Saturday, 26 November 2022
Logo
ব্যারিকেড বিপাকে জাবি শিক্ষার্থীরা

ব্যারিকেড বিপাকে জাবি শিক্ষার্থীরা

জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের সামনের রাস্তায় নব্য নির্মিত ব্যারিকেডের ফলে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। শব্দ দূষণ ও গাড়ি পার্কিংয়ের দৌরাত্ম্য কমাতে গত ২৮ আগস্টে স্থাপন করা হয় এই ব্যারিকেড। যদিও রাস্তা আটকিয়ে ব্যারিকেড নির্মাণের বিষয়ে অবগত ছিল না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে নির্মাণাধীন অবস্থায় কোন সতর্কীকরণ এর ব্যবস্থা না করায় একাধিক গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটে উক্ত স্থানে। 
 
২৮ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠ থেকে হলের উদ্দেশ্যে সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় অন্ধকারে নির্মাণাধীন ব্যারিকেডে ধাক্কা খেয়ে গুরুতর আহত হন নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী স্যাফায়ার হোসেন স্বচ্ছ। হাত পা ছিলে যাওয়ার পাশাপাশি কপালে একটি গভীর জখম হয় তার। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নিতে গেলে ব্যারিকেডের ফলে দুর্ঘটনায় আহত আরো দুইজন শিক্ষার্থীকে দেখতে পান বলে জানান তিনি। 
 
একই স্থানে ৩০ আগস্ট রাত ১০ টার দিকে সাইকেল নিয়ে গুরুতর দুর্ঘটনার  স্বীকার হন ফার্মেসী বিভাগের ১ম বর্ষের ছাত্র করিম বিশ্বাস শান্ত। তার সামনের পাটির দুটি দাঁত ভেঙ্গে যায় এবং ডান হাতের কবজি ও পেটে আঘাত পান। এখনো পুরোপুরি সুস্থ্য হয়ে উঠতে পারেন নি শান্ত, নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসা বাবদ এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান তিনি। 
 
দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ চেয়ে নিজ বিভাগ বরাবর আবেদন করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেও কোন সাড়া পাননি শান্ত।এমন একাধিক দুর্ঘটনা ঘটলেও সতর্কীকরণের কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি কলা ও মানবিকী অনুষদের পক্ষ থেকে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী উদ্যোগ নিয়ে কয়েকটি লাল পিভিসি ব্যানার টানিয়ে দেন ব্যারিকেডের সামনে।  
 
এদিকে ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষার্থীরা কার কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি নিয়ে যাবেন এই নিয়ে তৈরি হয়ে হয়েছে অনিশ্চয়তা।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো নূরুল আলম কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত না করে ব্যারিকেড নির্মাণ করা হয়েছে বিধায় প্রসাশন এর দায়ভার নিবে না। যারা ব্যারিকেড দিয়েছেন তাদেরই এর দায়ভার নিতে হবে।’
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোঃ মোজাম্মেল হক বলেন,‘ এটাতো আমাদের দায়িত্ব না, এটার জন্য শিক্ষার্থীকল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে।’ ব্যারিকেডটি দেয়ার ফলে প্রায় দ্বিগুণ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে পথচারীদের, এর ফলে রিকশা ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে ৫ টাকা। এদিকে বিকল্প রাস্তাটি সরু হওয়ায় এবং রাস্তাটির এক প্রান্তে তীক্ষ্ণ বাঁক থাকায় প্রায়শই ঐ মোড়ে ঘটছে দুর্ঘটনা, তৈরি হচ্ছে যানজট। এছাড়াও কোন সড়কবাতি না থাকায় রাতের বেলা রাস্তাটি ব্যবহার করতে যেয়ে বিপাকে পড়ছেন পথচারীরা। 
 
ব্যারিকেডের বিষয়ে জানতে চাইলে কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোঃ মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমি এটা আমার শিক্ষকদের মতামতের ভিত্তিতেই করেছি, একা করিনি। প্রশাসন চাইলে আমাদের সাথে এবিষয়ে আলোচনা করতে পারতো। কিন্তু আমি এই বিষয়ে বারবার বলেও কোন সুরাহা পাইনি। তাই নিজেদের সমস্যার সমাধান নিজেদেরই করতে হয়েছে।’তবে পরবর্তী ডিন নির্বাচনকে উপলক্ষ্য করেই অধ্যাপক মোঃ মোজাম্মেল হক এই উদ্যোগ নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক।

comment / reply_from