• Saturday, 10 December 2022
তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক: দুপাশ অবৈধভাবে দখলের হিড়িক

তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক: দুপাশ অবৈধভাবে দখলের হিড়িক

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের সড়ক ও জনপথ (সওজ) ও এলজিইডির জায়গা অবৈধভাবে দখলের হিড়িক চলছে। গরৎ ও এলজিইডির জায়গায় গড়ে উটেছে স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা। এছাড়াও রাস্তার দুপাশে ব্যক্তি উদ্যোগে সড়কের ¯েøপ ঘেঁষে খননকৃত প্রায় দুতাধিক পুকুর এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়তই সওজের জায়গায় অবৈধভাবে দখল করে নিবিগ্নে দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে বিপণি বিতান, বাসা বাড়ি, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ফলে সড়কে চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। অপরদিকে, পুকুর খননের নামে সড়কের পাশের মাটি কেটে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে অসাধুরা একশ্রেণির লোকেরা।


স্থানীয়রা জানান, এভাবে পুকুর খনন করার নামে রাস্তার দুপাশ থেকে মাটি সরিয়ে নিলে সড়ক হুমকির মুখে পড়বে। এভাবে মাটি সরিয়ে নিলে রাস্তা প্রশস্তকরণে সড়কের পাশে আবার মাটি দিতে গেলে সরকারকে ব্যয় করতে হবে অতিরিক্তি টাকা। কয়েকশ’ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি সরকারের বেহাত হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট দফতরের কারও যে মাথা ব্যথা নেই তা দেখলেই বোঝা যায়। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে বিশাল এই জায়গা একসময় সড়ক জনপথ বিভাগ ও এলজিইডির উদ্ধার করতে পড়তে হবে নানা রকম ভিড়ম্বনায়।


বাংলাদেশ সড়ক ও মহাসড়ক আইন অনুযায়ী, কোনো সড়ক বা মহাসড়কের ৩৩ ফুটের (১০ মিটার) মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। কিন্তু সে আইন যে মানা হচ্ছে না, তা তাহিরপুর সুনামগঞ্জ সড়কের দুপাশে নজর দিলেই বোঝা যায়। সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করায় তা সর্বসাধারণের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


পথচারিরা জানান, তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীতে নির্মাণাধীন ‘শাহ-আরেফিন অদ্বৈত মৈত্রী সেতু’র যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হলে বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার পলাশ বাজার থেকে যানজটের সৃষ্টি হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হবার আগে যদি রাস্তার দুপাশের এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করা হয় তাহলে পথচারিদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হবে।


স্থানীয় ভুক্তভোগী জনতা ও পরিবহন চালকরা অভিযোগ করে বলেন, তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর বাজার, বালিজুরী পয়েন্ট, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা বাজার, বাঘমারা পয়েন্ট, কারেন্টের বাজার, চালবন মোড়সহ বেশ কয়েকটি জনগুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধিগ্রহণকৃত ভূমির ওপর বহুতল ভবনসহ অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।


সড়কের পাশে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা প্রসঙ্গে বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার মোটর সাইকেল চালক আলমগীর হোসেন বলেন, সুনামগঞ্জ আব্দুজ জহুর সেতু থেকে তাহিরপুর উপজেলা পর্যন্ত সড়কের পাশের স্থাপনার কারণে আমাদের গাড়ি চালকদের বিভিন্ন সময় দূর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়। কারণ রাস্তার পাশে ঘর তৈরী করে রাস্তার উপর তারা গৃহস্তলির বিভিন্ন কাজ করে প্রায় সময়ই রাস্তা অনেকাংশ জায়গা দখল করে রাখে। ফলে আমাদের গাড়ি চালকদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়।


সিএনজি চালক সুজন মিয়া বলেন, রাস্তার দুপাশে স্থাপনা থাকার ফলে আমাদের গাড়ি চালকদের প্রায় সময়ই দূর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়। তাই যান চালকসহ যাত্রীদের সুবিধার্থে রাস্তার পাশের অবৈধ স্থাপনা গুলো উচ্ছেদ করে রাস্তা প্রশস্তকরণ করা হলে সড়ক দূর্ঘটনা অনেকটা কমে আসবে বলে মনে করি।
সুনামগঞ্জের এলজিইডি'র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম বলেন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা থেকে আনোয়ারপুর বাজার পর্যন্ত আমাদের জায়গা, এর ভিতরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য আমরা শীঘ্রই ব্যবস্থা নিবো।
সুনামগঞ্জের সড়ক জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান বলেন, সুনামগঞ্জে আমি নতুন এসেছি, যদি সড়ক জনপথের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা থাকে তাহলে এগুলো উচ্ছেদ করা হবে।

 

comment / reply_from