Logo
সোমবার, ১৬ জুলাই, ২০১৮ | ১লা শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সুষ্ঠুর সম্ভাবনা না দেখলেই বর্জন করবে বিএনপি

প্রকাশের সময়: ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৮

নির্বাচনের বছরে সুনির্দিষ্ট দুটি টার্গেট নিয়ে এগোচ্ছে রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি। দলটির প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে—ন্যূনতম সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি জাতীয় নির্বাচন আদায় করা। আর এমন নির্বাচন আদায় না হলে নির্বাচন বর্জন তথা ভণ্ডুল করাই বিএনপির দ্বিতীয় লক্ষ্য। এমন প্রেক্ষাপটে দলটি কঠোর আন্দোলনের কথাই ভাবছে। দলটির নীতিনির্ধারক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন অবস্থানের কথাই জানা গেছে।

বিএনপি মনে করে, ন্যূনতম সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তারাই ক্ষমতায় যাবে। কারণ সরকারি দল তথা জোটের তুলনায় এই মুহূর্তে তাদের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। সে কারণেই সরকার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দিতে ভয় পায় বলে মূল্যায়ন বিএনপির। ফলে সরকার যত নেতিবাচক অবস্থানই নিক না কেন, নির্বাচনের মধ্যে ঢুকে পড়তে চায় বিএনপি।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে যাওয়ার কথা কয়েক বছর ধরেই আমরা বলে আসছি। বিএনপির এমন প্রস্তুতিও রয়েছে। কিন্তু চেয়ারপারসনের মামলার রায়কে সামনে নিয়ে আসার পাশাপাশি সরকার গত কয়েক দিনে যা করছে তাতে স্পষ্ট যে তারা বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চায়। ইচ্ছাকৃতভাবে তারা আমাদের নির্বাচনের বাইরে তথা আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিতে চায়।’ প্রশ্ন উত্থাপন করে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির কী করণীয় আছে আন্দোলন ছাড়া?

জানা গেছে, বিভিন্ন সূত্র থেকে বিএনপির কাছে এমন খবর আছে যে সরকার কোনোক্রমেই বিএনপিকে নির্বাচনে আসতে দেবে না। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ কোনো সরকারের দাবিও তারা মানবে না। তাই খালেদা জিয়াসহ বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা প্রায় দুই বছর ধরে নির্বাচনের পক্ষে ইতিবাচক বক্তব্য রেখেছেন। সর্বশেষ গত ২ জানুয়ারি ছাত্রদলের এক সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, চাইলেই বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখা যাবে না। বিএনপিকে ছাড়া এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। তিনি এও বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনমুখী দল এবং আমরা নির্বাচন করবই।’

দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির অন্যতম দুই সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মওদুদ আহমদ গত এক বছরে বেশির ভাগ বক্তৃতায় বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে যাবে এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।

দলটির এ ধরনের অবস্থান নেওয়ার কারণ—একদিকে বিএনপিকে এখন ব্যাপক জনপ্রিয় একটি দল বলে মনে করা হয়। দ্বিতীয়ত, এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে ফলাফল অনুকূলে যেত বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আছে। বিএনপির বড় একটি অংশও এমনটিই মনে করে, যারা ওই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষে মতামত দিয়েছিল। ফলে সব কিছু মিলিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে পরিস্থিতি অনুকূলে যাবে এবং প্রশাসনে সরকারের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়বে—এমন ভাবনা নিয়েই কর্মকৌশল ঠিক ছিল বিএনপির। সে অনুযায়ী সহায়ক সরকারের প্রস্তাবও প্রস্তুত করে রেখেছে দলটি। কিন্তু হঠাৎ করে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় সামনে আসায় সব কিছু ওলটপালট হয়ে যায়। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ওই মামলার রায়ের দিন নির্ধারিত হয়েছে। বিএনপি মনে করছে, খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হতে পারে। পাশাপাশি তাঁকে কারাগারে নিয়ে সরকার বিএনপিকে ভাঙার ষড়যন্ত্র করছে বলেও অভিযোগ দলটির।

