর্ঘদিন যাবত। যেখানে একসাথে আমি প্রায় তিন কোটি টাকা পেয়েছিলাম সেখান থেকে ২০ বা ২৩ লক্ষ টাকা আমি কেন মারব? মারলে তো পুরোটাই মেরে দিতাম। তাছাড়া ওয়ালিউল্লার ২৩ লক্ষ টাকার অভিযোগটি পুরোপুরি সত্য না যেহেতু আমি তাকে ইতোমধ্যেই তিন লক্ষ টাকা পরিশোধ করেছি এবং বাকি ২০ লক্ষ টাকা রূপালী ব্যাংকের ডিজিএম মারফত প্রদান করতে চেয়েছি। দ্রুতই বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করবো।” আইনগতভাবে তার অবস্থান কতটুকু জোড়ালো? -এমন প্রশ্নের উত্তরে অভিযুক্ত সোহাগ বলেন “ভাই বর্তমানে আমার খাওয়ার পয়সা নাই বললেই চলে। বড় অভাবে দিনাতিপাত করছি। মামলা মোকদ্দমা করার সামর্থ্য নাই।”

Read previous post:
দুর্যোগ সহনীয় ঘর পাচ্ছেন ১১ হাজার গৃহহীন

তৃতীয় মাত্রা গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) ও কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূটির বিশেষ বরাদ্দের অর্থ দিয়ে তৈরি গৃহহীন মানুষের জন্য...

Close

উপরে