• Tuesday, 06 December 2022

কথায় কথায় যারা মৃত্যুর হোলি খেলেছে তাদের বিচার হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কথায় কথায় যারা মৃত্যুর হোলি খেলেছে তাদের বিচার হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘মুক্তিযোদ্ধাদের কারণে-অকারণে যারা হত্যা করেছে, তাদের বিচার বাংলার মাটিতে হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেছেন, ‘ক্যুর নাম করে হত্যা করেছে। কথায় কথায় মৃত্যুর হোলি খেলা করেছে সেসব ঘটনার বিচার হবে। এজন্য তদন্ত কমিটিও হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ন্যায়ের পক্ষে আছেন, তিনি যখন আছেন বিচার হবেই। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার শেখ হাসিনা করেছেন।’

আজ (৭ নভেম্বর) সোমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারবর্গ আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবসের প্রতিবাদসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে যে চার নেতা মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশ পরিচালনা করেছিলেন তাদেরও হত্যা করেছে তারা। ৭ নভেম্বর একটা বিপ্লবের নাম করে এই যে কতগুলো সন্তানের বাবাদের হত্যা করা হলো। তাদের ডেড বডি কোথায় ছিল, সেটিও তাদের পরিবার জানে না। আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি। তাদের মৃত্যুর পর ডেড বডি তাদের আত্মীয়-স্বজনের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। এটাও ওই বিপ্লবের সময় হত্যার স্বীকার হওয়া সন্তানদের ভাগ্যে জোটেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফের অধীনে ২ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছি ঢাকা জেলার পশ্চিমাংশে। আমাদের তখন মেলাঘর ক্যাম্পে কান্নার রোল পড়েছিল যে খালেদ মোশাররফ মারা গিয়েছেন। কিন্তু না, সেদিন তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ দেননি। প্রাণ দিলেন ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী যখন সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রেখে ঠিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে গেছেন, যখন তিনি ন্যায়বিচার-সুবিচার প্রতিষ্ঠিত করছেন, তখনই তার বিরুদ্ধে আবারও ষড়যন্ত্র চলছে। আমাদের বিচারপতির গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। যারা ক্যু করেছে, যারা আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে, শাহাদাত বরণ করতে বাধ্য করেছে, তাদেরও বিচার হবে ইনশা আল্লাহ।’

এ সময় সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে, ৭৭ সালের ২ অক্টোবর ক্যু ঘটিয়ে হত্যা করেছে। জিয়াউর রহমান কেন বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করল, ৭ নভেম্বরে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করল। কারণ জিয়া পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অনুপ্রবেশকারী। আমাদের ভেতরে থেকে পাকিস্তানের পক্ষ হয়ে কাজ করেছেন। জিয়া কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন, কোনো যুদ্ধের গৌরবগাঁথা পাওয়া যায়? যায় না।’

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ বীর উত্তমের কন্যা মাহজাবিন খালেদ, শহীদ কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদা বীর বিক্রমের কন্যা নাহিদ ইজাহার খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সার্জেন্ট সাঈদুর রহমানের সন্তান কামরুজ্জামান মিয়া লেলিন ও শহীদ সার্জেন্ট দেলোয়ার হোসেনের সন্তান নুরে আলম।

comment / reply_from