• Saturday, 10 December 2022

মহাকাশে বানর পাঠাবে চীন

মহাকাশে বানর পাঠাবে চীন

চীন তার সদ্য চালু হওয়া তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে বানর পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বলে জানা যায়। শূন্য-মাধ্যাকর্ষণ পরিবেশে তারা কিভাবে বৃদ্ধি পায় ও প্রজনন করে তা অধ্যয়নের জন্য এ পরিকল্পনা করা হয়েছে। গবেষণার নেতৃত্ব দেয়া চীনা বিজ্ঞানী ঝাং লুকে উদ্ধৃত দিয়ে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ‘মহাকাশ স্টেশনের বৃহত্তম মডিউলে পরীক্ষাটি পরিচালিত হবে, যা জীবনবিজ্ঞানের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয়।’

ঝাং বলেছেন, ‘মাছ এবং শামুকের মতো ছোট প্রাণীদের অধ্যয়ন করার পর 'এখন ইঁদুর এবং বানর নিয়ে কিছু গবেষণা পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে তারা মহাকাশে কিভাবে বৃদ্ধি পায় বা প্রজনন করে তা দেখা হবে। ' এই পরীক্ষাগুলো মাইক্রোগ্রাভিটি (প্রায় শূন্য-মাধ্যাকর্ষণ) এবং অন্যান্য স্থানের পরিবেশের সঙ্গে জীবের অভিযোজন সম্পর্কে ধারণার উন্নতি করতে সহায়তা করবে বলে বিশ্বাস করেন তিনি।’

তবে, এ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে ইঁদুর ও মানুষসদৃশ স্তন্যপায়ী প্রাণীর মতো জটিল জীবনের ধরনগুলোর ওপর এ ধরনের গবেষণা করার ক্ষেত্রে এখনো বেশ কিছু অসুবিধা রয়েছে। তারা বলেছেন যে, স্নায়ুযুদ্ধের যুগে সোভিয়েত গবেষকরা কয়েকটি ইঁদুর পেতে সক্ষম হয়েছিলেন। যেগুলো শারীরিক বাধা কাটিয়ে উঠেছিল ওএবং ১৮ দিনের স্পেস ফ্লাইটের সময় সহবাস করেছিল। কিন্তু, তাদের গর্ভাবস্থার কোনো লক্ষণ ছিল না ও পৃথিবীতে ফিরে আসার পর তাদের কেউ-ই বাচ্চা জন্ম দেয়নি।

সিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন স্কুলের অধ্যাপক কেহকুই কি বলেছেন, ‘মহাকাশে জীবনবিজ্ঞান পরীক্ষায় ব্যবহৃত প্রাণীর আকারের সঙ্গে পরীক্ষার চ্যালেঞ্জগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরো বলেন, 'মহাকাশচারীদের তাদের খাওয়ানো এবং বর্জ্য মোকাবেলা করতে হবে।'

গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, মাটিতে কিছু পূর্ববর্তী পরীক্ষায় পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল যে, মাধ্যাকর্ষণের অনুপস্থিতি অণ্ডকোষ ও কিছু অন্য প্রজনন অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে। পরীক্ষার প্রাণীদের যৌন হরমোনের একটি উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গিয়েছিলো।

কিন্তু, কেহকুই বলেছেন, ‘বৃহত্তর প্রাণী, বিশেষ করে বানরের সঙ্গে মানুষের অনেক মিল রয়েছে এবং অনেক দেশ চাঁদ বা মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথে দীর্ঘমেয়াদি বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। তাই এই পরীক্ষাগুলো উপকারী হবে।’ -সূত্র : এনডিটিভি।

comment / reply_from

related_post