Saturday, 26 November 2022
Logo

স্বাধীনতাবিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

স্বাধীনতাবিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ‘১৯৭১-এর পরাজিত শক্তি ছদ্মবেশ ধারণ করে এখনও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে দেশকে পাকিস্তান বানানোর জন্য। জাতীয়তাবাদী দলের নামে স্বাধীনতাবিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে পাকিস্তানি চেতনা বাস্তবায়নের জন্য। এটা যাতে না হয়, তার জন্য ১৫ আগস্ট ও চার নেতার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে হবে।’

আজ ৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেন, ‘১৫ আগস্টের পর বাংলাদেশকে আস্তে আস্তে পাকিস্তানের ধারায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাঙালি জাতীয়তাবাদ পরিবর্তন করে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ করা হয়েছে। জয় বাংলা বাদ দিয়ে পাকিস্তান জিন্দাবাদের আদলে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ করা হয়েছে। বাংলাদেশ বেতার হয়েছে রেডিও বাংলাদেশ। ’

১৯৭১-এর পরাজিত শক্তি এখনো সক্রিয় আছে বলে মন্তব্য করেন মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, ‘তারা আবার আরেকটা ১৫ আগস্ট সৃষ্টি করতে চায়। তারা শোক দিবসে খালেদা জিয়ার ভুয়া জন্মদিন পালন করে, উল্লাস করে। এতে বোঝা যায় তারা এখনো মনেপ্রাণে পাকিস্তানি চেতনাকে ধারণ করে। তারা ধর্মীয় চেতনাকে ব্যবহার করে মিথ্যাচার করেছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে।’

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আরও বলেন, ‘১৫ আগস্ট ও ৩রা নভেম্বর জেলখানায় চার নেতাকে হত্যার পর তাদের কর্মকাণ্ড শেষ হয়নি। তাই তারা শেখ হাসিনাকে বারবার হত্যার চেষ্টা করে। তিনি ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা হাওয়া ভবনে হয়েছে মন্তব্য করে বলেন, ‘এগুলো সব একই সূত্রে গাঁথা। তারা বাংলাদেশকে অকার্যকর ও ব্যর্থ রাষ্ট্র বানানোর জন্য অক্লান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ’

অনুষ্ঠানে ধান আলোচকের বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ারের গবেষক ও শিক্ষাবিদ মুনতাসীর মামুন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছে কারণ তারা বেঁচে থাকলে তাহলে পাকিস্তানের ধারা অব্যাহত রাখা যেত না। মুক্তিযুদ্ধ করাটা সহজ ছিল, মুক্তিযোদ্ধা থাকাটা সহজ নয়। চার নেতা শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ করে গেছেন। এজন্য তাদের হত্যা করা হয়েছিল। ’

তিনি এ সময় পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে যেদিন হত্যা করা হয় কেউ ঢাকা শহরে নামেনি। বঙ্গবন্ধু একটি অনিচ্ছুক জাতিকে স্বাধীন করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তানি ডাকটিকিট এখনো অনেকের বুকের মধ্যে সাঁটা। এটা খুলব কি করে?’

ইতিহাসের বিষয়গুলো ও চার নেতার স্মৃতি সংরক্ষণের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় থেকে একটা মুক্তিযুদ্ধের ওপর একটি ছোট বই করে সব পাঠাগারে দেওয়া উচিত। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের কাজ শুধু ভাতা দেওয়া বা তালিকা করা না। এখানে গবেষণা বা স্মৃতি সংরক্ষণের কাজ করা উচিত যেটি লক্ষ্যণীয় নয়।’

তিনি শিক্ষা ও গবেষণায় অপ্রতুল বাজেটের সমস্যা তুলে ধরে এ সময় বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সবচেয়ে বেশি বাজেট বরাদ্দ রাখতেন শিক্ষায়, আর এখন সবচেয়ে কম বাজেট হয় শিক্ষায়। এ সময় তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সংগঠিত গণহত্যার ওপর তাঁদের চলমান গবেষণার উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘গণহত্যার পরিধি অনেক বড়। আমাদের চলমান গবেষণায় আমরা দেখেছি ৩৬টা জেলায় সাড়ে ১৬ হাজার গণহত্যা হয়েছে। ১ হাজারের ওপর বধ্যভূমি। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়কে এসব কাজের জন্য কোনো বাজেট দেওয়া হয় না।’

বিশেষ আলোচক এডিটার্স গিল্ডের সভাপতি ও অ্যাটকোর সহ-সভাপতি মোজাম্মেল হক বাবু বলেন, ‘৫ রুমে বসে মুজিবনগর সরকার এত বড় একটা যুদ্ধ ও সরকার পরিচালনা করে। এটা সম্ভব হয়েছে চার নেতা ও তার অনুসারীদের কারণে। এখন আমরা এত কাজ করতে পারি কিনা সন্দেহ আছে। ’

তিনি আরও বলেন, ‘চার নেতাকে হত্যার পর দেশকে ২১ বছর উল্টো পথে চালিত করা হয়েছে। ৩রা নভেম্বর নতুন প্রজন্মকে চেনাতে হবে। যা কিছু আসুক আমরা যেন চার নেতার মতো ত্যাগের আদর্শ ধারণ করতে পারি।’

এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সচিব খাজা মিয়া। তিনি জেলহত্যা দিবসকে ‘বেদনাবিধুর দিন উল্লেখ করে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যারা দেশকে এগিয়ে নিতে পারতেন সেই চার নেতাকে পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রীয় শক্তির সহায়তায় জেলখানার মতো নিরাপদ জায়গায় ঘাতকেরা খুন করে’।

অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জাতীয় চার নেতার ওপর বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদন দেখানো হয়। সভায় খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধারা, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

comment / reply_from