Logo
রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০ | ৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ব্রহ্মপুত্রে চীনের বাঁধ, ভারত ও বাংলাদেশে উদ্বেগ

প্রকাশের সময়: ৯:৩০ অপরাহ্ণ - রবিবার | অক্টোবর ২, ২০১৬

35চীনের বিশাল জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ব্রহ্মপুত্রের উপনদীতে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। শনিবার বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে জানায়, চীন তাদের একটি বিশাল জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী বাঁধ দিয়ে আটকে দিয়েছে।

সমালোচকরা বলছেন, এর ফলে ব্রহ্মপুত্রের ভাটিতে কোটি কোটি মানুষ পানির সংকটে পড়বে।

ব্রহ্মপুত্র নদী চীনে ‘ইয়ারলাং সাংবো’ নামে পরিচিত। বলা হচ্ছে, এই নদীতে গিয়ে পড়া একটি উপনদীর স্রোত চীন বাঁধ দিয়ে আটকে দিয়েছে, যাতে করে নদীর পানি বিশাল জলাধারে আটকে রাখা যায়।

চীন বলছে, এই জলাধারের পানি তারা সেচের কাজে ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে তাদের এ প্রকল্পের লক্ষ্য জলবিদ্যুৎ তৈরি এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু উজানের দুটি দেশ ভারত ও বাংলাদেশে এ নিয়ে উদ্বেগ আছে।

চীনের এই সর্বশেষ পদক্ষেপ নিয়ে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তারা অবশ্য মুখ খুলছেন না।

এদিকে, ব্রহ্মপুত্রের একটি উপনদীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে তার কি প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের ওপর? এ প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের একজন বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত বলেন, ‘চীন আসলে কী করছে, তার কিছুই আমরা জানি না। সেখান থেকে খুব কম তথ্যই পাওয়া যায়।’

আইনুন নিশাত বলেন, ‘চীন ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি ব্যবহার করে অনেক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা করছে। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে এখান থেকে এক লাখ ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। এরই মধ্যে ঝাংমো নামে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু হয়ে গেছে।’

অবশ্য এর আগে চীন দাবি করেছিল, এই প্রকল্পটির জন্য পানি প্রত্যাহার করা হবে না। এখন যেটির কথা বলা হচ্ছে, সেটি একই রকম দ্বিতীয় আরেকটি প্রকল্প। যদি এই প্রকল্পে সেচের জন্য পানি প্রত্যাহারের ব্যাপার থাকে, তাহলে সেটা অবশ্যই উদ্বেগের কারণ।’

আইনুন নিশাত বলেন, “জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষেত্রে যেটা হয়, বাঁধ দিয়ে প্রথম এক-দুই বছর পানি ধরে রাখা হয়। এর পর প্রতিবছর নদীতে যে পানি আসে, সেটা ছেড়ে দিতে হয়। চীনের এই প্রকল্প যদি ‘রান অব দ্য রিভার’ টাইপের হয়, তাহলে সেটা ভালো। কারণ, এতে বর্ষার সময় পানির প্রবাহ কমবে, কিন্তু শীতের মৌসুমে বাড়বে। কিন্তু যদি তারা সেচের জন্য পানি প্রত্যাহার করে, তাহলে সেটার প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশে পানির প্রবাহ কমবে, এবং সেটা কমবে শীতের সময়।’

আইনুন নিশাত বলেন, ‘বাংলাদেশের উদ্বেগের প্রধান কারণ এটা যে চীন আসলে কী করছে, তার কিছু্‌ই বাংলাদেশ জানে না। ভাটির দেশের সঙ্গে তাদের (চীনের) একটা কথা বলা দরকার, বাংলাদেশকে জানানো দরকার, তারা কী করছে।’

ড আইনুন নিশাত বলেন, ‘ইন্টারনেট ঘেঁটে তিনি যা জানতে পারছেন, তাতে দেখা গেছে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল চীনে গিয়েছিল ব্রহ্মপুত্রে কী হচ্ছে, সেটা জানার জন্য। তখন চীন এই বলে আশ্বাস দিয়েছে যে এই প্রকল্পে বাংলাদেশের কোনো ক্ষতি হবে না।’

Read previous post:
চৌদ্দগ্রামে গাঁজা ও আতশবাজি আটক

    তৃতীয় মাত্রা: মোঃ শাহীন আলম চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচারকালে ১’শ ২০ কেজি গাঁজা...

Close

উপরে