• Tuesday, 06 December 2022
নবীগঞ্জে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মসজিদের নাম পরিবর্তনের অভিযোগে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন

নবীগঞ্জে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মসজিদের নাম পরিবর্তনের অভিযোগে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ  নবীগঞ্জে ওয়াকফ প্রশাসনকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ইনাতগঞ্জ জামে মসজিদের নাম পরিবর্তন করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া জাল কাগজপত্র তৈরি করা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ওয়াকফ প্রশাসনের নির্দেশে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করতে মসজিদ কমিটি গরিমসি করছে বলেও তথ্য পাওয়া যায়। মৃত ওহাব উল্যাহ ও  ইব্রাহিম উল্লা নামের ব্যাক্তি প্রকৃত ভূমিদাতা হলেও মৃত আরজান আলী নামের আরেক ব্যক্তি জাল কাগজপত্র তৈরি করে ভূমি দাতা সেজে সুকৌশলে ইনাতগঞ্জ জামে মসজিদ নাম বাদ দিয়ে তার প্রবাসী স্ত্রী সালেহা বেগমের নামে 'সালেহা জামে মসজিদ' নামকরণ করেন বলে অভিযোগ করেন ইব্রাহিম উল্লার পুত্র আশাহিদ আলী আশা। ওই এলাকার বাসিন্দা তৎকালীন প্রভাবশালী মৃত আব্দুর রহিম মাসুককারী ও তার কিছু সহযোগী টাকার বিনিময়ে আরজান আলীকে এসব কাজে সহযোগিতা করেন। 
এসব বিষয় নিয়ে শনিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে  হবিগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মসজিদের ভুমিদাতার ছেলে আশাহিদ আলী আশা। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে সালেহা জামে মসজিদ নামকরণ ও দানের টাকা আত্মসাৎ সহ বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে আশাহিদ আলীর পক্ষ থেকে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নিকট বরাবর অভিযোগ করা হয়। ওয়াকফ প্রশাসনের  তদন্তে দেখা যায়, আরজান আলী ও মস্তফাপুর আনোয়ারুল দাখিল মাদরাসা সুপার মসজিদের খতিব আব্দুর নূর সহ কয়েকজন মিলে অবৈধ মসজিদ কমিটি দিয়ে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাগজ তৈরী করে ১৭৭১০ নম্বর নথিতে ওয়াকফ প্রশাসন বাংলাদেশে এষ্টেট করে সালেহা জামে মসজিদ নাম করন করেছেন। খতিব যোগদান করার পর থেকেই নাম পরিবর্তন, অথচ
 
বর্তমানে ও ইনাতগঞ্জ বাজার জামে মসজিদ হিসাবে সেটেলমেন্টে আর এস জরিপে ও সাইনবোর্ড লাগানো রয়েছে যা অবৈধ কমিটি গোপন রাখেন মর্মে তদন্তে প্রতিয়মান হয়। এক পর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তা মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ওয়াকফ হিসাব নিরীক্ষক মোঃ শাখাওয়াত হোসেন তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, যেহেতু মসজিদ গর্ভে সরকারী সম্পত্তি রয়েছে সেই সুবাধে এলাকার শান্তি শৃংখলার স্বার্থে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অথবা সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে সভাপতি, এবং ভূমি দাতা পরিবারের সদস্য আশাহিদ আলী আশাকে সেক্রেটারী/মোতোয়াল্লী নিয়োগ করে ১১/ ১৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করার নির্দেশনা দেন। এটি বাস্তবায়িত না হওয়ায় গত ৫ জুন নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে তিন বছর মেয়াদে অফিশিয়াল মোতোয়াল্লি হিসেবে নিযুক্ত করেন বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসক। উপজেলা নির্বাহী অফিসার অফিশিয়াল মোতোয়াল্লি হিসাবে বর্তমান দায়িত্বরত কমিটিকে মসজিদটির আয় ব্যয়ের যাবতীয় হিসাব বুঝিয়ে দিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর করার জন্য একাধিকবার চিঠি প্রেরণ করলেও নানা টাল বাহানা করে এখনও সেটি বাস্তবায়ন করা হয়নি।
 