শুধু তা-ই নয়, বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখারও এটি ষড়যন্ত্র বলে দলটি এখন মনে করতে শুরু করেছে। দলটির শুভাকাঙ্ক্ষী তথা সমর্থক গোষ্ঠীর মধ্যেও এখন আলোচনা হলো—মামলার রায়, ব্যাপক ধরপাকড়সহ সরকারের তরফ থেকে এখন যা কিছু করা হচ্ছে, সবই বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখা তথা আরেকটি একতরফা নির্বাচনের জন্য। সরকারের সবুজ সংকেত না থাকায় নির্বাহী কমিটির সভা করার মতো একটি স্থানও গতকাল পর্যন্ত ব্যবস্থা করতে পারেনি বিএনপি।

বিএনপি নেতাদের মতে, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে চাইলে সরকার এসব কর্মকাণ্ড করত না। ফলে নির্বাচনে না যেতে পারলে শেষ পর্যন্ত কী ঘটবে এমন আলোচনা কয়েক দিন ধরে দলের পাশাপাশি বিএনপির সমর্থক গোষ্ঠীর মধ্যেও ছড়িয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে খবর নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচন করতে না পারলে তা বর্জন তথা প্রতিহত করার কথাই চিন্তা করছে বিএনপি। দলটির নেতাদের মতে, নির্বাচন ভণ্ডুল হয়ে কোনো বিশেষ পরিস্থিতির উদ্ভব হলেও বিএনপির লাভ। অন্তত এ সরকারের ক্ষমতা যেন পাকাপোক্ত না হয়—এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হলেই বিএনপি খুশি বলে দলটির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায়। যদিও নির্বাচন প্রতিহত করার কর্মকৌশল নিয়ে বিএনপিতে এখনো আলোচনা শুরু হয়নি। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত দলটির নেতাকর্মীরা। তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী, নির্বাচনের এখনো প্রায় এক বছর বাকি রয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, ‘সরকারের কর্মকাণ্ডে দেশের মানুষের মধ্যে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেছে, সরকার বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চায়; কিন্তু বিএনপি নির্বাচনে যেতে চায়—এ কথা আমরা সবাই বলছি। এখন সরকার এসব করলে কী করব সেই বিষয়ে কর্মকৌশল চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ এখনো হয়নি। তবে আমি মনে করি, বাংলাদেশে একতরফা নির্বাচন বা একতরফা রাজনীতি আর হবে না। সমঝোতা ও বহু দলীয় নির্বাচনের দিকে এখনো আমরা তাকিয়ে আছি।’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতে, ‘নির্বাচনে যাওয়ার পথ একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে—এ কথা আমরা এখনো পুরোপুরি বলতে রাজি নই। আমরা নির্বাচনে যেতে চাই। কিন্তু দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচনে আমরা যাব না।’ তিনি বলেন, সরকারের জনপ্রিয়তা শূন্যের কোঠায় চলে যাওয়ায় বিগত ৫ জানুয়ারির মতোই সরকার একতরফা নির্বাচনের পথে হাঁটছে। কিন্তু জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের একতরফা উদ্যোগ অবশ্যই প্রতিহত করা হবে। সরকারের অসৎ উদ্দেশ্য কিছুতেই সফল হতে দেওয়া হবে না।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
Read previous post:
‘নাচে-গানে ভরপুর সিনেমায় অভিনয় করতে চাই না’

তৃতীয় মাত্রা : মারিয়া নূর। উপস্থাপনার মাধ্যমে পেয়েছেন তারকাখ্যাতি। বিশেষ করে ক্রিকেটবিষয়ক টেলিভিশন অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মাধ্যমে সবার কাছে পরিচিতি পান...

Close

উপরে