• Saturday, 10 December 2022
স্যার রুমে আছেন,আমরাই সব পারি

স্যার রুমে আছেন,আমরাই সব পারি

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও ডাক্তারদের অবহেলায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। দিনে কোনমতে চিকিৎসাসেবা দিলেও রাত ১২টা বাজলেই ঘুমিয়ে পড়েন জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসকগণ। তাদের পরিবর্তে চিকিৎসা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। এমন কি ব্যবস্থাপত্রও

দেন তারা। ম্যাটস পড়–য়া শিক্ষার্থীরা কিভাবে সব রোগের ব্যবস্থাপত্র দেন তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। সম্প্রতি রাত ১২টার সময় গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখা যায় দায়িত্বরত চিকিৎক ডা. রাজীব হোসেন পাশের একটি রুমে ঘুমিয়ে আছে। তার পরিবর্তে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন দু’জন ইর্ন্টান। নবজাতক থেকে সব বয়সী

রোগিদের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপত্র দেন তারা। এ সময় সদর উপজেলার তুলসীঘাট থেকে চিকিৎসা নিতে আসা তানজিন নামে এক যুবক বলেন, আমার মায়ের প্রচন্ড পেট ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। জরুরি বিভাগে থেকে চিকিৎসা দেওয়ার পর তারা হাসপাতালে ভর্তি হতে বললেন। দায়িত্বরত চিকিৎসক কই? এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, স্যার রুমে আছেন, আমরাই সব পারি। শুধু তানজিন নয়, ওই দুই ছাত্রকে দুই নবজাতকসহ অন্তত ৫ জন রোগির চিকিৎসাসহ ব্যবস্থাপত্র দেয়। তখনও দায়িত্বরত ডা. রাজীব

হোসেন পাশের রুমে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত ১২টা ৪০ মিনিটে জরুরি বিভাগে আসেন তিনি। ৭ মিনিট একজন রোগির চিকিৎসা দিয়েই আবার ১২টা ৪৭ মিনিটে পাশের রেস্ট রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত ইর্ন্টান ছাত্র আমিনুল ইসলাম রংপুর সিটি ম্যাটসের ছাত্র। আরেকজনের নাম সিপন রায়। তিনি বগুড়া টিএমএসএস ম্যাটসের ছাত্র। সব বয়সের রোগিদের চিকিৎসার পাশাপাশি ব্যবস্থাপত্র আপনারা কেন দিচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, আমরা বলতে পারব না আমাদের স্যার

জানেন। স্যার কই জিজ্ঞেস করতেই বলেন রুমে আছেন। দায়িত্বরত ডা. রাজিব হোসেনে বলেন, দেখেন রাতে পুরো হাসপাতালের দায়িত্ব আমার উপর। এত কাজ তাই একটু রেস্ট নিচ্ছি। তাছাড়া ইর্ন্টানরা ভালো চিকিৎসা দিতে পারেন। গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত¡বধায়ক ডা. মাহাবুব হোসেন বলেন, জরুরি বিভাগে দায়িত্ব বাদ দিয়ে ডাক্তার ঘুমিয়ে থাকবে এটা কাম্য নয়। তবে রোগি না থাকলে তারা রেস্ট নিতে পারবে। এ রকম কোন ঘটনা ঘটলে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হবে। বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়শন

(বিএমএ) গাইবান্ধা জেলা শাখার সমাজ কল্যাণ স¤পাদক ডা. মো. মঞ্জুরুল হাসান বলেন, কোন ডাক্তারের দায়িত্ব অবহেলা করে ঘুমিয়ে থাকা অবশ্যই উচিত না। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা দরকার বলে আমি মনে করি। আর ইর্ন্টান ছাত্ররা সব রোগের ব্যবস্থাপত্র দিতে পারবে না। তবে নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ তারা লিখতে পারবে।

comment / reply_from