• Tuesday, 06 December 2022
ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসকসহ ৫০ পদ শূন্য

ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসকসহ ৫০ পদ শূন্য

অমর চাঁদ গুপ্ত অপু, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও প্রয়োজনীয় জনবল নেই। ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ ৫০টি পদ শূন্য রয়েছে। চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারি সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা ও দাপ্তরিক কার্যক্রম। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দ্রæত চিকিৎসা পেতে দিনাজপুর জেলা শহর ও রংপুর বিভাগীয় শহরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ছুটছেন রোগী ও স্বজনরা। এতে ব্যয় বাড়ছে তাদের।

১৯৯৪ সালে ৩১ শয্যার উপজেলা হাসপাতালটির যাত্রা শুরু। ২০১২ সালে সেবার মান উন্নয়নের সেখানে ৫০ শয্যা অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। হাসপাতালটিতে জনসংখ্যার ভিত্তিতে ১১ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ ১৩৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি থাকার কথা। কিন্তু কর্মরত আছেন ১ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ ৮৮ জন। অবশিষ্ট ৫০ পদ শূন্য রয়েছে। এরমধ্যে প্রথম শ্রেণির ৩ জনসহ ক্যাডার বহির্ভূত ৪৭ জন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ১০ জন মেডিসিন, সার্জারি, শিশু, ইএনটি, চক্ষু, অর্থোপেডিক, চর্ম-যৌন ও কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, তিনজন মেডিকেল অফিসার, চারজন সহকারি সার্জন, দুইজন মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ডেন্টাল ফিজিও), একজন ষ্টোর কিপার, ১২ জন স্বাস্থ্য সহকারি, একজন টিবি অ্যান্ড লেপ্রোসি কন্ট্রোল অ্যাসিষ্ট্যান্ট, পাঁচজন এমএলএসএস, দুইজন আয়াসহ ৫০ টি পদ শূন্য রয়েছে।

বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা উত্তর কৃষ্ণপুর গ্রামের গৃহবধূ রাবেয়া খাতুন বলেন, এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় প্রয়োজনে দিনাজপুর অথবা রংপুর গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যেতে হচ্ছে। এতে অর্থ ও সময় দুই-ই যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাকিবুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সব সময় ৫০ এরও অধিক সংখ্যক রোগী ভর্তি থাকেন। এজন্য শূন্য পদে জনবল নিয়োগ জরুরি। বিশেষ করে মেডিসিন ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক খুব দরকার। শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় ভাতার জন্য প্রতিবন্ধীর প্রত্যয়ন নিতে আসা শিশুদের প্রত্যয়ন দিতে সমস্যায় পড়তে হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারির পদশূন্য থাকায় চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমসহ দাপ্তারিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তবে স্বল্প জনবল নিয়েই সাধ্যমত চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম প্রদান করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় অনেক সময় জরুরি ও মুমূর্ষু রোগীকে দিনাজপুর অথবা রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হয়। বর্তমানে স্বল্প জনবল নিয়েই নারীদের নরমাল ডেলিভারীসহ ছোটখাটো অপারেশন করা হচ্ছে।

comment / reply_from