মসজিদটির নিয়ন্ত্রন থেকে গেছে মৃত আব্দুর রহিম মাসুকের ভাতিজা স্থানীয় প্রভাবশালী আমিনুর ও দিলবার মিয়াদের গড়ে তোলা চক্রের হাতেই। বর্তমান মসজিদ কমিটি আমিনুর ও দিলবার মিয়ার পকেট কমিটি হিসেবে তাদের নির্দেশেই কাজ করে যাচ্ছে। ওয়াকফ প্রশাসনের তদন্তে জাল জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হয়ে ভূমিদাতা পরিবার হিসেবে আশাহিদ আলী আশার পরিবার স্বীকৃত হলেও মসজিদটির নাম নিয়ে জটিলতার এখনো নিরসন হয়নি।
 
আশাহিদ আলী আরো জানান, প্রায় শত বছর আগে  ইনাতগঞ্জ বাজারে আসা মুসল্লিয়ানদের নামাজ পড়ার জন্য ইনাতগঞ্জ বাজারে কোনো মসজিদ না থাকায় অনেকের নামাজই কাজা হয়ে যেত। আশাহীদের দাদা মরহুম ওহাব উল্লা মুসল্লিয়ানদের কথা চিন্তা করে প্রায় শত বছর আগে বাজারের ব্যবসায়ীদের সহযোগীতায় নিজের জমির উপর ইনাতগঞ্জ বাজার জামে মসজিদ নামে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। তার মৃত্যুর পর তার পুত্র মৃত ইব্রাহীম উল্লাহ ইনাতগঞ্জ বাজার জামে মসজিদের নামে ওই জমি
 
৩৩/৮৯ রেজিষ্টার দলিলে ওয়াকফ করে দেন। এর প্রায় ৭০ বছর পর একটি প্রভাবশালী কুচক্রী মহল ইনাতগঞ্জ বাজারে মসজিদের নাম ভাঙিয়ে আর্থিক বানিজ্য করার জন্য মসজিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু করে। ১৯৮৮ সালে এলাকার প্রভাবশালী মরহুম আব্দুর রহিম মাসুক (কারী) সহ গংরা অবৈধ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্থানীয় লন্ডন প্রবাসী আরজান আলীর কাছ থেকে অর্ধকোটি টাকার নিয়ে মসজিদের নাম পরিবর্তন করে ব্যক্তি সালেহা নামে মসজিদের নামকরণ করে সাইনবোর্ড বসিয়ে দেন। এ নিয়ে জমি দাতার পরিবারের সাথে ওই কুচক্রী মহলের একাধিকবার ঝগড়া বিবাদ হয়ে আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
২০০৯ মসজিদ নির্মাণের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হবে এই শর্তে শালিশের মাধ্যমে মামলা তুলে নেওয়া হলেও মামলা শেষ হওয়ার পরে আমিনুর ও দিলবার গং শর্ত লংঘন করে। 
২০১৮ সালে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় ইনাতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে এবং ২০২০ সালে পুনরায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে বিষয়টির সমাধান হয়। কিন্তু আমিনুর ও দিলবার গংরা সেই শালিস বিচার মানতে রাজি হননি। সংবাদ সম্মেলনে আশাহিদ আলী আশা মসজিদের ভুমিদাতা পরিবার হিসেবে উপযুক্ত সম্মান প্রাপ্তি, সালেহা জামে মসজিদ নাম বাদ দিয়ে পূর্বের ইনাতগঞ্জ জামে মসজিদ নাম করণ ও প্রশাসনের নিকট সঠিক নিয়মে কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবি জানান।
 

comment / reply_from