• Saturday, 10 December 2022

‘যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ চাইছেন কিম জং উন’

‘যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ চাইছেন কিম জং উন’

রেকর্ডসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পরের দিনই উত্তর কোরিয়া গত বৃহস্পতিবার অন্তত একটি দূরপাল্লাসহ তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়ার সশস্ত্র বাহিনী এসব কথা জানিয়েছে। গতকালের নতুন দফা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের জেরে জাপানের উত্তরাঞ্চলে জারি করা হয়েছিল বিরল ধরনের সতর্কতা।

জাপানের উপকূলরক্ষী বাহিনী সতর্কতায় বলেছিলো, ‘উত্তর কোরিয়া থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র জাপানের ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে পার হবে।’

এর আগে, উত্তর কোরীয় ক্ষেপণাস্ত্র জাপানের ওপর দিয়ে পার হয়েছে। কিন্তু, কখনোই দক্ষিণে এত দূরে আসেনি। তবে, উত্তর কোরিয়ার ছোড়া গতকালের ওই ক্ষেপণাস্ত্র শেষ পর্যন্ত আর জাপানের আকাশসীমায় পৌঁছায়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সূত্ররা বলছে, ‘আকাশে মাঝপথেই ব্যর্থ হয়ে ক্ষেপণাস্ত্রটি পড়ে যায় জাপান সাগরে।’

রাজধানী টোকিওর উত্তর জাপানের মিয়াগি এবং ইয়ামাগাতা প্রিফেকচারজুড়ে সকাল ৭টা ৫০ মিনিট এর দিকে বেজে ওঠে সতর্ক সংকেত। চলমান টিভি অনুষ্ঠানের সম্প্রচার থামিয়ে, জনসাধারণকে বলা হয় আশ্রয়ের খোঁজে যেতে।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে ঘটল এ ঘটনা। ধারণা করা হচ্ছে, উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা এরকম কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আদতে কী চাইছে পিয়ংইয়ং? পশ্চিমা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নিভৃতকামী এবং কট্টর কমিউনিস্ট উত্তর কোরিয়া ইচ্ছা করেই প্রতিবেশীদের সাথে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে। তাদের ধারণা, পারমাণবিক পরীক্ষার মতো আরো বড় কিছু হতে চলেছে। হতে পারে, প্রশান্ত মহাসাগরে পূর্ণ পরিসীমার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পরীক্ষা করতে চাইছে দেশটি।

উত্তর কোরিয়ার এই অস্থির তত্পরতার রাজনৈতিক লক্ষ্যও রয়েছে। পিয়ংইয়ং এর আগেও এ ধরনের কাজ করেছে। একবার ২০১০ সালে এবং পরে ২০১৭ সালে। এ দুইবারই উদ্বেগ বাড়িয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানেএবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি এবং ছাড়ের আলোচনায় বসেছিল দেশটি।

দৃশ্যত এবারও একই পথে হাঁটছে পিয়ংইয়ং। তবে, এবার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের আরেকটি লক্ষ্যও থাকতে পারে। আর সেটি হলো, অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিকে আরো নিখুঁত করে তোলা। ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে নিক্ষেপের পর এক পর্যায়ে বোমাবাহী যুদ্ধাস্ত্র অংশটি আলাদা হয়ে একটি পুনঃপ্রবেশ যানের মাধ্যমে পৃথিবীতে ফিরে আসে। বায়ুমণ্ডল দিয়ে নেমে আসার সময় যে প্রচণ্ড তাপ ও চাপের সৃষ্টি হয় সেটা সহ্য করার ক্ষমতা থাকতে হবে এর। অতীতের পরীক্ষাগুলোয় দেখা গেছে, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের যানগুলো ব্যর্থ হয়েছে। গতকালের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রটির বেশি দূর যেতে ব্যর্থতার মধ্য দিয়েই এ ক্ষেত্রে তাদের সীমাবদ্ধতা ফুটে উঠেছে।

দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানকে ভয় দেখানো উত্তর কোরিয়ার চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ‘পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তর্মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছে দেশটি।’

যুক্তরাষ্ট্র সব দেশকে উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া, ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আন্তর্মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ বিষয়ক সমাধানের লঙ্ঘন হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস। -সূত্র : এএফপি, বিবিসি

comment / reply_from

related_post