Logo
বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯ | ৮ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

‘বাংলাদেশ থেকে অবসর নেওয়া গর্বের বিষয়’

প্রকাশের সময়: ১২:১৬ অপরাহ্ণ - শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯

তৃতীয় মাত্রা

ডেস্ক রিপোর্ট : ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের তিন ম্যাচ খেলে একটাতেও জয় পায়নি জিম্বাবুয়ে। তাই আজ শুক্রবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিয়ম রক্ষার ম্যাচ হলেও নিজেদের শেষ ম্যাচে জিততে চায় মাসাকাদজা বাহিনী। সেইসঙ্গে দলের অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে জয় দিয়েই বিদায় দিতে চান সতীর্থরা। কারণ আজকের এই ম্যাচ দিয়েই ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন মাসাকাদজা।

জাতীয় দলের হয়ে তো বটেই, ঘরোয়া ক্রিকেটে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ বা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ খেলতে অসংখ্যবার বাংলাদেশে এসেছেন জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলের বর্তমান অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। যে কারণে বেশ কয়েকবার ভিন্ন ভিন্ন সাক্ষাৎকারে এ ভূখণ্ডকে নিজের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ বলতে কুণ্ঠাবোধ করেননি ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান।

এবার নিজেই এ দ্বিতীয় বাড়িতেই শেষবারের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে নামবেন মাসাকাদজা। এবারে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসার আগেই জানিয়েছিলেন, এ সফরটিই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার শেষবারের মতো মাঠে নামা। সেই কথা মোতাবেক আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটিই হতে যাচ্ছে মাসাকাদজার শেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ।

তবে ক্যারিয়ারের শেষভাগে এসে একটি আক্ষেপ রয়েই গেছে তার মধ্যে। পরিকল্পনা ছিলো ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলে, তবেই বিদায় জানাবেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে। কিন্তু আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় পড়ার কারণে সেই বিশ্বকাপ তো পরে, চলতি বছরে হতে যাওয়া বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও খেলা হবে না জিম্বাবুয়ের। তাই আগেভাগেই নিজের ক্যারিয়ার গুটিয়ে নিলেন ৩৬ বছর বয়সী মাসাকাদজা।

পুরো ক্যারিয়ার জুড়েই অবশ্য এমন অনেক আক্ষেপ সঙ্গী হয়ে ছিলো মাসাকাদজার। পড়াশোনা ও ব্যক্তিগত জীবনের খাতিরে অভিষেকের পরেও ক্যারিয়ার থেকে হারিয়ে ফেলেছেন ৩টি বছর। পরে আবার জিম্বাবুয়ে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকায় টেস্ট ক্রিকেট খেলতে পারেননি আরও কয়েক বছর। আক্ষেপ ছিলো ২০১৫ সালের আগে ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে না পারারও। তবে বছর চারেক আগে সেটি মিটিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসরে অংশ নিয়ে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাসাকাদজার শুরুটা ছিলো চমক জাগানিয়া। ঘরের মাঠে ২০০১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিজের অভিষেক টেস্টেই খেলেছিলেন ৩১৬ বলে ১১৯ রানের এক ইনিংস। যা ছিলো তৎকালীন সময়ে অভিষেক টেস্টে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরির রেকর্ড। তার সে রেকর্ডে ভর করে সে ম্যাচে অবিশ্বাস্য এক ড্র পায় জিম্বাবুয়ে।

কিন্তু এরপর আর সে অর্থে বড় কিছু হয়নি মাসাকাদজার ক্যারিয়ারে। জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের সঙ্গে সঙ্গে নিচের দিকে গেছে মাসাকাদজার ক্যারিয়ারের গ্রাফটাও। তবু দেশের অন্যান্য অনেক ক্রিকেটারের চেয়ে এগিয়েই থাকবেন তিনি। এর মধ্যে ২০০৯ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে এক সিরিজে ৪৬৭ রান করে তখনকার সময়ের বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন মাসাকাদজা।

আজ প্রায় ১৮ বছর পর নিজের শেষ ম্যাচ খেলতে নামার আগে জিম্বাবুয়ের জার্সি গায়ে ৩৮ টেস্ট, ২০৯ ওয়ানডে এবং ৬৫ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন মাসাকাদজা। সমান ৫টি করে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন টেস্ট ও ওয়ানডেতে। সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ৩০ গড়ে করেছেন ২২২৩ রান, ওয়ানডেতে ২৭ গড়ে তার সংগ্রহ ৫৬৫৮ রান। এছাড়া টি-টোয়েন্টিতে দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৫৯১ রানের মালিক তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে বাংলাদেশ থেকে অবসর নেওয়া গর্বের বলেও জানান এই জিম্বাবুইয়ান অধিনায়ক।

মাসাকাদজা বলেন, ‘আমি এই ব্যাপারটি নিয়ে লম্বা সময় ভেবেছি। অনেক দিন ধরে ক্রিকেট খেলছি। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে আসার পর মনের কোণে একটি ভাবনা সবসময়ই থাকে যে কতদিন খেলব, কখন বিদায় নেব। বয়স ৩৬ হয়ে গেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গত কিছুদিন থেকে একটু গুরুত্ব দিয়েই ভাবছিলাম। বাংলাদেশ থেকে অবসর নেওয়া অবশ্যই গর্বের বিষয়।’

Read previous post:
সন্ধ্যায় খেলবে আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে

তৃতীয় মাত্রা ডেস্ক রিপোর্ট : ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে আজ শুক্রবার আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চট্টগ্রামের...

Close

উপরে