Logo
সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ | ২রা পৌষ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ক্লান্তি, আমায় ক্ষমা করো

প্রকাশের সময়: ৭:১০ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | অক্টোবর ৮, ২০১৯

তৃতীয় মাত্রা 

ডেস্ক রিপোর্ট : পূজায় আনন্দের পাশাপাশি পরিশ্রমও কম হয় না। মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে ঠাকুর দেখা, আড্ডা দেওয়া, খাওয়া দাওয়া। সব কিছু সামলাতে গিয়ে নিজের অজান্তেই ক্লান্তি চলে আসে। এ সময়টায় পেটের সমস্যা, মাথা ধরা, গায়ে আর হাত-পায়ে ব্যথা স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু ক্লান্তি আর দুর্বলতা কাটিয়ে পরের দিনের জন্য আবার তরতাজা হয়ে উঠতেই হবে। তাই হইচৈই এর সাথে বিশ্রামও জরুরি।

ঠাকুর দেখা তো চাই-ই-চাই। কিন্তু ওই কারণে শরীর জুড়ে যে ক্লান্তি নেমে আসে, তা দূর করবেন কীভাবে? তবে আসুন দেখে নেয়া যাক এর করণীয়-

বাড়ি ফিরে হালকা গরম পানিতে পা ডুবিয়ে বসে থাকুন মাত্র আধঘণ্টা। চাইলে পানির মধ্যে বাথ সল্ট বা এসেনশিয়াল অয়েল দিতে পারেন। পা ডুবিয়ে রাখার সময়ে হার্বাল টি, গ্রিন টি খেলে তরতাজা লাগবে। কেউ চাইলে ঠাণ্ডা জুসও নিতে পারেন। দেখবেন সব ক্লান্তি আর দুর্বলতা মুহূর্তেই উধাও।

পূজায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে জ্বর আর সর্দি-কাশি হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। সে ক্ষেত্রেও গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রাখলে ভালো লাগবে। ভেপার নিলেও আরাম পাওয়া যায়।

পূজার সময়ে শরীরচর্চা বা ব্যায়াম করতে কার ভালো লাগে! কিন্তু সকালে উঠে ফ্রি হ্যান্ড করে নিলেও অনেকটা ফুরফুরে লাগবে। দিনভর জমিয়ে ভুড়িভোজে আগে একটু পরিশ্রম কিন্তু মন্দ নয়।

পরিশ্রান্ত হয়ে বাড়ি ফিরে একটু নিজের মতো একা থাকুন। চাইলে করতে পারেন মেডিটেশন। নয়তো স্রেফ বিছানায় শুয়ে পড়ুন। হালকা গান চালিয়ে দিন। একটু পরে দেখবেন শরীরের সব পেশি শিথিল হয়ে এসেছে। এভাবে আধঘণ্টা শুয়ে থাকলে তরতাজা লাগবে।

ঠাকুর দেখার লাইন, রেস্তরাঁর লাইন, রাস্তার যানজট সামলানো চাট্টিখানি কথা নয়। ঘাড়ে পিঠে যন্ত্রণা স্বাভাবিক। হালকা ব্যায়াম করলে আরাম পাবেন। মেরুদণ্ড সোজা করে বসে ঘাড় ওপরে-নিচে করুন। কাঁধের উপরে হাতের বুড়ো আঙ্গুল রেখে হাত দুটো ক্লকওয়াইজ, অ্যান্টি ক্লকওয়াইজ ঘোরান। একটু স্ট্রেচ করুন। এতে ঘাড়, কাঁধ, কোমরের আরাম হবে। পা দুটো সামনের দিকে ছড়িয়ে বসুন। এবার হাত দিয়ে পায়ের আঙ্গুল ধরার চেষ্টা করুন। এভাবে ৩০ সেকেন্ড থাকুন। আরাম পাবেন। রাতে ঘুমোনোর সময়ে পায়ের তলায় বালিশ দিয়ে রাখুন। পা উঁচু থাকলে মাসলগুলো রিল্যাক্স হবে।

যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা আছে তারা একটু সাবধানে থাকবেন। অতিরিক্ত আওয়াজ, শোরগোলে মাইগ্রেনের সমস্যা বৃদ্ধির কারণ। সারাদিন রোদে ঘোরাঘুরি করার ফলে সাইনাসের সমস্যাও বাড়তে পারে। তাই বাড়িতে ওষুধ রাখুন।

পূজায় খাওয়া দাওয়া হবেই। কিন্তু সেখানেও কিছুটা নিয়ম মেনে চললে ভালো। নয়তো একদিন এত খেলেন যে বাকি পূজাটা আর কিছু খাওয়াই হলো না। যেদিন সকালে ভূড়িভোজ সারছেন, সেদিন রাতের দিকে হালকা খাবার খান। উল্টোটাও হতে পারে। অতিরিক্ত খাওয়া দাওয়া কিন্তু ক্লান্তি ডেকে আনে। কমবয়সীদের অতটা সমস্যা না হলেও, মধ্যবয়সী এবং বয়স্কদের একটু বিবেচনা করেই খেতে হবে। কারও হজমের সমস্যা থাকলে সকালে খালি পেটে হজমের একটি ওষুধ খেয়ে নিতে পারেন।

হাইজিনের ব্যাপারে একটু সতর্ক থাকা উচিত। স্যানিটাইজার মাস্ট। রাখতে পারেন ওয়েট টিস্যুও। ঠাকুর দেখার ফাঁকে টুকটাক মুখ চালাতে হলে হাত স্যানিটাইজ করে নেবেন।

সব কিছুর মধ্যে জরুরি হল ঘুম। রাত জেগে ঘোরাঘুরি, আড্ডার মাঝে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর বিদ্রোহ করবেই। আনন্দ করুন, কিন্তু শরীরেরও খেয়াল রাখুন।

সূত্র: আনন্দবাজার

Read previous post:
চামড়া শিল্পনগরীর সব কাজ শেষ হচ্ছে ডিসেম্বরে

তৃতীয় মাত্রা চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ‘চামড়া শিল্পনগরী-সাভার ঢাকা’ প্রকল্পের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারসহ (সিইটিপি) সব কাজ সমাপ্ত হবে। মঙ্গলবার সাভারের...

Close

উপরে